• আজঃ বৃহস্পতিবার, ২৫শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৯ই জুলাই, ২০২০ ইং, ১৯শে জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী

মৃত্যুর মিছিল মনে হয় শুরু হয়েই গেল

নগর২৪ অনলাইন ডেস্কঃ


আজ সেই বিকেল থেকেই পজিটিভ রোগীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঔষধ দেয়া,লকডাউন করা এইসব এই ছিলাম। তিন জায়গা শেষ করে শেষ যেখানে গেলাম সেখানে গিয়ে দেখি রোগী প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট হচ্ছে, রোগির অক্সিজেন এর মাত্রা ৩৫% ( যেটা নরমালি ৯৫% এর উপরে থাকার কথা)। সাথে সাথে টিপু ভাইকে বললাম যেভাবেই হোক অক্সিজেন সিলিন্ডার আনেন হাস্পাতাল থেকে। উনি নিয়ে এলেন।

অক্সিজেন দেয়ার কিছুক্ষ্ণ পরপরই তার অক্সিজেনের মাত্রা বেড়ে গেল ৯৬%… আবার অক্সিজেন বন্ধ করলেই নেমে যাচ্ছে ৯০% এ। সিদ্ধান্ত নিলাম রোগী কে নিয়ে আসবো হাস্পাতালে। সন্ধ্যা ৮ টায় নিয়ে আসলাম হাস্পাতালে। রোগীর ঔষধ দেয়া,অক্সিজেন ফিট করা সবই করলাম।যখনি অক্সিজেন ছেড়ে দেই তখনি তার অক্সিজেনের মাত্রা কমে চলে আসে ৭৮-৮০% এ। এইভাবে কেটে গেল কয়েক ঘন্টা।

আমার এই যুদ্ধের তখন একমাত্র সহযোগী আমাদের জাফরুল আমিন মন্টি সাহেব। আমরা যখন আমাদের কাজ শেষ করি তখন বাজে রাত ১১ টা। হঠাত খবর এল নীচে একজন রোগী আসছে ৭ দিন ধরে অনেক জ্বর আর কাশি ছিল। লোকালি চিকিতসা নিচ্ছিল লোকটা। আমি পিপিই পরা অবস্থায় সেখানে গিয়ে দেখি একটা বাচ্চা ছেলে তার বাবাকে কোলে নিয়ে রাস্তায় বসে আছে। আর সাহায্য চাচ্ছে।

আশেপাশে অনেক মানুষ দাঁড়িয়ে আছে কিন্তু,সাহায্য কেউই করছেনা। আমি গিয়েই রোগীকে মাটিতে শুইয়ে দিয়ে সিপিআর দেয়া শুরু করলাম। এই সিপিআর দেয়া যে কত কষ্টের এইটা একমাত্র যে দিয়েছে সে জানে। আর কেউ জানবে না। একটা সময় রোগীর পালস পেলাম। তখনো সিপিআর দেয়া থামাইনি, চালাচ্ছি। এই কাজে আমাকে শুধুমাত্র সাহায্য করতেসে রোগীর ছেলেটা আর কেউ না। অনেকক্ষন সিপিআর দেয়ার পর আমি আর শক্তি পাচ্ছিলাম না সিপিআর দেয়ার।

পিপিই পরেছিলাম সেই বিকেল থেকে। তারুপর এন৯৫ মাস্ক পরে স্বাস ও নিতে পারছিলাম না ভালোভাবে।পরে হাঁপিয়ে গেলাম। ছেলেটাও আর পারছিলনা কিন্তু সে চেষ্টা করেই যাচ্ছিল আমার সাথে। পরে খেয়াল করলাম যে রোগীর পালস আর নাই, চোখ স্থির হয়ে গেল, রোগী তার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে ফেলেছে।

আমি হতভম্ব হয়ে বসে পড়লাম রোগীর পাশে। চোখের সামনে লোকটা মরে গেল। এইতো একটু আগেই তো হেঁটেই নাকি আসছিল হাস্পাতালে, শ্বাসকষ্ট নিয়েই হঠাত পড়ে গেল আর মারা গেল। আজকের একদিনে এই ছোট্ট উপজেলায় অনেক কিছু দেখে ফেললাম। আর বুঝলাম একটা ব্যাপার সেটা হল, “এইখানকার মানুষগুলা মানুষ হবেনা” ।

মারুফুর রহমান অপু(ফেসবুক পেজ থেকে)


ফেসবুকে লাইক দিন