• আজঃ মঙ্গলবার, ১২ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জুলাই, ২০২১ ইং

নেলপলিশ এবং একটি সত্য ঘটনা

আমি আমার বড় খালার বাসায় কয়েকদিনের জন্য বেড়াতে গিয়েছিলাম। আমার বড় খালা অনেক পরহেজগার। একদিন আমি হাতে পায়ে নেলপলিশ দিচ্ছিলাম তখন খালা আমাকে বললো, “তানু নেলপলিশ দিস না মা, নেলপলিশের কারণে ওযু হয় না আল্লাহ গুনাহ দিবেন। তাছাড়া ইহুদী-খ্রীষ্টানের পতিতালয়ের মেয়েদের বৈশিষ্ট হলো নখে নেলপলিশ দেওয়া। (বানীতে:আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ) আর জানিস নেলপলিশ দেয়া অবস্থায় কেউ মারা গেলে তার নেলপলিশ সহজে উঠে না।”

আমি বড় খালার কথাকে হেসে উড়িয়ে দিলাম। রিমুভার দিলে তো উঠে যাবে খালা খালি ভয় দেখায়! কয়দিন পরে খালার প্রতিবেশী এক মহিলা মারা গেলো রাত ১ টায়।
তো সবাই ভাবলো তাকে জোহরের সময় জানাজা পড়ায় মাটি দিবে। ততক্ষন তার লাশটা বরফের উপর রাখা হলো। পুরা ঘরে কান্না কাটির আওয়াজ।

যাইহোক, সকাল বেলা তাকে গোসল করাতে গিয়ে ইমাম সাহেবের বউ খেয়াল করলো তার হাতে পায়ে নেলপলিশ! ইমাম সাহেবের বউ আস্তে করে বের হয়ে তার স্বামী কে ইশারায় ডেকে কানে কানে বললো। ইমাম সাহেব তার সন্তান দের বললো, “আপনার আম্মা কে দাফন করা যাবে না তার প্রতিটা নখে নেলপলিশ। যতক্ষণ নেলপালিশ না উঠবে দাফন করা যাবে না। আপনারা নেলপালিশ উঠানোর ব্যবস্থা করুন। লাশের অনেক কষ্ট হচ্ছে!”

সবাই রিমুভার, কেরাসিন, ব্লেড দিয়ে চেঁছে দেখছে কোনো ভাবে নেলপলিশ কেউ উঠাতে পারে নায়! এশার ওয়াক্ত হয়ে গেছে লাস ফুলে খারাপ অবস্থা! চারদিক দিয়ে পোকা মাকড় গিজ গিজ করছে নতুন বরফ আনা হচ্ছে! সবাই ইমাম সাহেব কে বলছে কি করা যায়? এমনি দাফন দেই, লাশ আর রাখা যাবে না।

ইমাম সাহেব বললো উনাকে এই অবস্থায় দাফন দিলে উনার কঠিন আযাব হবে। তখন অনেক চিন্তার পরে তার নক কেটে উঠায় ফেলা লাগলো। এরপর তাকে মাটি দেওয়া হলো ফজরের পরে। প্রিয় বোনেরা, মৃত্যু কখনো বলে আসে না।

আমি যখন নিজের চোখে এইসব দেখেছি, দেখার পর থেকে আমি জীবনেও নেলপলিশ দেই না। আপনারা যারা নেলপলিশ দেন এখন থেকে বিরত থাকুন।
আপনার পরিচিত কাউকে যদি দিতে দেখেন তাকে মানা করুন। আসুন তাওবা করি। আর জীবনেও যেনো নেলপলিশ না দেই সেই ওয়াদা করি। কারণ মৃত্যু কখন আসে আমরা কেউই জানি না। যদি খুব ইচ্ছে হয় তাহলে মেহেদী নখে দিয়ে রাখুন। আল্লাহ আমাদের সকলকে ঈমানের সাথে মৃত্যু দিক, কারো যেন কষ্ট না হয়।
(আমীন)কালেক্টেড