লোড বন্ধ করুন
  • আজঃ সোমবার, ৪ঠা মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২২ ইং

করোনা মোকাবেলায় সামনের সারিতে নার্সরা

নগর২৪ ডেস্কঃ


মারাত্মক ছোঁয়াচে রোগ কভিড-১৯মোকাবেলায় সামনের সারিতে থেকে দায়িত্বপালন করছেন নার্সরা। হাসপাতালে কর্মরতস্বাস্থ্য পেশাজীবীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশিরোগীর সংস্পর্শে যেতে হওয়ায় তাদেরআক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের চেয়ে বেশি।তার পরও ভয়কে জয় করে মানবসেবারমহান ব্রত নিয়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেনতারা।

ঝুঁকি মাথায় নিয়ে আক্রান্ত রোগীর সেবাপ্রদানের পাশাপাশি নিজেদের কাজেরবাইরেও দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে তাদের।সংগ্রহ করতে হচ্ছে কভিড পরীক্ষার নমুনাও।এভাবেই ফ্রন্টলাইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণহয়ে উঠেছেন নার্সরা।

সেবা দিতে গিয়ে এখন পর্যন্ত কভিড-১৯আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন পাঁচজন নার্স।এদের মধ্যে রয়েছেন সিলেট শহীদশামসুদ্দিন হাসপাতালের নার্সিং কর্মকর্তারুহুল আমিন, ময়মনসিংহ মেডিকেলকলেজ হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজারশেফালী রানী দাশ, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্যহাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার রেহানাবানু, আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের নার্সিং কর্মকর্তা মীরা রানী দাশএবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজহাসপাতালের সহকারী নার্স মো. শহিদুলইসলাম।

সোসাইটি ফর নার্সেস সেফটি অ্যান্ডরাইটসের (এসএনএসআর) সর্বশেষ তথ্যঅনুযায়ী সেবা দিতে গিয়ে দেশে করোনায়আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩১০ জন নার্স।

এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে আক্রান্তহয়েছেন ১ হাজার ৩৮ জন এবং বেসরকারিহাসপাতালে ২৭২ জন।

এদের মধ্যে শুধুঢাকায়ই আক্রান্ত হয়েছেন ৯২৩ জন নার্স।এর পরই রয়েছে চট্টগ্রাম, ১৪৪ জন। এছাড়াময়মনসিংহে ৭৫ জন, সিলেটে ৫৮ জন, বরিশালে ৫৫ জন, খুলনায় ১৭ জন, রংপুরে১৭ জন ও রাজশাহীতে ১৩ জন আক্রান্তহয়েছেন। এদের মধ্যে মিডওয়াইফ রয়েছেন২০ জন। সর্বমোট সুস্থ হয়েছেন ৫০০ জন, হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৩০০ জনএবং বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন ৫১০ জননার্স।

সংক্রমিত হওয়ার কারণ হিসেবে নিম্নমানেরসুরক্ষা উপকরণ, সংক্রমণ প্রতিরোধপ্রশিক্ষণের অভাব ও সঠিক মনিটরিং ব্যবস্থানা থাকাকেই দায়ী করছেন নার্সরা।

তাদেরসংগঠনের পক্ষ থেকে পরিচালিত সর্বশেষগবেষণা জরিপের তথ্যমতে, গত মে মাসপর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ পিপিই পেয়েছে ৫৩ দশমিক৭৫ শতাংশ নার্স এবং সংক্রমক রোগপ্রতিরোধের প্রশিক্ষণ পেয়েছে মাত্র ২৬দশমিক ৩৩ শতাংশ নার্স।

কভিড হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করানার্সরা জানান, স্বল্পসংখ্যক নার্স দিয়েহাসপাতাল পরিচালনা করাও এখন বড়চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাসপাতালেনার্সদের কর্মঘণ্টায় এসেছে পরিবর্তন। নতুননিয়মে সাতদিন একটানা ১২ ঘণ্টা করেডিউটি করতে হচ্ছে তাদের। তারপর ১৪দিনের হোম কোয়ারেন্টিন। নতুন নিয়মেডিউটি রোস্টার হওয়ায় নার্স সংকট আরোতীব্র হচ্ছে।

