• আজঃ বৃহস্পতিবার, ১লা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং

হেদায়াত ছাড়া যোগ্যতা মূল্যহীন – আ.স.ম আল আমীন

পৃথিবী সৃষ্টির ইতিহাসে ইবলিস শয়তানের মত জ্ঞান, যোগ্যতা অন্য কাহারো ছিলনা, কিন্তু তার কপালে ছিলনা হেদায়াত। তার যোগ্যতা অনুযায়ী সম্মানের বিপরীতে পাচ্ছে অভিশাপ, এই জন্য হেদায়াত পাওয়া মহান রবের অশেষ দয়া ও অনুগ্রহ। কারন আল্লাহ তায়া’লা সবাইকে হেদায়াত দেন না।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, যারা আমার পথে সাধনায় আত্মনিয়োগ করবে, আমি তাদেরকে অবশ্যই আমার পথে হেদায়াতের পথে পরিচালিত করবো। ( সুরা আন কাবুত-৬৯) আল্লাহ তায়া’লা প্রত্যেক নফস কে বরাবর করে সৃষ্টি করেছেন, কেউ নিজেকে সৎ পথে নিয়ে চলেন আবার কেউ অসৎ পথে নিয়ে চলেন। আল্লাহ তায়া’লা ইরশাদ করেন, শপথ প্রাণের এবং যিনি তা সুবিন্যস্ত করেছেন,

অতঃপর তাকে তার অসৎকর্ম ও সৎকর্মের জ্ঞান দান করেছেন, যে নিজেকে শুদ্ধ করে, সেই সফলকাম হয়। এবং যে নিজেকে কলুষিত করে, সে ব্যর্থ মনোরথ হয়।(সুরা শামস – ৭-১০)

এসব আয়াত থেকে জানা যায় যে, যারা সৎ পথের সন্ধান লাভের চেষ্টা-সাধনা করবে, তাদেরকে সৎ পথের সন্ধান দেয়াই আল্লাহ তায়ালার নীতি এবং এ-ও জানা যায় যে, যে ব্যক্তি নিজেকে পবিত্র করতে চেষ্টা করে সে সফল হয়।

“তিনি যাকে চান বিপদগামী করেন এবং যাকে চান সঠিক ও সোজা পথে পরিচালিত করেন” – (সূরা আল আনয়াম ৩৯)

আল্লাহ চাইলে পৃথিবীর সবাইকে হেদায়াতের উপর ঐক্যবদ্ধ করে দিতে পারতেন। সবকিছুই আল্লাহর সিদ্ধান্তক্রমেই হয়ে থাকে। আল্লাহর সিদ্ধান্ত এই যে, যে চেষ্টা সাধনা করবে, তাকে তিনি সুপথ দেখাবেন,

আল্লাহ তায়া’লা মানুষ কে ভালো মন্দ নির্নয় করা সহ সব কিছুর সক্ষমতা দিয়েছেন, আল্লাহ তায়া’লা ইরশাদ করেছেন, আর এই যে, মানুষ যা চেষ্টা করে, তাই সে পায়।( সুরা আন নাজম -৩৯)

এই জন্য আল্লাহ তায়া’লার কাছে হেদায়েতের জন্য দোয়া করা এবং সাথে চেষ্টা করা।

আল্লাহ তায়া’লা ছাড়া কেউ হেদায়াত দিতে পারেনা, ইরশাদ হয়েছে, আপনি যাকে ভালোবাসেন, ইচ্ছা করলেই তাকে সৎ পথে আনতে পারবেন না। তবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সৎপথে আনেন এবং তিনিই ভালো জানেন সৎপথ অনুসরণকারীদের।’

(সুরা : কাসাস, আয়াত : ৫৬) হেদায়াত মানে হলো ইসলামের পথ, ইসলামের পথে অবিচল থাকার অর্থ হলো কোরআন হাদীসের আলোকে জীবন কে পরিচালনা করা, এর বাহিরে নিজের জ্ঞান যোগ্যতার আলোকে ভিন্ন পথ অবলম্বন করার দ্বারা আপনি হেদায়াতের পথ থেকে বাহির হয়ে গেছেন, যেমনটি ইবলিস শয়তান নিজের ইলমের কারনে আল্লাহ তায়া’লার নির্দেশ অমান্য করে ভিন্ন পথ অবলম্বন করে ছিলেন।

ইসলামের পথ ছাড়া নিজের খেয়াল খুশির পথে চলার কারনে আপনার জন্য আল্লাহর ক্রোধ থেকে রক্ষা করার মত কোন অবিভাবক ও কোন সাহায্যকারী থাকবে না। ইরশাদ হয়েছে, আর ইয়াহূদী ও নাসারারা কখনো তোমার প্রতি সন্তুষ্ট হবে না, যতক্ষণ না তুমি তাদের মিল্লাতের অনুসরণ কর। বল, ‘নিশ্চয় আল্লাহর হিদায়াতই হিদায়াত’ আর যদি তুমি তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ কর তোমার কাছে যে জ্ঞান এসেছে তার পর, তাহলে আল্লাহর বিপরীতে তোমার কোন অভিভাবক ও সাহায্যকারী থাকবে না।(সুরা বাকারা- ১২০)

 

লেখক, শিক্ষার্থী, মা’হাদুল ইকতিসাদ ওয়াল ফিকহীল ইসলামী, ঢাকা