• আজঃ বুধবার, ১লা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৪ই এপ্রিল, ২০২১ ইং

শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় বাদল রায়কে শেষ বিদায়

গভীর শোক, শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় শেষ বিদায় জানানো হয়েছে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত সাবেক ফুটবলার বাদল রায়কে। আশির দশকে ফুটবল মাঠ দাপিয়ে বেড়ানো মোহামেডানের সাবেক তারকা গতকাল রাজধানীর ধানমন্ডি বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

লিভার ক্যান্সারের সঙ্গে পেরে ওঠেননি বাদল। সোমবার সকালে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে তার মরদেহ নেওয়া হয় মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ভবনে। জীবনের অনেক স্মৃতি জড়ানো এই ক্লাবে তাকে নেওয়া হলে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সেখান থেকে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে তাকে নেওয়া হয়। সেখানে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের পরিচালকরা ও ঢাকা দক্ষিণের মেয়র ফজলে নূর তাপস শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম থেকে বাদলের মরদেহ নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। এরপর সবুজবাগের শশ্মানঘাটে।  গত ৫ নভেম্বর গুরুতর অসুস্থ বাদলকে আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে ছয় দিন পর নেওয়া হয় স্কয়ার হাসপাতালে। সেখানেই লিভার ক্যান্সার ধরা পড়ে দেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই সাবেক তারকার। ক্যান্সার চতুর্থ পর্যায়ে থাকায় তিনি ছিলেন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। রোববার তাকে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরের দিন সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

এর আগে ২০১৭ সালে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয় মোহামেডানের সাবেক অধিনায়কের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে নেওয়া হয় সিঙ্গাপুরে। দীর্ঘ চিকিৎসার পর সেরে উঠলেও মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ ছাপ ফেলে যায় শরীরে। মহামারি করোনায় আক্রান্ত হন আগস্টে।  খেলা থেকে অবসর নেওয়ার পর সংগঠক হিসেবে দেশের ফুটবল উন্নয়নে অবদান রেখেছেন বাদল। রাষ্ট্রীয় পুরস্কার পাওয়া সাবেক তারকা ফুটবলার ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহ সভাপতি।

আশির দশকের অন্যতম সেরা তারকা ফুটবলার বাদল। জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন বহুদিন। ১৯৮২ সালে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে তার গোলেই মালয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রথম জয় পায় বাংলাদেশ। ক্যারিয়ারের প্রায় পুরোটা সময় মোহামেডানের হয়ে খেলা সাবেক এই তারকা ফুটবলার ১৯৯০ সালে অবসরে যান।

অবসরের পর রাজনীতিতে নাম লেখান বাদল। ব্যবসায়ী হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি। ৯০’র দশকে বেশ কয়েকবার তিনি মোহামেডানের ম্যানেজারের দায়িত্বও পালন করেছেন। রাজনীতির মাঠেও সক্রিয় ছিলেন। জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত এই সাবেক ফুটবলার ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করেছিলেন। যদিও হেরে গিয়েছিলেন।