• আজঃ শুক্রবার, ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৭শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

সিঙ্গাপুরে দেড় লক্ষ টাকা বেতনে চাকরি করা প্রবাসী দেশে ঘুষের জন্য চাকরি হয় না

করোনাভাইরাসের কারনে অনেক বাংলাদেশী ভাই দেশে গিয়ে আটকে গেছেন৷ তারা কর্মক্ষেত্রে ফিরতে মরিয়া৷ আমি অনেককে বলেছিলাম আপাতত দেশে কিছু করুন৷ সবকিছু স্বাভাবিক হলে আবার সিঙ্গাপুরে ফিরে আসবেন৷

অনেকেই দেশে কিছু না কিছু করছেন আবার অনেকেই দেশে চাকরির ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে হয়েছেনে হেনেস্তার শিকার। তার কারন প্রবাসীরা কেউ ঘুষ দিয়ে চাকরি নিতে রাজি নয়৷ আসুন ইনবক্সে এক প্রবাসী ভাইয়ের চাকরির ইন্টারভিউয়ের অভিজ্ঞতার কথা শুনি,

আসসালামুআলাইকুম ভাই।
ভাই আপনার একটা পোস্ট দেখেছিলাম অনেকদিন আগে যে বাংলাদেশে যারা সিঙ্গাপুর প্রবাসী আছে তারা বাংলাদেশের এয়ারপোর্টের টার্মিনাল ৩ কন্সট্রাকশন সাইটে কেনো চেষ্টা করছে না জয়েন করার জন্য। এবং যারা বাংলাদেশ থেকে জয়েন করতে পারছেন না এটা তাদের ব্যর্থতা।

ভাই এখন তাহলে বলি আমি অনেক কষ্ট করে একজন কোরিয়ানের নাম্বার জোগাড় করেছিলাম জোগাড় করার পর আমি উনার সাথে যোগাযোগ করে ইন্টারভিউ দিতে গিয়েছিলাম। আমি ইন্টারভিউতে যাওয়ার আগে শুনেছিলাম যে আমাদের দেশী ভাইয়েরা ল্যান্ড সার্ভেয়ার নিয়োগ দিচ্ছে সাত লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়ে। যাই হোক আমি অনেক কষ্ট করে আর কি ম্যানেজ করে ইন্টারভিউ তে গিয়েছিলাম।

তো ইন্টারভিউয়ের সময় কোরিয়ান ছিল একজন আর একজন বাঙালি ছিল তো কোরিয়ান আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল আমি সিঙ্গাপুরে কত বছর ল্যান্ড সার্ভেয়ার কাজ করেছিলাম এবং আমি লাস্ট কত টাকা সেলারি পেয়েছিলাম, আমি কি কি কাজ পারি এবং কি কি প্রজেক্টে কাজ করেছি আর তার নাম্বারটা কি করে পেলাম তো আমি এই আনসার গুলো দেওয়ার পরে সে বলল হ্যাঁ ঠিক আছে ইংলিশে বলেছিল তো বলার পরে বাঙালি কে জিজ্ঞেস করেছিল “তুমি কিছু জিজ্ঞেস করবে”?

শুরু হলো আমাদের দেশী ভাইয়ের হ্যারেজমেন্ট করা আমাকে। সে আমাকে জিজ্ঞেস করল সব সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর কোশ্চেন করলো যেগুলো সব সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর কাজ। তারপর আমি চেষ্টা করেছি যতটুকু পারি আনসার দেওয়ার জন্য এবং তাকে বললাম ভাই এগুলো তো আমার কাজ নয় এগুলোতো সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের কাজ আমিতো ল্যান্ড সার্ভেয়ার তো উনি আমাকে বলল এগুলো ল্যান্ড সার্ভেয়ার করে।

আমাদের দেশী ভাই যতগুলো প্রশ্ন আমাকে করেছে এবং আমি যতটুকু আনসার দিয়েছি সে আমাকে বলে এগুলো সব ভুল এবং সে আমাকে কোরিয়ান এর সামনে সেগুলো শেখানো শুরু করে দিয়েছে। সে এমন একটা ভাব ধরলো যে সে বিশ্বের সবচাইতে বড় ইঞ্জিনিয়ার হয়ে গিয়েছে। অবশেষে কিছু ল্যান্ড সার্ভেয়ার কাজের ব্যাপারে কোশ্চেন করলো আমি অ্যানসার দেওয়ার পরে সে আমাকে বলে এগুলো ভুল তারপর আমি বললাম ভাই আমি যার কাছ থেকে কাজগুলো শিখেছি সে হচ্ছে সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির টিচার আর আপনি বলছেন সে আমকে ভুল শিখিয়েছে।

সে বলল হ্যাঁ এগুলো ভুল তো আমি আর কোন উত্তর এবং তর্কে না জড়িয়ে আমি বললাম ঠিক আছে আপনি সঠিক তারপর আর কি চলে আসলাম চাকরিটা আর হলোনা।

এই হলো আমাদের দেশী ভাইদের কাজ তারা বাংলাদেশে বসে এভাবেই মানুষের ক্ষতি করছে অথচ টার্মিনাল থ্রি তে অনেক ইন্ডিয়ান কাজ করছে যে আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না।

ভাই আমি সিঙ্গাপুরে টার্মিনাল ফাইভে কাজ করেছি ল্যান্ড সার্ভেয়ার হিসেবে । Ssangyong হ্যুন্দাই ল্যান্ড সার্ভেয়ার হিসেবে কাজ করেছি।সিঙ্গাপুরের যত জায়গায় ইন্টারভিউ দিতে গিয়েছি আমাকে কখনোই এমন প্রশ্ন করে নাই । তারা সবসময় প্রশ্ন করেছে আমার কাজ সম্পর্কে, কত টাকা সেলারি চাই, কত টাকা সেলারি পাই বর্তমান কোম্পানিতে, কবে জয়েন করতে পারব কিন্তু বাংলাদেশে যে প্রশ্নগুলো করেছে সেগুলো স্বপ্নেও দেখি নাই কোন ইন্টারভিউ তে।

( ইনবক্স থেকে)