• আজঃ মঙ্গলবার, ১২ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জুলাই, ২০২১ ইং

ছাত্ররা চিরদিন ঢাল হিসাবে ব্যবহার হল – আমিনুল ইসলাম কাসেমী

চাচা আপনা জান বাঁচা  — আমিনুল ইসলাম কাসেমী ছাত্ররা চিরদিন ঢাল হিসাবে ব্যবহার হল । আর নেতারা তাদের শখ মেটাল । কেউ এমপি হয়ে , কেউবা মন্ত্রী । আবার বর্তমান সময়ে কেউবা রিফ্রেশমেন্টে চলে যান । এত্তগুলাে নিরীহ তালেবুল ইলম মারা গেল , সেদিকে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই । কোন মাথাব্যাথা নেই । মনে হয় না , দেশে কিছু হয়েছে । নেতার কথায় জীবন দিল । তার কথায় ময়দানে নেমে গেল । চার হাজারের উপরে কর্মি আহত হয়ে হসপিটালে । আবার কয়েকহাজার জেলখানায় বন্দী ।

এরকম একটা থমথমে অবস্থা । হেফাজতের কর্মিরা নিঘুম রাত কাটাচ্ছেন । এমনই এক মুহুর্তে যদি নেতাজী রিফ্রেশমেন্টে চলে যান , তাহলে এর থেকে দুঃখজনক আর কি হতে পারে ? আমি বেশ কিছুদিন আগে একটা নিবন্ধ লিখেছিলাম । অনেকে সেটা পড়েছিলেন । আমাদের দেশের নেতারা গা বাঁচানাের রাজনীতি করেন । মরবে সব কর্মিরা । আহত হবে- জেলখানায় যাবে সবই কর্মি , আর নেতা গা বাঁচিয়ে চলে যাবেন । এবার কিন্তু সেটা হাতে নাতে প্রমাণ হয়ে গেল ।

 

তবে এবার কাজটা তাে আরাে আপত্তিকর । একদম গরম গরম অবস্থায় নেতা দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে অবকাশ যাপনে চলে গেলেন । তাও আবার এমন জায়গায় , যেখানে আলেম – উলামার যাওয়াটা বে- মানান । দেখুন ! আমি একশত ভাগ বিস্বাস করি , সঙ্গীনী তার একশত ভাগ হালাল । এব্যাপারে প্রথমদিন আমি সন্দেহ করি নি । এখনাে করি না । আমার কথা হল , কর্মিদের গুলির নিচে ফেলে দিয়ে তিনি কেন অবকাশ যাপনে যাবেন ? তার কি ঘরবাড়ি নেই ? বা সেই স্ত্রীর কোন বাপের বাড়ী নেই ? সেখানে গিয়ে উঠলে মানুষের মনে এত সন্দেহের দানা বাঁধতাে না । কেউ কিছু বলার সাহস রাখতাে না । কিন্তু তিনি মানুষের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করে দিলেন । বিরােধীদের কথা বলার সুযােগ করে দিলেন ।

 

এটা কি ছেলে – খেলা নয় ? অনেকে বলেন , ভাই এগুলাে লেখার এখন দরকার নেই । তাহলে কবে লিখবেন ? ইতিপুর্বে লিখেছিলাম , নেতাজীর নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকা উচিত । তিনি একাকী না চলেন । কিন্তু তিনি একাকী ঘুরে বেড়াচ্ছেন । এবং সেই একাকী ঘুরতে গিয়েই অপমানিত হলেন । অথচ গতকাল রাত জেগে কর্মিরা পাহারা দিয়েছে । কেউ বলে ঘুমায়নি । কিন্তু এই রাত জাগাটা , এই পাহারাদারীটা আগে করার দরকার ছিল । চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখানাে হয়েছে । কিন্তু তখন এটাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি ।

 

