• আজঃ মঙ্গলবার, ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৯শে নভেম্বর, ২০২২ ইং

আজ ফাঁকা শহর – আয়শা মুমিন (শেষ পর্ব)

“গল্প: আজ ফাঁকা শহর”
আয়শা মুমিন (শেষ পর্ব)


সে আবার নিরব।কিন্তু খুব বিরক্ত।কিছু সময় পর বললো,
: তুমি মানুষ নাকি অন্য কিছু?
: কেনো? তোমার সন্দেহ আছে?
: আমি যা বলেছি তার উত্তর দাও।
: মানুষের কোন গুণটি আমার মাছে নেই?
: আমাকে প্রশ্ন না করে নিজেকে প্রশ্ন করো মানুষের কোন গুণটি তোমার আছে।
: তার বিশেষ প্রয়োজন নেই।
: মানে?

: লকডাউন চলছে।বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কোনো কিছু দেখা বা বোঝার দরকার নেই।
: মোটেও ফাইজলামি করার চেষ্টা করো না।যে কাজটা দিয়েছিলাম সেটার কী করেছো?
: সেটাইতো করছিলাম।তোমাকে যেতে বলেছি তুমি যাও নি। তাই আমি ভেবেছি কাজটা তেমন গুরুত্বপূর্ণ না তাই বন্ধ করে দিয়েছি।
: ব্যাস,ব্যাস! তোমার কাজের ধরণ দেখানোর জন্য তেমাকে এখানে ডাকি নি। একটু মানুষ হও। মানুষের সুখদুখ বোঝার একটু চেষ্টা করো পার্থ ।
: সেসব বোঝার জন্য অনেকেই আছেন।এসবের জন্য আমি অমানুষের প্রয়োজন পড়বে না। সবাই সমাজসেবী হতে নেই। সবাই সমাজসেবী হয়ে গেলে কার সেবা কে করবে?এতে গণ্ডগোলটাই বেশি। এবার বেচারি রেগে গেলো।

: কোনো কাজ কর্ম নেই তোমার হেঁটে বেড়ানো ছাড়া?
: হেঁটে বেড়ানোও একটা আর্ট।এটাকে ছোট করে দেখা উচিত না।
: চুপ! আর হিমু কী হে? হিমু কী? what is Himu?অপদার্থ কোথাকার!
: হিমু হলো হিমালয়।তার বাবার দেয়া নাম হিমালয়। অপদার্থ না।
:স্টপ! আর একটাও কথা বলবে না। কোন স্টুপিড যে তোমাকে জন্ম দিয়েছিলো !
:আমার বাবা।
: এই,উঠে দাড়াও। উঠে দাড়ালাম।

: বেরিয়ে যাও।Next time আর কোনো দিন যেনো তোমাকে চোখের সামনে না দেখি। get out,i say get out! বেরিয়ে পড়লাম আমার সেই চিরচেনা রাস্তায়।
সন্ধা নেমে গেছে।পাখিরা ঘরে ফিরছে,আমিও ফিরছি। আমার ঠিকানা রাস্তা,আমার ঠিকানা এ শহরের অলিগলি।হিমুদের নির্দিষ্ট কোনো ঠিকানা থাকে না। বেচারি অঞ্জনার সাথে খামোকাই আমার মূল্যবান সময় নষ্ট করলাম।
আজ হিমু আসার কথা। নীলপদ্মটা ধার চেয়ে চিঠি পাটিয়েছিলাম।ওটা নিয়েই আসবে আজ ।
হিমু আসবেই,মধ্যরাতে।
(সমাপ্ত)

দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।