• আজঃ রবিবার, ২৩শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৭ই আগস্ট, ২০২২ ইং

সংবাদের ব্যাপারে আল কোরআনের দৃষ্টিভঙ্গি – আ.স.ম আল-আমীন

লেখক-আল-আমীনঃ


বর্তমান সময়ের সংবাদ প্রচার ও প্রসারের উন্নতম মাধ্যম হলো সোস্যাল মিডিয়া। আমি মনে করি যার সাথে সোস্যাল মিডিয়ার সম্পর্ক রয়েছে, সেও একজন সাংবাদিক। আর অনেক সংবাদের কারনে নিজেকে বহন করতে হয় পাহাড় পরিমান গুনাহের বোঝা। তার কারন হলো, সংবাদের ক্ষেত্রে কোরআন ও সুন্নাহর মুলনীতি না জানা, তাছাড়াও সাংবাদিকতার কিছু মুলনীতি রয়েছে।

যেমন সরেজমিনে গিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করা, এবং সংবাদ শুনার পর একেবারেই অবিশ্বাস করা যতক্ষণ পর্যন্ত ইয়াকিন না হবে। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে সংবাদ সম্পর্কে ইরশাদ করেন, یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِنۡ جَآءَکُمۡ فَاسِقٌۢ بِنَبَاٍ فَتَبَیَّنُوۡۤا اَنۡ تُصِیۡبُوۡا قَوۡمًۢا بِجَہَالَۃٍ فَتُصۡبِحُوۡا عَلٰی مَا فَعَلۡتُمۡ نٰدِمِیۡنَ

হে ঈমানদারগণ, যদি কোন ফাসিক তোমাদের কাছে কোন সংবাদ নিয়ে আসে, তাহলে তোমরা তা যাচাই করে নাও। এ আশঙ্কায় যে, তোমরা অজ্ঞতাবশত কোন কওমকে আক্রমণ করে বসবে, ফলে তোমরা তোমাদের কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত হবে (৬)
এই আলোচ্য আয়াতটি একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে নাযিল হয়,

বনী মুস্তালিক গোত্রের সরদার হারেস ইবনে মেরার ইসলাম গ্রহণের পর রাসুল (সা:) তাকে যাকাত প্রদানের আদেশ দিলেন। তিনি যাকাত প্রদানে স্বীকৃত হলেন এবং তার গোত্রে যারা ইসলাম গ্রহণ করবে তাদের যাকাত আদায় করে জমা করে রাখার কথা দেন এবং রাসূল (সা:) কে একটি নিদিষ্ট তারিখে যাকাতের অর্থ নেওয়ার জন্য কোন দূত পাঠাতে বললেন।

কিন্তু নির্ধারিত তারিখ পার হয়ে গেলেও দূতের দেখা না পেয়ে হারেস আশংকা করলেন রাসূল (সা:) কোন কারনে তাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছেন। এবং একথা তিনি ইসলাম গ্রহনকারী নেতৃস্থানীয় লোকদের কাছে প্রকাশ করে রাসূল (সা:) এর সাথে সবাই মিলে দেখা করার ইচ্ছা করলেন।

এদিকে রাসূল নির্ধারিত তারিখে ওলীদ ইবনে ওকবা কে প্রেরণ করলেও তিনি পথিমধ্যে ধারনা করেন এই গোত্রের লোকদের সাথে তার পুরাতন শত্র“তা আছে। তাকে একা পেয়ে হত্যা না করে ফেলে। তিনি ফিরে আসেন এবং রাসূল (সা:) কে বলেন তারা যাকাত দিতে অস্বীকার করেছে এবং আমাকে হত্যা করার ইচ্ছা করেছে।

রাসূল (সা:) রাগান্বিত হয়ে খালিদ ইবনে ওলীদের নেতৃত্বে একদল মুজাহিদ প্রেরণ করেন। অত:পর তা জানতে পেরে হারেস রাসূল (সা:) কে বলেন তিনি ওলীদকে দেখেনইনি। কোন কোন রেওয়ায়েতে আছে – ওলীদ ইবনে ওকবা (রা:) নির্দেশ অনুযায়ী বনু মুস্তালিক গোত্রে পৌছেন। গোত্রের লোকেরা অভ্যর্থনা জানানোর উদ্দেশ্যে বস্তি থেকে বের হয়ে আসে। ওলীদ সন্দেহ করে, তারা বোধ হয় পুরাতন শত্র“তার কারনে তাকে হত্যা করতে আসছে।

তিনি সেখান থেকে ফিরে এসে এ ধারনা ব্যক্ত করলে রাসূল (সা:) খালিদ ইবনে ওলীদ কে ঘটনা পর্যবেক্ষনের নির্দেশ দিলেন। তিনি ফিরে এসে সংবাদ দিলেন তারা ঈমানের উপর অটল রয়েছে/যাকাত দিতে প্রস্তুত। ওলীদ ইবনে উকবা মক্কা বিজয়ের সময় মুসলমান হয়েছিলেন।

বর্তমানে আমরা দু-চোঁখে সোস্যাল মিডিয়াতে যা দেখি সবকিছু কে সত্য মনে করে নেওয়া এটা নিজেদের অজ্ঞতা ও মূর্খতার কারন । সর্বোপরি সকল ফেইসবুক ব্যবহার কারী ও সাংবাদিক ভাইদের প্রতি আমার উদাত্ত আহ্বান, প্রচারের ক্ষেত্রে যাচাই -বাচাই করে প্রচার করুন আল্লাহকে ভয় করুন। নিজেদের ভূলের কারনে অন্যরা যেন ক্ষতির সম্মুখীন না হয়।

লেখক, আহবায়ক, বাংলাদেশ ক্বওমী ছাত্রপরিষদ, ঢাকা মহানগর পূর্ব

দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।