এরই মধ্যে বিপুলসংখ্যক নার্সকরোনা আক্রান্ত হচ্ছেন।

তাদের মতে, স্বাস্থ্যসেবার অবিচ্ছেদ্য অংশনার্স। রোগীর পাশে সবচেয়ে বেশি সময়থাকতে হয় তাদের।

একজন রোগীর সম্পূর্ণসেবার সময়ের ৭০ শতাংশেরও বেশি সময়পাশে থাকেন নার্সরা। করোনা আক্রান্ত রোগীযখন হাসপাতালে একাকিত্বে ভোগে পরমমমতায় সেবার হাত বুলিয়ে দেন নার্স।

একজন পরিবারের সদস্য মনে করে রোগীরসেবাই হয় নার্সের মূল ব্রত।

নার্সদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন সোসাইটিফর নার্সেস সেফটি অ্যান্ড রাইটসেরমহাসচিব সাব্বির মাহমুদ তিহান বণিকবার্তাকে বলেন, নার্সরা নানা প্রতিকূলতা ওসংকটের মধ্যেও জীবনের মায়া উপেক্ষাকরে হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগীদেরসেবা দিয়ে যাচ্ছেন

সুরক্ষাসামগ্রীর ঘাটতিথাকলেও অনেকেই নিজ উদ্যোগে কিনেনিচ্ছেন। নিজেকে সুরক্ষিত রেখে দেশেরমানুষের জীবন রক্ষায় দিনরাত পরিশ্রম করেযাচ্ছেন সম্মুখ সারির যোদ্ধা হিসেবে।

তবেদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নার্সদেরসুরক্ষাসামগ্রীর ন্যায্য চাহিদাও পূরণ করাহচ্ছে না। দেয়া হচ্ছে না ন্যূনতম প্রশিক্ষণ।নার্সদের থাকতে হচ্ছে পরিত্যক্ত ভবনে।মেঝেতেই ঘুমাতে হচ্ছে। নিম্নমানের খাবারপরিবেশন করা হচ্ছে। শিগগিরই এসবসমস্যার সমাধান না করলে নার্সরাকর্মক্ষেত্রে কাজের আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটানাসাতদিন ডিউটির পর বাধ্যতামূলক করোনাটেস্ট করার বিধান থাকলেও নার্সদের টেস্টকরানো হচ্ছে না। ফলে নার্সদের মাধ্যমেকরোনার সংক্রমণ হচ্ছে।

ডাক্তার ও তাদের পরিবারের জন্য সরকারকরোনা টেস্টের আলাদা ব্যবস্থা করলেওনার্সদের জন্য এখনো কোনো ব্যবস্থা করাহয়নি। তিনি অতিদ্রুত নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদেরজন্য করোনা টেস্টের আলাদা ব্যবস্থা করারজন্য সরকারকে অনুরোধ জানান এবংকরোনা আক্রান্ত নার্স ও তাদের পরিবারেরজন্য আলাদা ডেডিকেটেড হাসপাতালবরাদ্দ করার জন্য সরকারের কাছে দাবিজানান।

পরিবারের সংক্রমণ ঝুঁকি এড়াতেকরোনাকালে দায়িত্বরত নার্সদের আবাসনব্যবস্থার দায়িত্ব নিয়েছে সরকার।হাসপাতালগুলোর পার্শ্ববর্তী হোটেলগুলোতেতাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবেঅভিযোগ রয়েছে নার্সদের থাকার অধিকাংশহোটেলেই নেই মানসম্মত আবাসন ব্যবস্থা।নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকতে নাপেরে অনেক নার্সকেই বাধ্য হয়ে ডিউটিশেষে ফিরতে হচ্ছে বাড়িতে। আবার অনেকহোটেল মালিক সংক্রমণ ঝুঁকি বিবেচনায়নার্সদের থাকতে দিতে অস্বীকৃতিওজানাচ্ছেন।