লোড বন্ধ করুন
  • আজঃ শনিবার, ১৬ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৯শে জানুয়ারি, ২০২২ ইং

আল্লাহ যেন কোন শত্রুকেও এই যন্ত্রণাদায়ক রোগ না দেন

মুক্ত কলামঃ


ইতোমধ্যে সৌদিআরবের মসজিদগুলোতে আবার জামাতে নামাজ আদায় শুরু হয়েছে। আমি বিছানায় শুয়ে আছি। মসজিদ হতে মাইকে মাগরিবের নামাজের আওয়াজ ভেসে আসছে। ইমাম সাহেব সুরা ফাতিহা পড়তে পড়তেই কান্নায় ভেংগে পড়লেন। তিনি কান্না করছেন আর কিরাত পড়ছেন।

খুলে দেয়ার পরও জেদ্দায় কাল থেকে মসজিদগুলো আবারো বন্ধ করে দিবে বলেছে। হয়তো রিয়াদেও আবারো এমন করতে হতে পারে। আজকের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে রিয়াদের ক্রমবর্ধমান করোনার খারাপ পরিস্থিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইমাম সাহেব হয়তো আবারো এমন পরিস্থিতির স্বীকারের চিন্তা করেই কাদছিলেন।

কবে ফিরে আসবে আবার স্বাভাবিক পরিস্থিতি? কবে?

চরম বাস্তবতার কারণেই কোথাও কোন হাসপাতালে বেড খালি নেই। এমনকি মর্গেও লাশ রাখার যায়গা নেই। চারদিকে হাহাকার। এমন বাস্তবতায় আত্মীয় পরিজনহীন এই প্রবাসে আমাদের অত্যন্ত সাবধানতা অবলম্বন ছাড়া কোন উপায় নেই। যাই উপার্জন করেন তার সব বাড়িতে না পাঠিয়ে এখানে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে চলাফেরা করার জন্য অর্থকড়ি রাখুন।

কিছু ফলফলাদি খাবার তালিকায় রাখেন, মাস্ক- হ্যান্ড সেনিটাইজার কিনেন। বয়স যাদের চল্লিশের উপরে , যাদের ডায়াবেটিক ও প্রেশারের বেমো আছে তারা অত্যন্ত সাবধান হোন, জনসমাগম এড়িয়ে চলুন।

আলিমগণ বলেছেন এই পরিস্থিতিতে কেউ যদি মসজিদে নিরাপদ মনে না করেন তাহলে তিনি মসজিদে না গেলেও কোন ক্ষতি নেই। নিজের স্ত্রী পরিজন ছাড়া এখানে অসুস্থ হলে যে কি পরিমান কষ্ট হয় তা হয়তো ভুক্তভোগীই জানেন।

আমিতো ভাই আক্রান্ত হবার পরে চিকিৎসা নিচ্ছি, কয়জনেরই বা তা জোটে? যদিও আমার বেচারি নিজেও আক্রান্ত হয়ে ছোট ছোট দুই বাচ্চা নিয়ে ঘরেই আছে। কোথায় যাবে? এখানে তো কেউ নেই? মায়ের আচলের সাথে লেপ্টে থাকা বাচ্চাগুলাও হয়তো এতদিনে আক্রান্ত । সব আল্লাহর ইচ্ছা। আমার কিংবা কারো আসলে কিছু করার নেই। আর অসহায় প্রবাসীদের কথা কি বলবো?!

আসলে এতো বড় ঢেউ সামাল দিতে পৃথিবীর সব সরকারই হিমশিম খাচ্ছে। তাই নিজের নিরাপত্তা নিজেই নিন।

সবচেয়ে জরুরী একটা কথা বলি; হায়াত মওতের মালিক আল্লাহ। নিজের পাসপোর্ট – ইকামার কয়েক সেট ফটোকপি নিজের কাছে ও রুমে রাখতে ভুলবেন না। আর বাড়িতেও এগুলোর ছবি এবং এখানকার কাছের বন্ধুদের নাম্বার দিয়ে রাখবেন। অন্তত মরার পর হলেও যেন বে-ওয়ারিশ হিসেবে না থাকতে হয়। শুধু এটুকু বলতে চাই এখন করোনা কিংবা এছাড়াও অন্যান্য কারণে মৃত্যুর হার এতো বেশি যা আগে কখনো দেখা যায়নি।

আল্লাহ যেন কোন শত্রুকেও এই যন্ত্রণাদায়ক রোগ না দেন এই প্রার্থনা করি।

লিখেছেন-
লিগ্যাল এসিস্ট্যান্ট , লেবার উইং
বাংলাদেশ দুতাবাস, রিয়াদ,সউদি আরব ।