• আজঃ শুক্রবার, ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৭শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

আমন ধান চাষে প্রতি একরে কৃষকের নিট লাভ ২০ হাজার টাকা

বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে শেরপুরে আবাদ করা আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। বাজারে ধানের ভালো দাম পাওয়ায় দারুণ খুশি কৃষকরা। এবার রোপা আমনে অ্যারাইজ এজেড ৭০০৬ হাইব্রীড ধান আবাদ করে অন্য জাতের তুলনায় একর প্রতি প্রায় ২০ হাজার টাকা নিট লাভ পেয়েছেন কৃষকরা।

শেরপুরে নকলা উপজেলার চরবসন্তি গ্রামে সোমবার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে অ্যারাইজ এজেড ৭০০৬ হাইব্রীড ধান কাটার একটি মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়। এসময় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও কৃষি কর্মকর্তা এবং স্থানীয় কৃষকদের উপস্থিতিতে কৃষক নজরুল ইসলামের (৫২) আড়াই একর জমির ধান কেটে ১৪ শতাংশ আদ্রতায় শুকনা অবস্থায় গড় ফলন পাওয়া যায় একর প্রতি ৬৮ মণ। অথচ আমন মৌসুমে অন্যান্য হাইব্রীড জাতের ধানের সর্বোচ্চ গড় ফলন ৪৫ থেকে ৫০ মণ পাওয়া যায়। বাজারে বর্তমানে আমান ধান বিক্রী হচ্ছে প্রতিমণ ১ হাজার ১০০ টাকা থেকে ১ হাজার ১৫০ টাকা দরে। সেই হিসেবে অন্যান্য জাতের তুলনায় কৃষকরা অ্যারাইজ এজেড ৭০০৬ হাইব্রীড ধান আবাদ করে এ মৌসুমে একর প্রতি অতিরিক্ত নিট লাভ থাকছে ২০ হাজার টাকা।

কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, গত বছর আমি এক একর জমিতে অ্যারাইজ এজেড ৭০০৬ হাইব্রীড ধান আবাদ করে ভালো ফলন পেয়েছি। তাই এবার আমি আড়াই একরে এই ধান লাগাইছিলাম। ধানের জাতটা খুব বালা। ফলন বালা অইছে, বাজারে ধানের দামও বালা। আমি খুব খুশি।

অ্যারাইজ এজেড ৭০০৬ হাইব্রীড ধান বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান বায়ার ক্রপ সাইন্স-এর বিজনেস ডেভেলপমেন্ট কর্মকর্তা (সাউথ রিজিয়ন) কৃষিবিদ চন্দন কুমার মিত্র জানান, অ্যারাইজ এজেড ৭০০৬ আমন মৌসুমে সর্বোচ্চ ফলনশীল হাইব্রীড ধান।একরে ৫৫-৬৫ মণ ধান পাওয়া যায়। হাইব্রীড জাতের ধানের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো বিএলবি বাবা পাতাপোড়া রোগ। কিন্তু অ্যারাইজ এজেড ৭০০৬ হাইব্রীড ধানের বড় বৈশিষ্ট্য হলো পাতাপোড়া রোগ প্রতিরোধী। তাছাড়া এর চাল মধ্যম চিকন, ধান ঝরে পড়ে না। ধানের চারা রোপনের ১০ দিন পর আকস্মিক বন্যায় ডুবে গেলেও ২ সপ্তাহ পর্যন্ত ফসলের ক্ষতি হয় না। আমনে জীবনকাল ১২৫-১৩০ দিন। জীবনকাল স্বল্প বিধায় ধান কেটে আগাম রবিশস্য সহজেই আবাদ করা যায়। এটি বিশ্বের প্রথম আকস্মিক বন্যা সহনশীল হাইব্রীড ধান। তিনি বলেন, এবার কৃষকরা এজেড ৭০০৬ হাইব্রীড ধান আবাদ করে অন্য জাতের তুলনায় একর প্রতি প্রায় ২০ হাজার টাকা অতিরিক্ত নিট লাভ পাচ্ছেন।

নকলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ পরেশ চন্দ্র দাস জানান, কৃষকরা স্বল্পজীবনকালের আগাম জাতের এ আমন ধান কেটে ওই জমিতে সরিষা কিংবা অন্যান্য রবিশস্য আবাদ করতে পারায় এই জাতের ধানের আবাদ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। নকলা উপজেলায় এ বছর রোপা আমনে ১ হাজার ৮৭০ হেক্টর জমিতে হাইব্রীড ধানের আবাদ হয়েছে। তন্মধ্যে অ্যারাইজ এজেড ৭০০৬ জাতের ধান আবাদ হয়েছে ২২৫ হেক্টর জমিতে।

মাঠ দিবসে নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদুর রহমান-এর সভাপতিত্বে অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন প্রধান অতিথি উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ মো. বুরহান, বিশেষ অতিথি উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম জিন্নাহ, ভাইস চেয়ারম্যান সারোয়ার আলম তালুকদার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পরেশ চন্দ্র দাস, কৃষক নজরুল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন।