• আজঃ শুক্রবার, ২৮শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১২ই আগস্ট, ২০২২ ইং

কোরআন অবমাননা নয়, গুজব ছড়াতেই জুয়েলকে হত্যা

কোরআন অবমাননা নয় বরং উন্মাদনা সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই চিহ্নিত গোষ্ঠি গুজব রটিয়ে পরিকল্পিতভাবে লালমনিরহাটে জুয়েলকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনে এমন তথ্যই মিলছে। তবে তদন্ত শেষে সব কিছুই স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

লালমনিরহাটের বুড়িমারীতে কোরআন অবমাননার গুজব তুলে গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রংপুরের মানসিক ভারসাম্যহীন শহীদুন্নবী জুয়েলকে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আটকে রাখা হয়। পরে সেখান থেকে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে বের করে এনে প্রথমে পিটিয়ে হত্যা ও পরে মরদেহ পুড়িয়ে দেয়। প্রশাসনের দাবি, তারা স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি চিহ্নিত একটি উদ্রবাদী গোষ্ঠির লোক।

বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ নেওয়াজ নিশাত বলেন, ‘এক পর্যায়ে আমাদেরকেও নাস্তিক বলেছে। আমরা যখন সামাল দিচ্ছিলাম যে পুলিশ হেফাজতেই দিবো এরমধ্যে আমাদের দিকে ইট-পাটকেল-বালু ছুঁড়ে মারে।’

লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, ‘এখানে যে কোরআন অবমাননার কথা বলে হচ্ছে এটা সম্পূর্ণ গুজব। এ ধরনের ঘটনা সেখানে ঘটেনি। একটা পক্ষ এ ঘটনাকে পুঁজি করে একট সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করেছে।’এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ও ফেইসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিও দেখে চিহ্নিত ১১৪ জনকে আসামি করে আলাদা তিনটি মামলা হয়েছে। যাদের অনেকেরই নাম আছে বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য হিসেবে। এদের কেউ কেউ ২০১৩-১৪ সালে পেট্রোল বোমা ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে নাশকতা চালানোর মামলার আসামি। এদিকে, এ ঘটনায় মসজিদের খাদেম জোবেদ আলিসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়ায় বিষয়টি স্পষ্ট করছেন না সংশ্লিষ্টরা। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পরিচালক আল মাহমুদ ফাউজুল কবির বলেন, ‘তার পা কোন অবস্থাতেই কোরআন শরীফে লাগেনি। কোরআনের অবমাননাও হয়নি। সবার সাক্ষ্যগ্রহণের পর আমরা বুঝতে পারবো যে প্রকৃত অবস্থাটা আসলে কি ছিলো।’

লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা জানান, ‘বিশৃঙ্খলা সৃষ্ট করা, সহিংসতা ছড়িয়ে দেয়া এবং ব্যাপক একটি অরাজকতা সৃষ্টি করাই মূলত উদ্দেশ্য ছিলো। আরেকটু সময়সাপেক্ষ বিষয়টিকে পুরোপুরি সামনে নিয়ে আসার জন্য।’

গত ২৯ অক্টোবর বিকেলে বন্ধু সুলতান যুবায়ের আব্বাসসহ নিহত জুয়েল ওষুধ নিতে এসেছিলেন বুড়িমারীতে। সেখানে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে আসরের নামাজের পর জুয়েল বাদানুবাদে জড়ান। তারই খেসারত হিসেবে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তিনি। আর মারধরের শিকার হয়ে সুলতান এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।