• আজঃ মঙ্গলবার, ২১শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৫ই জুলাই, ২০২২ ইং

দক্ষিন বাংলার আওয়ামী রাজনৈতিক অভিভাবকঃ আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ

কামরুল হাসান সোহাগ,  বিশেষ প্রতিনিধিঃ


আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ১৯৪৪ সালের ১০ ই ডিসেম্বর বরিশাল জেলার বর্তমান আগৈলঝাড়া উপজেলার শেরাল গ্রামের সম্ভ্রান্ত সেরনিয়াবাত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার মরহুম পিতা আব্দুর রব সেরনিয়াবাত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও সাবেক মন্ত্রী। তার মাতা মরহুমা আমেনা বেগম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বোন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুপু।

ছাত্রজীবন হতেই তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি সক্রিয় ভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন সময়ে তিনি ছিলেন বৃহত্তর দক্ষিন বাংলার মুজিব বাহিনীর প্রধান। ১৯৯০ সালের সৈরাচার বিরোধী আন্দোলন সহ দেশের সকল গনতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে তিনি রেখেছেন বিশেষ ভুমিকা।

১৯৭৩ সালে মাত্র ২৫ বছর বয়সে বরিশাল পৌরসভার প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। বরিশাল-১ আসন হতে তিনি ৪ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।বরিশাল-১ আসনের উন্নয়নের রুপকার তিনি। বর্তমানেও তিনি এই আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তিনি সপ্তম জাতীয় সংসদের চীপ হুইপ হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এর নেতৃত্বে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য শান্তি চুক্তি সম্পাদিত হয়।

তিনি স্থানীর সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দ্বায়িত্ব পালন করেছেন জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) এর সদস্য হিসেবে। বর্তমানে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষন কমিটির আহবায়ক (মন্ত্রী পদমর্যাদায়) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ছাত্র রাজনীতি ও যুব রাজনীতি করে ধিরে ধিরে নিজেকে তৈরি করেছেন পোড় খাওয়া আওয়ামী লীগার হিসেবে। আর তাই সুদীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় বহু চড়াই-উত্রাই পেরিয়ে আজ তিনি বৃহত্তর দক্ষিন বাংলার আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের কাছে সম্মানিত অভিভাবক।

পারিবারিক জীবনে তার স্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা সাহান আরা আব্দুল্লাহ (সদ্য প্রয়াত) বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বৈবাহিক জীবনে চার পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক। তার একমাত্র কন্যা কান্তা সেরনিয়াবাত। তার জেষ্ঠ পুত্র শুকান্ত বাবু ১৫ আগস্ট ’৭৫, ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাকান্ডে শহীদ হয়েছেন। তার দ্বিতীয় পুত্র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তার তৃতীয় পুত্র মইন আব্দুল্লাহ বাংলাদেশ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার কনিষ্ঠ পুত্র আশিক আব্দুল্লাহ বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাকান্ডে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সাথে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ্’র পিতা তৎকালীন মন্ত্রী শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত, ভাই আরিফ সেরনিয়াবাত, বোন আরজুমনি, বেবী সেরনিয়াবাত, পুত্র সুকান্ত বাবু ঘাতকের নির্মম বুলেটে নিহত হন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই জননেতা আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ একাধারে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির বাস্তবায়ন ও পরিবিক্ষন কমিটির আহবায়ক (মন্ত্রী পদ মর্যাদায়), বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সম্মানিত সভাপতি ও বরিশাল-১ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য।

বৃহত্তর দক্ষিন বাংলার সকল আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের একটাই চাওয়া তাদের রাজনৈতিক অভিভাবক- জননেতা আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ মহোদয়ের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু।


লেখক, কামরুল হাসান সোহাগ
আওয়ামী যুবলীগ, বাকেরগঞ্জ উপজেলা
প্রধান পৃষ্ঠপোষক, সম্ভাবনার কলসকাঠী

দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।