বরং আমরা যারা এসব বিষয় নিয়ে লেখালিখি করি , আমাদের দুশমন মনে করা হয় । তবে এমন সময় বােধােদয় ঘটেছে , যখন আর মলম লাগানাের জায়গা নেই । আচ্ছা বলুন তাে , অপমানিত তিনি একা হয়েছেন নাকি পুরাে আলেম সমাজকে অপমানিত করেছেন ? তিনি নিজে প্রশ্নবিদ্ধ নাকি হেফাজতটা প্রশ্নবিদ্ধ ? তিনি অবশ্যই আলেম সমাজ এবং হেফাজতের মত মােবারক সংগঠনকে প্রশ্ন বিদ্ধ করেছেন । যার কারণে মানুষ ।

 

হেফাজতের প্রতি ভিন্ন দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে । যেখানে এক কুড়ি প্রাণ ঝরে গেল । হেফাজতের আন্দোলন থাকবে এখন তুঙ্গে । শহীদ ভাইদের ক্ষতিপুরণ আদায়ে আমরা থাকব সােচ্চার । বন্দীদের মুক্ত করার জন্য রাজপথ কঁপাব । সেখানে হেফাজতের অবস্থা , ” চাচা আপনা জান বাঁচা ” । হেফাজতের অস্তিত্ব সংকট দেখা দিয়েছে । নেতারা এখন ব্রিফিং দেয় , নেতাজীর বউ ১০০ ভাগ সঠিক , বােরকা নীলটা নয় , বােরকা হল কালা । এসব ব্রিফিং এখন নেতারা কেন দিবেন ? এখন কি ঐগুলাে ব্রিফিং দেওয়ার সময় ?

একজন ব্যক্তি নিয়ে সংগঠন নয় । কোন ব্যক্তি বিশেষের উপর ভর করে সংগঠন চলে না । সংগঠন নিজ গতিতে চলতে থাকবে । কারাে যদি নিজ বােকামীতে পদস্খলন হয় , তার জন্য তাে সংগঠন দায়ী নয় । মানে নেতাজীর খেয়ালখুশি , দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকান্ডে হেফাজত তার আসল উদ্দেশ্য থেকে ব্যাকফুটে চলে আসছে । এখন আর হেফাজতের কর্মসুচি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না । এখন শুধু নেতার ইমেজ রক্ষা করার চেষ্টা । আমি নেতাজীর অকল্যাণ চাই না । আশাকরি তিনি তার ভুলত্রুটিগুলাে শুধরিয়ে সামনে চলবেন । এই সব অনাকাংখিত ঘটনাবলী থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে চলবেন । যাতে ব্যক্তি নির্ভরশীল কেউ না হয়ে পড়ে । নেতৃত্ব সংকটের কথা আগে একবার লিখে ছিলাম । কিন্তু আমরা কেউ বিস্বাস করতে চাই না । নেতাজী এত্ত বড় ভুল করল , সেটাও কেউ মানতে চায় না । বরং এগুলাে লিখলে নেতার অন্ধ ভক্তরা তেড়ে আসেন । আর এমন বিচ্ছিরি ভাষা ব্যবহার করেন , যেটা বলে বােঝানাে যাবে না । আচ্ছা , ভুল যদি না ধরে দেন তাহলে কিন্তু আরাে বেপরােয়া উঠবে । মানুষকে আর মানুষ মনে করবেনা ।

 

আগে একদিন লিখেছিলাম , আত্মসমালােচনার পথ খােলা রাখুন । নিজের কি ভুলত্রুটি হচ্ছে , সেটা নিয়ে আলােচনা – পর্যালােচনা করার প্রয়ােজন রয়েছে । যারা শােধরানাের জন্য সমালােচনা করে , তাদের সাধুবাদ জানানাে চাই । নিজের মধ্যে ধৈর্যচ্যুতি যেন না ঘটে । নেতা হতে হলে মানুষের কথা অবশ্যই শুনতে হবে । সব কিছু শুনে সামনে বাড়তে হবে । এটাই নিয়ম । আল্লাহ আমাদের উপর রহম করুন । আমিন ।

k . M mukarram  এর টাইমলাইন থেকে