লোড বন্ধ করুন
  • আজঃ বুধবার, ১৩ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জানুয়ারি, ২০২২ ইং

রাজশাহীর তানোরে বাল্য বিয়ের মাস না যেতেই বিচ্ছেদ

সারোয়ার হোসেন (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ


রাজশাহীর তানোরে বাল্য বিয়ের মাস না যেতেই বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার কামারগাঁ ইউপি এলাকার চকসাজুড়িয়া গ্রামে জুন মাসের শেষের দিকে অবৈধ ভাবে তালাকের কার্যক্রম সহায়তা করেন ওই ইউপির প্রয়াত কাজির ভাই মাদারিপুর গ্রামের আশরাফুল। আর তালাক সম্পদন করেন নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার তেতুলিয়া ইউপির কাজি আমিনুল হক। শুধু তাই না স্ত্রীকে নিতে ছেলে শ্বশুর বাড়িতে এলে নানা ধরনের হুমকি দেয় শ্বশুর শ্বাসুড়ি ।

হুমকির কারনে ছেলে ভবিষতের কথা বিবেচনা করে স্ত্রী শ্বশুর শ্বাসুড়ির নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযাগও দেন। ফলে বাল্য বিয়ে এবং আইন বিরোধী ভাবে অন্য এলাকার কাজিকে দিয়ে তালাকের মত জীবন ধংস কারি খেলার কারনে আশরাফুল ও আমিনুলকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি তুলেছেন এলাকাবাসি। তা না হলে এরকম ঘটনা অহরহ ঘটতেই থাকবে বলে অভিমত ওই এলাকার বিশিষ্ট জনদের।

জানা গেছে, চলতি বছরের ৫ জুন ইসলামী শরিয়া অনুযায়ী তানোর উপজেলার কামারগাঁ ইউপি এলাকার চকসাজুড়িয়া গ্রামের লায়েব আলীর নাবালক কন্যার সাথে নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার জোনাকি গ্রামের দবির মণ্ডলের পুত্র আনিসুর রহমানের সাথে রেজিস্ট্রি ছাড়াই বিয়ের কার্যক্রম সম্পন্য করে দিতে যাবতীয় সহায়তা করেন কামারগাঁ ইউনিয়নের প্রয়াত কাজি জাকির হাসনের ভাই আশরাফুল ইসলাম। বিয়ের মাত্র ছয় দিন পর নতুন স্ত্রী স্বামী আনিসুরের বাড়ি থেকে জোরপূর্বক পিতার বাড়িতে চলে আসেন।

পিতার বাড়িতে আসার পর থেকে একাধিকবার স্বামীর বাড়িতে যাবার জন্য বলেন। এঅবস্থায় এক প্রকার বাধ্য হয়েই স্বামী আনিসুর ২৫জুন তারিখ শ্বশুর বাড়িতে আসেন স্ত্রীকে নিতে। কিন্তুু স্ত্রীকে তা যেতে দেননি উল্টো জামাইকে আগল পাগল বলে তাড়িয়ে দেন। তাঁর পরদিন স্ত্রী শ্বশুর শ্বাশুড়িকে বিবাদী করে থানায় লিখিত অভিযাগ দেন আনিসুর। থানায় লিখিত অভিযোগ দেবার পর কাজি না হয়েও প্রয়াত ভায়ের কাজির লাইসেন্সর বলে বহিরাগত মান্দা উপজেলার তেতুলিয়া ইউনিয়নের কাজি আমিনুলের মাধ্যমে তালাকের যাবতীয় ব্যবস্থা করেন আশরাফুল।

অথচ কামারগাঁ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত কাজির দায়িত্বে আছন পাঁচন্দর ইউনিয়নের কাজি আলহাজ্ব মিজানুর রহমান মিজান।অবশ্য বিয়ে তালাকের কোন ঘটনা ঘটলে মিজানকে অবহিত করতে হবে। এক্ষেত্রে মিজান কে কোন ভাবেই অবহিত করেননি আশরাফুল।

