• আজঃ শুক্রবার, ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৭শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

ব্রাজিলে শুরু হয়েছে বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভ

ব্রাজিলে শ্বেতাঙ্গ দুই নিরাপত্তারক্ষীর হাতে এক কৃষ্ণাঙ্গের নৃশংস মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। গত বৃহস্পতিবার একটি সুপারমার্কেটের বাইরে এ ঘটনার পর শুক্রবার দেশটিতে বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ওই ঘটনার ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, পোর্তো অ্যালেগ্রিতে ক্যারফুর স্টোরের নিরাপত্তারক্ষীরা জোয়াও অ্যালবার্টো সিলভেইরা ফ্রেইটাসের (৪০) মুখে একাধিকবার ঘুষি মেরেছেন। নিরাপত্তারক্ষীদের আটক করা হয়েছে। ফ্রান্সের সুপারমার্কেট গ্রুপ ক্যারফুরের ব্রাজিল শাখা বলেছে, যে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মী সরবরাহ করে, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে তারা।

ব্রাজিলে বর্ণবাদের ইতিহাস অনেক পুরোনো। ব্রাজিলে ১৮৮৮ সালে দাসপ্রথা বিলুপ্ত হয়। তবে দেশটির প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো সেখানে বর্ণবাদের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেন।
অধিকারকর্মীরা বলেন, দেশটিতে বর্ণবাদের ধারণা ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে।

দেশটির দক্ষিণের শহর পোর্তো অ্যালিগ্রিতে বৃহস্পতিবার রাতের ওই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমসহ স্থানীয় গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিক্ষোভ শুরু হয়।

ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, পেশায় ঢালাইকর (ওয়েল্ডার) সিলভেইরাকে এক নিরাপত্তারক্ষী ধরে রেখেছেন। আরেক নিরাপত্তাকর্মী তাঁর মুখ ও মাথায় ঘুষি মারছেন। এ সময় ওই সুপারমার্কেটের একজন কর্মী তা মোবাইলে ভিডিও করছেন।

প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, সুপারমার্কেটের এক নারী কর্মীকে কোনো এক ব্যক্তি হুমকি দিলে নিরাপত্তারক্ষীদের ডাকা হয়। শুক্রবার সকালে বিক্ষোভকারীরা পোর্তো অ্যালিগ্রির ক্যারফুর স্টোরের সামনে জড়ো হন।

তাঁরা বর্ণবাদবিরোধী নানা ধরনের প্ল্যাকার্ড বহন করেন। দেশটির অন্য শহরেও বিক্ষোভ ছড়িয়েছে
গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে জর্জ ফ্লয়েডের হত্যার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ আন্দোলন শুরু হয়। ব্রাজিলের অনেকেই এ ঘটনাকে জর্জ ফ্লয়েডের ওই ঘটনার সঙ্গে তুলনা করছেন।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ব্রাজিলে ছয় গুণ বেশি মানুষ পুলিশের হাতে নিহত হয়েছেন, যাঁদের অধিকাংশই কৃষ্ণাঙ্গ। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহার করে বৃহস্পতিবারের ওই ঘটনায় নিন্দা প্রকাশ করেছেন।