• আজঃ মঙ্গলবার, ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৮ই মে, ২০২১ ইং

কি পরিণতি হয়েছিল টাইটানিক জাহাজ থেকে বেঁচে যাওয়া ছয়জন চীনা যাত্রীর

টাইটানিক থেকে বেঁচে যাওয়া চয় চীনা নাগরিকের তিন জন। (বাঁ থেকে) আ লাম, ফ্যাং ল্যাং এবং লিং হি

১৯১২ সালের ১৫ই এপ্রিল রাতে আটলান্টিক মহাসাগরে যখন টাইটানিক জাহাজটি ডুবে যায়, তখন কয়েক হাজার যাত্রীর জায়গা হয় সাগরের বরফ ঠাণ্ডা পানি।
ডুবন্ত জাহাজটির লাইফবোটগুলোর মধ্যে একটি পরে ফিরে এসে খোঁজার চেষ্টা করেছিল পানিতে কেউ তখনও বেঁচে আছে কিনা।

রাতের আঁধারে ঐ নৌকার উদ্ধারকারীরা এক চীনা যুবককে খুঁজে পেয়েছিল যে তখনও ডুবে যাওয়া টাইটানিকের একটি কাঠের দরজা ধরে ভাসছিল এবং প্রাণে বেঁচেছিল।

চীনা ঐ যুবকের নাম ছিল ফ্যাং ল্যাং। ১৯৯৭ সালের ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্র টাইটানিকে হিমশীতল পানিতে ভাসমান আধমরা ঐ যুবকের উদ্ধারের দৃশ্যটি ছিল।

কিন্তু শুধু ফ্যান ল্যাং নয়, টাইটানিক থেকে বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের মধ্যে সে ছাড়াও আরো পাঁচজন চীনা নাগরিক ছিলেন। অলৌকিকভাবে সেই রাতে প্রাণে বেঁচে গেলেওে দুর্ভাগ্য, দু:সময় পিছু ছাড়েনি ঐ ছয়জন চীনার।

টাইটানিক থেকে রক্ষা পাওয়া যাত্রীদের নিউ ইয়র্কের এলিস আইল্যান্ডের অভিবাসন অফিসে নিয়ে আসার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমেরিকা থেকে ঐ ছয়জন চীনাকে বহিষ্কার করা হয়।

কারণ সে সময় আমেরিকায় একটি আইন ছিল যে, কোনো চীনা নাগরিককে সেদেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না। টাইটানিকের ইতিহাস থেকে এই ছয়জন চীনা এতদিন উধাও ছিলেন।

তবে ঐ ট্রাজেডির ১০৯ বছর পর সম্প্রতি প্রাণে বাঁচা ঐ ছয়জন চীনাকে নিয়ে একটি তথ্যচিত্র তৈরি হয়েছে যেটি চীনে প্রদর্শিতও হয়েছে। ঐ তথ্যচিত্রে টাইটানিক ডোবার এবং ঐ ছয়জনের রক্ষা পাওয়ার পর্বই শুধু নয়, পরে তাদের ভাগ্যে কী হয়েছিল তাও জায়গা পেয়েছে। তখনকার আমেরিকায় অভিবাসী বিদ্বেষ, বর্ণ বিদ্বেষের চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে।