লোড বন্ধ করুন
  • আজঃ বৃহস্পতিবার, ৭ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২০শে জানুয়ারি, ২০২২ ইং

শুরু হচ্ছে এলাকা ভিত্তিক লক ডাউন প্রক্রিয়া

নগর২৪ ডেস্ক:


করো’না সংক্রমণ ঠেকাতে ঢাকায় শুরু হয়েছে এলাকা ভিত্তিক লকডাউন। সংক্রমণের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে ঢাকাসহ সারা দেশকে লাল, হলুদ ও সবুজ জোনে ভাগ করে কর্মপন্থা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পরীক্ষামূলকভাবে আ’ক্রান্তের সংখ্যা যেখানে বেশি সেসব এলাকাকে রেড জোন ঘোষণা করে তা লকডাউন করা হচ্ছে।

ইতিমধ্যে কক্সবাজার পৌরসভা’র ১০টি ওয়ার্ড ও নারায়ণগঞ্জের তিনটি এলাকা লকডাউন করা হয়েছে। ঢাকায় মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে পূর্ব রাজাবাজারে শুরু হচ্ছে লকডাউন। পর্যায়ক্রমে ওয়ারিসহ ঢাকার রেড জোনগুলো লকডাউন করা হবে।এক্ষেত্রে প্রযু’ক্তিগত সহায়তার কাজটি করছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযু’ক্তি বিভাগ ও এটুআই। তথ্য সরবরাহ করবেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, স্বাস্থ্য অধিদপ্ততর ও আইইডিসিআর (রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান)।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রেড জোন পুরোপুরি কঠোর লকডাউনের আওতায় থাকবে।এ জোনের মধ্যে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, চট্টগ্রামসহ যেসব জে’লায় আ’ক্রান্তের সংখ্যা বেশি সেখানে এলাকাভিত্তিক লকডাউন শুরু হয়েছে। আর ইয়োলো ও গ্রিন জোনে বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে তালিকাভুক্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মূলত: সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রতিদিন আ’ক্রান্ত ব্যক্তিদের মোবাইল নম্বর চিহ্নিত করে করো’না মানচিত্র আপডেট করা হবে। আ’ক্রান্তের ঘনত্ব অনুযায়ী এই মানচিত্র রেড, ইয়োলো ও গ্রিন রঙের।

রাজধানীতে এই প্রক্রিয়ার শুরুতে লকডাউন শুরু হচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পূর্ব রাজাবাজার লাল এলাকায়। প্রা’ণঘাতি করো’নাভাই’রাসের সংক্রমনের জন্য রেড জোন হিসেবে ঘোষিত ওই এলাকা মঙ্গলবার রাত ১২ টার পর থেকে বন্ধ করে দেয়া হবে। গতকাল বিষয়টি এলাকার বাসিন্দাদের জানানো হয়েছে।

তিনি জানান, ওই এলাকার প্রবেশ পথ আটটি। মঙ্গলবার রাত ১২টার পর থেকে সাতটি পথ বন্ধ থাকবে। একটি খোলা থাকবে। সেখানে সার্বক্ষণিক পাহারা থাকবে। অ’তি জরুরি প্রয়োজনে অনুমতি নিয়ে গ্রীণ রোড সংলগ্ন ওই রাস্তা দিয়ে আসা-যাওয়া করা যাবে। অ’তি জরুরি প্রয়োজন ও অনুমতি ছাড়া কেউ আসা যাওয়া করতে পারবেন না।

ওই এলাকার লোকজনকে যাতে বাইরে যেতে না হয় এজন্য সব ধরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এমনকি পূর্ব রাজাবাজারের বাসিন্দাদের সুবিধার্তে সেখানে করো’না টেস্টের বুথ থেকে শুরু করে আইসোলেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান তিনি। ওই এলাকায় এখন পর্যন্ত ২৭ জন করো’না আ’ক্রান্ত রোগী ধ’রা পড়েছে। এখানে বসবাস করছেন অন্তত ৫০ হাজার মানুষ।

প্রাথমিকভাবে লকডাউনের তালিকায় রাজধানীর ওয়ারির একটি জায়গাও রয়েছে। পর্যায়ক্রমে ওয়ারিসহ অন্যান্য এলাকায় লকডাউন করা হবে। করো’না সংক্রমণ বিবেচনা করে চিহ্নিত করা ঢাকার লাল, হলুদ ও সবুজ এলাকা পরিচালনার বিষয়ে ইতিমধ্যে পরিকল্পনা ঠিক করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় একটি কমিটির অধীনে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলের নেতৃত্ব্বে পু’লিশ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে স্থানীয় মানুষকে সম্পৃক্ত করে কমিটি গঠনের মাধ্যমে লকডাউন বাস্তবায়ন করা হবে।

