• আজঃ শুক্রবার, ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৭শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

বিতর্কিত বিষয় নিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা সাকিবের

বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান জানিয়েছেন, তিনি ভক্তের ফোন ইচ্ছা করে ভাঙেননি। সেটা তার হাতে লেগে পড়ে গিয়ে ভেঙে থাকতে পারে।এছাড়া কলকাতায় তিনি কালীপূজার উদ্বোধন করেননি। গিয়েছিলেন আমন্ত্রণ পেয়ে। এমনকি অনুষ্ঠানটি পূজা মণ্ডপেও হয়নি। সোমবার নিজের ফেসবুক পেজে বিষয়টি পরিষ্কার করেন সাকিব। ভক্তদের অনুরোধ করেন, তাকে ভুল না বুঝতে।

সাকিব বলেন, ‘দুটো বিষয় পরিষ্কার করার জন্য এই ভিডিও। প্রথমটি ফোন ভাঙা নিয়ে। যার ফোন ভাঙা নিয়ে কথা হচ্ছে, তার ফোনটি আমি কখনই ভাঙিনি। করোনার মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার চেষ্টা করছিলাম। স্বাভাবিকভাবে একজন ভক্ত শরীরের ওপর এসে ছবি তুলতে যান। আমি হাত দিতে সরিয়ে দিতে গেলে ফোনটা পড়ে যায়। ভেঙেও গিয়ে থাকতে পারে। এজন্য আমি দুঃখিত। আর তারও সতর্ক থাকতে হতো। করোনার সময় আমাদের সকলেরই সতর্ক থাকা উচিত।’

এরপর সাকিব বলেন, ‘দ্বিতীয় বিষয়টি খুবই সংবেদনশীল। আমি নিজেকে একজন গর্বিত মুসলিম মনে করি। সেটা পালন করারও চেষ্টা করি। তবে ভুল-ত্রুটি নিয়েই আমরা জীবনে চলাচল করি। ভুল-ক্রুটি হবেই। আমার কোন ভুল হয়ে থাকলে অবশ্যই আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি। কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে সেজন্য আমি ক্ষমা চাচ্ছি।

সামাজিক মাধ্যম ও সংবাদ মাধ্যমে এসেছে, আমি পূজার উদ্বোধন করেছি। যেটার জন্য আমি আসলে কলকাতা যাইনি, পূজার উদ্বোধনও করিনি। আমন্ত্রণপত্র দেখলে এটার প্রমাণ আপনারা অবশ্যই পাবেন। পূজার উদ্বোধক ছিলেন ফিরহাদ হাকিম। তিনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রীর কলকাতা পৌরসভার প্রশাসনিক প্রধান। আমি ওই অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগেই তিনি পূজার উদ্বোধন করে গেছেন।’

পূজা মণ্ডপের সামনে সাকিবের সঙ্গে কেউ কেউ ছবি তুলেছেন। যেগুলো সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এছাড়া প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের বিষয়টি অনেকে পূজার উদ্বোধন মনে করেছেন। বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়ে বিশ্বের ওয়ানডে সেরা অলরাউন্ডার বলেছেন, ‘অনুষ্ঠান যেখানে হয়েছে পাশেই পূজামণ্ডপ। ফিরে আসার জন্য গাড়িতে ওঠার সময় পূজা মণ্ডপটি পার হয়ে যেতে হতো। যে পরশদার আমন্ত্রণে অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম, তার অনুরোধে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করি।

এছাড়া অনেকদিন যেহেতু কলকাতায় (আইপিএলে) খেলেছি। ওখানে অনেক পরিচিত আছেন। তাদের অনুরোধে পরশদার সঙ্গে সেলফি তুলেছি। অনুষ্ঠানে ধর্ম-বর্ণ নিয়ে কোন কথা হয়নি। অনুষ্ঠানের আয়োজনও তেমন ছিল না। দুই মিনিট মতো পূজা মণ্ডপে ছিলাম। সেজন্য সবাই মনে করছেন, আমি পূজার উদ্বোধন করেছি। যেটি আমি করিনি, সচেতন মুসুলমান হিসেবে করবও না।

হয়তো ওখানে যাওয়াটাই আমার ঠিক হয়নি। যদি সেটা আপনারা মনে করে থাকেন, অবশ্যই আমি এজন্য দুঃখিত। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না হয় আমি সেই চেষ্টা করবো।’ সাকিব জানিয়েছেন, অনেকে তাকে অনেক পরামর্শ দিয়েছেন। ভালো পরামর্শগুলো তিনি অবশ্যই নেবেন। তবে অনেকে তার নামের সঙ্গে শ্রী শ্রী যুক্ত করছেন, সিঁদুর, মন্দির-প্রদীপ অনেক কিছু দিয়ে ট্রোল করছেন। এভাবে ধর্মকে উপরে তোলা হচ্ছে, না নিচে নামানো হচ্ছে তা তার জানা নেই বলে উল্লেখ করেছেন সাকিব।