লোড বন্ধ করুন
  • আজঃ শনিবার, ৯ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২২শে জানুয়ারি, ২০২২ ইং

বৈষম্যমূলক আচরণ মানবতাবাদীদের মাঝেও প্রবলভাবে বিদ্যমান

Persecution নিয়ে বড় বড় সেমিনার, একাডেমিক আলোচনা, লেখালেখি, ক্যাম্পেইন অনেক কিছু হয়। আজ পর্যন্ত কোথাও প্রফেশনাল পার্সিকিউশন নিয়ে কথা বলতে দেখিনি এবং এটা আরও বেশি প্রমাণ করে যে এই ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ মানবতাবাদীদের মাঝেও প্রবলভাবে বিদ্যমান।

বলছি চিকিৎসকদের পেশাগত নিপীড়ন তথা Professional Persecution নিয়ে। রাশিয়ার স্টালিন একসময় প্রচুর ডাক্তার (ইহুদী এবং অন্যান্য) মেরেছে, নির্যাতন করেছে স্রেফ ডাক্তার হবার কারনে। এ যুগে স্টালিন এর সেই ভুত এখন মানবতার ঝান্ডাধারীদের মাঝে ঘোরে।

তাই দেশের প্রথম সারির দৈনিক যখন কাটতি বাড়াতে প্রথম পাতা জুড়ে করোনায় নিহত সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে শ্রদ্ধা জানাতে ১২০ জনের ছবি ছাপায় এবং সেখানে করোনায় একেবারে প্রথম সারির সরাসরি যোদ্ধা চিকিৎসকদের একজনও স্থান পায়না (৪২ জন মৃত এখন পর্যন্ত) তখন আসলে অবাক হইনা, কারন এটাই চলে আসছে বহুদিন ধরে।

গতকাল একজন চিকিৎসকের চেম্বারে এসে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে একজম চিকিৎসককে এবং এ ঘটনা প্রতি বছরই বহুবার ঘটে, করোনাও এটা আটকাতে পারেনি।

আমাদের দেশে বাবা মা ছেলে মেয়েদেরকে ডাক্তার বানাতে চান হয় আর্থিক স্বচ্ছলতার সম্ভাবনার দিক চিন্তা করে অথবা পারিবারিক শো পিস হিসেবে প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে৷ সমাজ ডাক্তারকে মনে করে পয়সা দিয়ে কেনা গোলাম তাই যা ইচ্ছা তাই করা যায়, বলা যায় এদের উপর।

প্রতিষ্ঠান ও পলিসি মেকাররা মনে করে এরা আধুনিক সমাজের নব্য দাস। বিশ্বাস করুন, আমি মোটেও বাড়িয়ে বলছিনা৷ তাই যদি না হবে তাহলে সারা বিশ্বের প্রতিটি দেশ এই করোনাকালীন সময়ে যেখানে ডাক্তারদের সম্মানিত করার চেস্টা করছে সেখানে এখন পর্যন্ত এদেশে সরকারিভাবে কেন কোথাও বলা হয়না কতজন চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছেন বা মারা গেছেন?

কেন এদেশের পত্রিকায় কোথাও ঠাই পায় না ডাক্তারের নাম বা ছবি এমনকি সংখ্যা অন্তত? কেন ডাক্তারের উপর অত্যাচারের কথা প্রকাশ করতে পত্রিকা উৎসাহী না বরং ভুল চিকিৎসার দোহাই দিয়ে পাতার পর পাতা সাজিয়ে কাটতি বাড়াতে বেশি আগ্রহী তারা?

কেন বিভিন্ন পেশাজীবীরা ক্ষমতার জোরে আলাদা আলাদা হাসপাতাল বুকিং দেন অথচ ডাক্তার হাসপাতাল পায়না, টেস্ট করতে পারেনা, আইসিইউ পায়না? কেন হাইকোর্ট রায় দেয় হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু হলে তা ফৌজদারী অপরাধ?

কেন ৪ হাজার চিকিৎসক বিনা বেতনে সেচ্ছাসেবী হিসেবে টেলিমেডিসিন সেবা দিয়ে করোনা হটলাইন ৩৩৩ চালু রাখার পরেও তাদের কথা কোথাও প্রচার হয়না, প্রণোদনা দেয়া হয়না এবং এই বিনামূল্যের সেচ্ছাসেবীতাকেই বাধ্যতামূলক চাকরি (ডাক্তার হইছিস তো সেবা দিবি না কেন!) হিসেবে গণ্য করা হয়?

কেন সরকারি ডাক্তারকে নিজের পয়সায় পেশাগত সুরক্ষা সামগ্রী কিনে নিতে হয়? কেন মহামারী মোকাবেলায় চিকিৎসকদের পরামর্শ মানা হয়না?

মহামারীর সময়ে আপনার সুস্থতার ভার যাদের হাতে সেই পেশাজীবীদের এভাবে বছরের পর বছর নিপীড়িত করা কিভাবে আপনি আন্তরিক স্বাস্থ্য সেবা পাবার আশা করেন?

লিখেছেন-ডক্টর. মারুফুর রহমান অপু