• আজঃ বৃহস্পতিবার, ১৮ই আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২রা জুলাই, ২০২০ ইং, ১২ই জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী

নিম্নবিত্তরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে গাছের পেয়ারা কিংবা মাছের তরকারি উপহার দিয়ে

নগর অনলাইন ডেস্কঃ


কেউ কি খেয়াল করেছেন, এই মহামারির সময়ে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে একটা প্যারাডাইম শিফট হয়েছে?

যে রোগীরা আগে দেশের বাইরে চিকিৎসা নিতো কিংবা দেশের বড় কোন কর্পোরেট হাসপাতালে চিকিৎসা নিতো তারা এখন ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নিচ্ছে।

রোগী এবং রোগীর অ্যাটেনডেন্টদের পোশাক দেখলে, মুখের কথা শুনলে বা ডাক্তারদের সাথে তাদের ব্যবহার দেখলেই বুঝা যায় তারা সমাজের অবস্থাসম্পন্ন গোত্রের সদস্য।

এই গোত্র চিকিৎসার প্রয়োজনে এর আগে কখনোই ঢাকা মেডিকেলের বারান্দায় পা রাখেনি। অথচ আজ তারা সাধারণ ওয়ার্ডে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে।

সেরকমই এক কোভিড-১৯ রোগী ঢাকা মেডিকেলে ১৮ দিন চিকিৎসা গ্রহণের পর আজ ছুটি হয়েছে। রোগীর মেয়ে ছাড়পত্র নেয়ার সময় ছবির এই থ্যাংক ইউ নোটটি আমাকে দেয়।

আমার মতো চিকিৎসকরাও এই গোত্রের চিকিৎসা দিয়ে অভ্যস্ত না। আমরা ডাক্তার হওয়ার পর থেকেই বিত্তহীন, নিম্নবিত্ত কিংবা বড়জোর নিম্ন-মধ্যবিত্ত রোগীদের চিকিৎসা দিয়েছি।

যে রোগীরা ঠিকমতো থ্যাংক ইউও বলতে পারে না। তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তাদের গাছের পেয়ারা কিংবা মাছের তরকারি উপহার দিয়ে।

চা শ্রমিক দীপক ছিলো অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারের রোগী। সে গরীবের চাইতেও গরীব। আমি তাকে দীপক বাবু বলে সম্বোধন করতাম। সে আমাকে তার বাড়ির পোষা মুরগির ডিম উপহার দিয়েছিলো।

মুখে ধন্যবাদ বলতে পারে নি৷ কিন্তু তার চোখের তারায় অসম্ভব আনন্দ খেলা করছিলো। ৫০ বছরের জীবনে কেউ তাকে কখনো দীপক বাবু বলে সম্বোধন করেনি।

তাই রোগী এবং রোগীর অ্যাটেনডেন্ট ছুটির সময় ইংরেজিতে থ্যাংক ইউ নোট দিয়ে যাবে এমনটা স্বপ্নেও ভাবিনি। আজ রোগীর অ্যাটেনডেন্টের ব্যক্তিত্বের সামনে আমার নিজেকেই চা শ্রমিক দীপক মনে হচ্ছিলো।

দীপকের মতো আমিও মুখে ধন্যবাদ বলতে পারিনি। কিন্তু আমার চোখের তারায় অসম্ভব আনন্দ খেলা করছিলো। দীপকের সেই আনন্দ আমি দেখতে পেলেও আমার আজকের আনন্দ গগলস আর ফেস শিল্ড পার হয়ে রোগীর অ্যাটেনডেন্টের চোখে ধরা পড়েছে বলে আমার মনে হয় না।

এই খুশির মধ্যেও একটা বিষাদ মাথায় ঘুরে ফিরে আসছে। সমাজের বিত্তশালীরা তাও না হয় ঢাকা মেডিকেলের ওয়ার্ডে এসে চিকিৎসা নিচ্ছে কিন্তু দীপকরা কোথায় যাচ্ছে?

Nazirum Mubin-From the page- Health Cadre Association


ফেসবুকে লাইক দিন