আশরাফুল জানান গত ১২ থেকে ১৪ দিন আগে মেয়ে এক তরফা তালাক দেন। আমি মান্দা উপজেলার তেতুলিয়া ইউনিয়নের কাজি আমিনুল কে এখানে এনে এক তরফা তালাকের ব্যবস্থা করি। মেয়ে নাবালক আর আপনি কাজি না হয়েও কিভাবে বিয়ে তালাক দিলেন জানতে চাইলে তিনি জানান ছেলের মাথার সমস্যা আছে এজন্য মেয়ে এক তরফা তালাক দিয়েছে। রেজিস্ট্রি ছাড়া কিভাবে বিয়ে হল প্রশ্ন করা হলে উত্তরে তিনি জানান বিয়ের বিষয়ে বলতে পারবনা এবং রেজিস্ট্রি হয়নি।

অথচ ছেলে আনিসুর রহমান জানান আমার স্ত্রীকে বিয়ের ছয়দিন পর মেয়ের চাচা এসদুলসহ কয়েকজন এসে নিয়ে যায়। আমি একাধিকবার মাবাইল এবং তাঁর বাড়িতে গিয়েও নিয়ে আসতে পারিনি। মেয়ের চাচা এসদুলর বাড়িতে বিয়ে হয় এবং কাদিরপুরগ্রামর এক মাওলানা বিয়ের কালমা পড়ান। পরে মাদারিপুর বাজারে আশরাফুলের কাছে রেজিস্ট্রার খাতায় আমার কাছে থেকে স্বাক্ষর নেন।

দেন মোহর ধরা হয় ৮০ হাজার ৫শত ১ টাকা এবং বিয়ের জন্য আশরাফুল মেয়ের পরিবারের কাছে থেকে ১০ হাজার টাকা এবং তালাকের সময় ২ হাজার টাকা নিয়েছেন। আমি তালাক দেবার জন্য বিয়ে করিনি মেয়ের চাচা এসদুল ও আশরাফুল মিলে আমার জীবন ধংস করে দিয়েছে। গ্রামের মানুষ নানা ধরনের অপবাদ দিচ্ছে আমাকে, বাহিরে বাজারে লজ্জায় যেতে পারছিনা এবং মেয়ে মাদারিপুর বাজারের পশ্চিম অব¯িত ¯ুলর নিউ টেনে পড়ত।

কামারগাঁ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত কাজির দায়িত্বে থাকা মিজানুরের সাথে মোবাইল যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান কোনভাবেই বাল্য বিয়ে দেয়া যাবেনা। আর এবিষয়ে আমাকে অবহিত করা হয়নি। বহিরাগত কাজি এলাকায় এসে তালাক দিতে পারে কিনা জানেত চাইলে তিনি জানান কোন ভাবেই পারবেনা। এটা সম্পূর্ণরুপে আইন বিরোধী। যারা এইসব কাজ করে ছেলে মেয়েদের জীবন অকালেই ধংস করে দিচ্ছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা জরুরী।

আজ শনিবার সকালে পুনরায় আশরাফুল কে ফোন দিয়ে জানতে চাওয়া হয় আপনি গত শুক্রবার বলেছেন কোন রেজিস্ট্রার খাতায় স্বাক্ষর হয়নি, কি ছেলে আনিসুর বলছে আমার কাজ থেকে স্বাক্ষর নিয়েছে দেন মোহরও নির্ধারণ করা হয়েছে প্রশ্ন করা হলে জানান আর এমন কাজ হবেনা। মেয়ের চাচা এসদুলের ব্যাক্তিগত ০১৭৫৭-৯২৪৪২৪ নম্বর একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও শুধু বন্ধ পাওয়া যায়।

এবিষয়ে তানোর উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসার গোদাগাড়ী উপজেলার ইউএনও মোঃ আলমগীর হোসেনের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান ছেলে পক্ষকে নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেবার কথা বলেন এবং অভিযোগ পেলে এইসব আইন বিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।#