জানা গেছে, চলতি সপ্তাহের মধ্যে রেড মানচিত্রের এলাকাগুলোতে লকডাউন কার্যকর করা হবে। লকডাউন হতে পারে ১৪-২১ দিনের জন্য। লকডাউন করা এলাকায় আরোপ করা হবে সর্বোচ্চ কড়াকড়ি। এসব এলাকায় চলাচল করতে দেয়া হবে না। অ’তি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাসার বাইরে কেউ বের হতে পারবে না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় প্রতি এক লাখে যদি ৪০ জন বা এর বেশি মানুষ করো’নায় আ’ক্রান্ত থাকে তবে সেটাকে রেড জোন বলা হবে। তিন জনের বেশি কিন্তু ৪০ জনের কম থাকলে ওই এলাকাকে ইয়েলো জোন বলা হবে।এক বা দু’জন বা কেউ না থাকলে সেটাকে গ্রিন জোন বলা হবে। অ্যাপের মাধ্যমে এলাকা ভিত্তিক জোন চিহ্নিত করা থাকবে। আ’ক্রান্তরা সুস্থ হয়ে গেলে, রেড জোন পর্যায়ক্রমে ইয়েলো ও গ্রিন হবে।

রেড জোনে শুধু ফার্মেসি, হাসপাতাল, নিত্যপণ্যের দোকান খোলা থাকবে। কাঁচাবাজার, রেষ্টুরেন্ট, চায়ের দোকান, শপিংমলসহ সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।আ’ক্রান্ত রোগীদের বাড়িতে খাদ্যসামগ্রী ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী পৌঁছে দেয়ার জন্য স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী কাজ করবে। আ’ক্রান্ত রোগীকে আইসোলেশনে রাখা এবং আ’ক্রান্ত রোগীর পরিবারকে কোয়ারেন্টিনে রাখাও নিশ্চিত করা হবে।

রেড জোনে জনসমাগম রুখতে কাঁচাবাজার বন্ধ রেখে ভ্রাম্যমাণ ভ্যান ও মা’থায় ঢুলি নিয়ে চলা ফেরিওয়ালাদের পণ্য বিক্রি করতে দেয়া হবে। লকডাউন নিশ্চিত হচ্ছে কি না তার জন্য পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক মনিটরিং কমিটি করা হবে।

লকডাউন বাস্তবায়ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সংশ্লিষ্ট এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নেবে।

ইয়েলো জোনে কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেয়া হবে। এক্ষত্রে পুরো এলাকা লকডাউন না করে করো’না আ’ক্রান্ত রোগীদের বাড়ি লকডাউন নিশ্চিত করা হবে। স্বাস্থ্যবিধি কড়াভাবে পালন করতে হবে বাসিন্দাদের।

যেকোনো ধরনের জনসমাগম রোধে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী বা ওয়ার্ড কমিটি পর্যায়ক্রমে টহল দেবে। প্রয়োজনে এসব এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আ’দালত পরিচালনা করা হবে। এখানে ফার্মেসি, হাসপাতাল ও কাঁচাবাজার খোলা থাকলেও অন্য সব বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

গ্রীন জোনে কিছু বিষয়ে কঠোরতা বজায় রাখা হবে। করো’না আ’ক্রান্ত কোনো রোগী এই এলাকায় ঢুকতে না পারে তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে। এখানে কেউ আ’ক্রান্ত হলে তাকে প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে রাখা হবে। যাতে এই এলাকায় ভাই’রাসের সংক্রমন না বাড়ে।

করো’নাভাই’রাসের কারণে টানা ৬৬ দিন বন্ধের পর গত ৩১শে মে থেকে সরকারি-বেসরকারি অফিস চালু হয়েছে। এরমধ্যেই বাড়ছে করো’না ভাই’রাসের সংক্রমন। সংক্রমন ঠেকাতে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। ওই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই রেড জোনগুলোতে লকডাউনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

জোনভিত্তিক লকডাউনের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী: করো’না ভাই’রাসের অধিক সংক্রমণ এলাকাকে ‘জোনভিত্তিক’ লকডাউনের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতথ্য জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইস’লাম।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা’র বৈঠক শেষে সচিব জানান, কোনো এলাকায় যদি অধিক সংক্রমণ থাকে সেই এলাকাকে যদি

স্পেশালি নিয়ন্ত্রণে নেয়া যায়, সে বিষয়ে মাননীয়? প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিয়েছেন। সেটা এডমিনিস্ট্রিটিভ ওয়েতে করে ফেলতে পারবে আগামীকালই (মঙ্গলবার)। আমাদের যে সংক্রামক ব্যাধি আইন আছে, এটা সেই আইনের মধ্যে দেয়া আছে। সেই অনুযায়ী বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অথরাইজড।