• আজঃ শুক্রবার, ২৩শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৭ই আগস্ট, ২০২০ ইং, ১৮ই জিলহজ্জ, ১৪৪১ হিজরী

প্রসঙ্গঃ দেশ গঠনে যুব শক্তিঃ সমস্যা ও সম্ভাবনা

নাসরিন নাজঃ


আমরা শক্তি আমরা বল আমরা তরুণ দল।এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার এখনই শ্রেষ্ট সময়।তরুনরা সব সময় এগিয়ে তরুণরা সবসময়ই দেশের অন্যতম শক্তি।তরুণরা এগিয়ে এলে সবই সম্ভব, অসম্ভবকে সম্ভব করার কাজটি মুলত আমাদের সমাজে তরুনরাই করে থাকে, তাদের অবদান শোধ হবার নয়।

আশার দুয়ারে তরুণরা বিমূর্ত প্রতীক,তাদেরকে ঘিরে স্বপ্ন দেখা যায় স্বপ্ন বুনা যায়, যায় বিশ্বের দরবারে দেশকে তুলে ধরা। এরকম হাজারো উদাহরণ রয়েছে যেমন বাংলাদেশের ক্রিকেট দল। যৌবনের গান সবার জীবনে আসে সেই গানে সকলকে মাতিয়ে তোলেন যুবরাই, এটা কম নয়, দেশের জন্য তাদের অবদান মাথার মুকুট সম।

সর্ব যুগে যুবরাই মানবসেবায় এগিয়ে এসেছে অবদান রেখেছে, নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়াবার কাজটি প্রথমত যুবরা করে,তাদের ভালো কাজ করার প্রত্যয়,তাদের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া,তাদের সুসংগঠিত হওয়া সব। সবকিছুতেই যুব শক্তি প্রয়োজন। তারুণ্যের প্রতিটি প্রাণ যেন জাতির বাতির মিনার সম, যে দেশের যুব শক্তির স্বপ্ন যত বড় সেই দেশ সত্যি ততো বড়।

সব সময়ই ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যুবরা অধিক শক্তির আধার নিয়ে কাজ করে যুবরাই,তাদের ঝুঁকি নেয়ার ক্ষমতা বেশি,তাদের প্রত্যাশার রাস্তা অনেক প্রশস্ত অনেক বৃহৎ। আলোকিত রাষ্ট্র গঠনে যুবরা একধাপ এগিয়ে তাদের শক্তিকে ঘিরেই দেশের সাফল্য, সকল কাজে সবার আগে একধাপ এগিয়ে যে সমাজ সেই তো যুবসমাজ, আলো ছড়াবার অনন্য বাতিঘর।

দুঃসাহসিক অভিযানে তারুণ্যের জয়োধ্বনি শুনি এরকম হাজারো গল্প কবিতা গান যেমন আছে তেমনি বাস্তব সত্যি যে সকল বাধা মাড়িয়ে এগিয়ে যাবার শক্তিই হলো তরুন সমাজ।  আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে কবিতার সেই দূটি লাইন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যুবরা না জাগলে দেশ জাগবে না, ফলে সতেজ সুস্থ ভাবে জাগাতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে তরুন যুবদের পাশে।

মানুষ মানুষের জন্য জীবন জীবনের জন্য কথাটা কত সত্যি তা কাউকে বলতে হবে না, মানুষ মানুষের জন্য এই মানুষের মধ্যে দেখবেন যুবরাই এগিয়ে আসে সবার আগে।মানুষের জন্য কিছু করতে চাওয়া তাদের জন্য হাত বাড়িয়ে দেয়া সব ভালো করতে চায় যুবকরা।ব্যর্থতার ছাই থেকে সাফল্যের প্রসাদ গড়ে যুবরা শতবার হেরেও যে জিততে চায় সেই শক্তির নামই তো যুব শক্তি।

স্বাধীনতার সংগ্রামে তরুণরা ছিল অগ্রগামী তারা যুদ্ধের সামনে না থাকলে আজ দেশ স্বাধীন হতো না, তাদের ভুমিকা অস্বীকার করা যাবে না তারা প্রাণ দিয়ে তারা ঝাপিয়ে পড়ে এদেশ রক্ষায় জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন, এনেছেন দেশের জন্য স্বাধীনতা।
যুগে যুগে যুবরাই পৃথিবী কে জঞ্জালমুক্ত করেছে যুবকরাই সকল বাঁধা মাড়িয়ে সকল সামাজিক কাজে প্রয়োজন হয় যুবকদের তারা হলেই সকল কাজ হয় পরিপাটি পরিচ্ছন্ন।

আমি তারুণ্য দেখেছি শুনেছি বঙ্গবন্ধুর দীপ্ত তর্জনীতে তার কন্ঠের ধ্বনি তার উজ্জীবিত করা কথা অমিয় বাণী, সুসংগঠিত করার ক্ষমতা।সালাম,রফিক আর বরকতরাও এসেছে তারুণ্যের ঝলকিত হয়ে তারা কি করেছে কেন প্রাণ দিয়েছে আমরা সবাই জানি তাই যুব শক্তি এগিয়ে না এলে কোন অর্জনই তৃপ্তির নয়।

বন্যা,খরা,মহামারী,দূর্যোগ-ক্রান্তিতে তরুণ অসহায় মানুষের জন্য লড়ে লড়বে সবসময়ই অতিতেও হয়েছে ভবিষ্যতেও হবে।
সকলের তরে সকলে মোরা প্রত্যেকে মোরা পরের তরে এই কাব্যিক কথা যুবক জনগোষ্ঠী যে ভাবে মনে করে কাজ করে তার স্বীকৃতি আজ সবার জন্য প্রজোয্য।

কবি নজরুল গাহি সাম্যের গান কবিতায় সকলের কথা বলছেন তার মধ্যে তরুন যুবকদের কথা জোর দিয়ে বলেছেন।
চলো পাল্টাই চলো পাল্টিয়ে দেই এইসব স্লোগান বা কথা শুধু কথার কথা নয় আগে নিজেকে পালটাতে হবে তারপর সমাজ সেই কাজগুলো যুবরাই করছে।

ভালোর সাথে সবসময় যুবরা ভালো সময়, ভালো মেধা, ভালো শক্তি, ভালো সিদ্ধান্ত, ভালো কাজ,ভালো প্রাপ্তির অপেক্ষা।
তারুণ্য এক অফুরন্ত শক্তি এ শক্তির চাই সঠিক পথ সঠিক পরিকল্পনার সাথে সঠিক পরিবেশে কাজের সুযোগ তবেই দেশ হবে তারুণ্যের মুখচ্ছবি।

শেষে কবির ভাষায় বলতে চাই…
প্রবল অটল বিশ্বাস যার
নিশ্বাস প্রশাশ্বে
যৌবন যার জীবনের ঢেউ
কল তরঙ্গে হাসে।
মরা মৃত্তিকা করে প্রাণায়ীত
শষ্য কুসুমে ফলে,
কোন বাঁধা তার রোধে নাকো পথ
কেবল সম্মুখে চলে।

লেখকঃ নাসরিন নাজ ।
শিক্ষক, সাংবাদিক, কবি,প্রকাশক।
কেডিসি রোড আলম নগর, রংপুর ।


ফেসবুকে লাইক দিন