• আজঃ মঙ্গলবার, ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৯শে নভেম্বর, ২০২২ ইং

এমপির বিরুদ্ধে মিথ্যাচার প্রতিবাদের মুখে পালিয়ে রক্ষা পেয়েছেন আসাদ

জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে বর্তমান করোনা কালেও চলছে নিজ দলের ভিতরে দ্বন্দ্ব বিবাদ সৃষ্টি করতে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদের মিথ্যাচার। কোন কারণ ছাড়াই জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সভা সমাবেশ করার নামে বর্তমান জনপ্রিয় এমপিদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করাই যেন আসাদের নৃত্য সঙ্গী হয়ে পড়েছে।

কখনো এমপিদের রাজাকারের ছেলে বলে আখ্যায়িত দিচ্ছে কখনো জনপ্রিয়তা শুন্য এমপি বানাচ্ছে জেলা আওয়ামী লীগের পদ হারানো সাবেক এই সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ। আর এইসব মিথ্যা অপপ্রচার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন না পাওয়ার পর থেকে একযোগে শুরু হয়েছে। যা বর্তমান করোনা ভাইরাস দুঃসময়ের মধ্যেও অব্যাহত রেখেছে মিথ্যা অপপ্রচার।

সম্প্রতি, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তানোরে দুই ভাগে দুইগ্রুপ আলাদা করে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করে। এতে করে মহামারি করোনা দুঃসময়ে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী হওয়ায় লোক সমাগম না করে নিজ নিজ ইউনিয়নে ছোট করে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করতে উপজেলা আওয়ামী লীগ কে নির্দেশ দেন রাজশাহী-১আসনের জনপ্রিয় এমপি সাবেক জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক শিল্পী প্রতিমন্ত্রী ওমর ফারুক চৌধুরী।

অন্যদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাথে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন না করে এমপিকে হেয়প্রতিপন্য করতে উপজেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কারকৃত সভাপতি মেয়র গোলাম রাব্বানী ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন আলাদা প্রোগ্রাম করেন উপজেলা অডিটোরিয়াম হলরুমে। আর অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা হিসেবে নিয়ে আসেন আসাদুজ্জামান আসাদকে।

সেই প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠানে এসে আসাদুজ্জামান আসাদ, এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী কে ইঙ্গিত দিয়ে বক্তব্যে বলেন, এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী একজন রাজাকারের সন্তান, মাদকের গডফাদার বর্তমানে তার কোন জনপ্রিয়তা নেই। আগামীতে সে আর মনোনয়ন পাবেননা বলে এমপির বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হয়েছিল।

যা তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী সমর্থকরা মেনে নিতে না পেরে আসাদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কাছে সাংগঠনিক শাস্তির দাবি জানিয়ে প্রতিবাদ মুখর হয়ে উঠেছিল রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী সমর্থকরা। আসাদের এমন মিথ্যা অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সামনে এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর কাছে ক্ষমা চেয়ে ছাড় দেয়া হয়েছিল আসাদকে।

তার রেশ না কাটতেই আবারো প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই ঈদ পূর্ণমিলনের নামে তানোর উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নে নৌকা বাইচ খেলার নামে স্বাস্থ্য বিধি না মেনে দূরত্ব বজায় ছাড়াই সভার নামে চলে এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে ফের রাজাকারের সন্তান বলে চালানো হয় মিথ্যা অপপ্রচার অপবাদ।

কিন্তু এবার আর ছাড় দেয়নি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী সমর্থকরা। যখনি অনুষ্ঠানে এমপি বিরোধী বক্তৃতা দিতে শুরু করেন তখনি আসাদের মিথ্যা অপপ্রচার মূলক বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে আসাদকে ধাওয়া করেন উপস্থিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এতে করে মঞ্চ থেকে পালিয়ে রক্ষা পান জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ।

অন্যদিকে একজন মুক্তিযুদ্ধা শহীদ পরিবারের সন্তান ও জাতীয় চার নেতার এক নেতা শহীদ এএইচ এম কামারুজ্জামানের সুযোগ্য ভাগ্যনে বর্তমান তিনবারের সফল এমপি সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরীকে আবারো রাজাকারের সন্তান বলে আখ্যায়িত করে মন্তব্য করায় ফের জেলা আওয়ামী লীগে দেখা দিয়েছে প্রতিবাদের ঝড়।

বইছে আসাদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা নিতে ক্ষোভ। এছাড়াও যেকোনো মুহূর্তে আসাদের বিরুদ্ধে এ্যাকশন নিতে মাঠে নামতে পারে জেলা আওয়ামী লীগ বলেও নেতাকর্মী সমর্থকদের মধ্যে গুঞ্জন বইছে। এতে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক শাস্তির আতংকে ভুগছেন আওয়ামী লীগ বিরোধী সিন্ডিকেট তৈরির মূল হোতা সহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা।

তানোর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি লুৎফর হায়দার রশীদ ময়না জানান, এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী জমিদার পরিবারের সুধু না সে ব্রটিশ জমিদার পরিবারের সন্তান। তার বাবা ছিলেন একজন আর্দশবান মুক্তিযোদ্ধা, তার মামা ছিলেন জাতীয় চার নেতার এক নেতা শহীদ এএইচ এম কামারুজ্জামান হেনা।

যুদ্ধের সময় এমপির বাবাকে ও চাচাকে নিঃসংশ ভাবে বাবলা বনে হত্যা করে গন কবর দিয়েছিল রাজাকাররা। যা পুরো দেশের মানুষ জানে ও দেখেছে। এমপি যদি রাজাকারের সন্তান হত তাহলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা কখনোই মনোনয়ন দিতনা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জানে এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী কোন পরিবারের সন্তান।

তাই কোন বগি আওয়ামী লীগ বিরোধী নেতার মিথ্যা অপপ্রচারে আটকানো যাবেনা এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর জনপ্রিয়তা। যতই ষড়যন্ত্র ততই শক্তিশালী ও জনপ্রিয় হয়ে উঠবে এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর নেতৃত্বে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগ দল বলে তিনি জানান।

দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।