• আজঃ সোমবার, ২৪শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৮ই আগস্ট, ২০২২ ইং

‘তৃণমূল থেকে সরকারের উচ্চ পর্যায় পর্যন্ত দুর্নীতিতে বিপর্যস্ত’

দুর্নীতি দমন কমিশন নখদন্তহীন বাঘ নয় বলে মন্তব্য করে সংস্থাটির চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, দেশের মাঠ পর্যায় থেকে শুরু করে সরকারের উচ্চ পর্যায় পর্যন্ত দুর্নীতি বিদ্যমান, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে একশ্রেণীর মানুষ আছেন বিশেষ করে দুই একটি এনজিও যাদের কাজই সরকারের সমলোচনা করা। তারা আর কোনো কাজ করেন না। কিন্তু দুদক দুর্নীতির বিরুদ্ধে মাঠ পর্যায় থেকে শুরু করে সব জায়গায় কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি জানান, শুধু মাত্র ২০১৯ সালে দুদকে মোট অভিযোগ আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে ২১ হাজার ৩৭১টি, অনুসন্ধানের জন্য নেয়া হয় ১,৭১০টি। একই বছরে মোট মামলা হয়েছে ২৬৩টি আট চার্জশিট হয়েছে ২৬৭টি। এসব অপরাধের মধ্যে সাজা হয়েছে প্রায় ৬৩ শতাংশ দাবি করে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পুলিশ ক্যাডার থেকে নিয়োগে রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ গেলে দুর্নীতি অর্ধেক কমে যাবে। এক্ষেত্রে তিনি, সরকারি চাকরির সকল পদোন্নতিতে পরীক্ষা চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করেন তিনি।

সোমবার সংস্থাটির ২০১৯ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় দুদক চেয়ারম্যান বলেন, কালো টাকা সাদার নামে ঘুষের টাকা বৈধকরণ গ্রহনযোগ্য নয়।

এসময় তিনি বলেন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে দুদক বহুমাত্রিক কৌশল প্রয়োগ করে থাকে। কৌশলের অংশ হিসেবে কমিশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য সংগ্রহ করা৷ কারণ এই তথ্যের উপর ভিত্তি করেই কমিশন অনুসন্ধান কার্যক্রমের সিদ্ধান্ত নেয়। সাধারণ জনগণ, সংবাদ মাধ্যমেই তথ্যের অন্যতম উৎস এসবের পাশাপাশি কমিশন গোয়েন্দা ইউনিটের মাধ্যমেও দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ করছে এবল তা থেকে প্রাপ্ত অভিযোগগুলোর অনুসন্ধানও করা হচ্ছে। দুদক আইন অনুযায়ী দুর্নীতি সম্পর্কিত কো অভিযোগ স্ব-উদ্যোগে বা দুর্নীতির শিকার ব্যাক্তি বা তার পক্ষে কোনো ব্যাক্তি কর্তৃক দাখিলকৃত আবেদনের ভিত্তিতে দুদক আইনের তফসিলে বর্ণিত অপরাধগুলোর অনুসন্ধান ও তদন্ত পরিচালনা করা কমিশনের আইনি দায়িত্ব। চেয়ারম্যান বলেন, কমিশনের সমালোচনা যেমন রয়েছে তেমনি তার উপর আস্থাও রয়েছে। সব সমালোচনা সামলে নিয়েই দুদক নিজের দায়িত্ব পালন করছে। যা দেশের জন্য কল্যাণকর।

চেয়ারম্যান বলেন, এটি হয়তো আমাদের মেয়াদকালে সাংবাদিকদের সাথে শেষ মতবিনিময়। আমরা চেষ্টা করেছি দুর্নীতির বিরুদ্ধে সব চাপ সহ্য করে কাজ করে যাওয়ার। ভবিষ্যতেও যে বা যারা দায়িত্বে আসবেন তারাও হয়তো একই কাজ করবেন।

এসময় তিনি ব্যাসিক ব্যাংক দুর্নীতির চার্জশীট প্রসঙ্গে বলেন, আমাদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে তা ঠিক কিন্তু অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। আপনারা দেখেছেন পি কে হালদার ইস্যুতে টাকা কোথায় গেছে তা নিয়ে এখনো অনুসন্ধান চলছে। এবং শেষ পর্যন্ত তা চলবে।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন দুদক কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক এবং এ এফ এম আমিনুল ইসলাম।

দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।