লোড বন্ধ করুন
  • আজঃ শুক্রবার, ৮ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২১শে জানুয়ারি, ২০২২ ইং

ফুলগাজীতে যৌতুক ও পারিবারিক জেরে গৃহবধূকে হত্যা

কাজী নজরুল ইসলাম (ফেনী) প্রতিনিধিঃ


ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার আনন্দ পুর ইউনিয়নের (৫ জুন শুক্রবার ) দুপুরে যৌতুকও পারিবারিক বিরোধের জেরে স্বামী এবং পরিবারের লোক মিলে গৃহবধূকে হত্যা করেছে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। বন্ধুয়া হাজী স্টোর নামক স্থানের ভূঞাঁ বাড়িতে এক গৃহবধূ সালমা আক্তার (১৮) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে ফুলগাজী থানা পুলিশ।

ফুলগাজী থানার এসআই মোঃ আশ্রাফ হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেরে এবং যৌতকের টাকা না পেয়ে আত্নহত্যায় বাধ্য করা হয়েছে। ময়না তদন্তে পর জানা যাবে হত্যা নাকি আত্মহত্যা ।

নিহত সালমার বাবা আবু তালেব জানান, তার মেয়েকে স্বামীসহ শুশুর বাড়ির লোকজন ২ লক্ষ টাকা যৌতক দাবী করে। আমরা তা দিতে না পারায় মেয়েকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে আত্নহত্যার নাটক সাজিয়েছে। ঘটনার পরপর শশুর বাড়ির লোকজন লাশ রেখে পালিয়ে যায়।

বিয়ের সময় তাদের চাহিদা অনুযায়ী আলমারি, ফ্রিজ, খাট, টাকাসহ অন্যান্য সবকিছু পরিশোধ করেছি। এছাড়াও দু-একদিন পর পর আমার মেয়েকে অত্যাচার করে এবং টাকা দেয়ার জন্য আমাদেরকে চাপ প্রয়োগ করছে।

গতকালও আমি মেয়ের স্বামীর জন্য ১০ হাজার টাকা পাঠিয়েছি। যৌতুক ছাড়াও এ পর্যন্ত প্রায় এক লাখ টাকা জোর করে আমাদের থেকে আদায় করেছে। গত কিছুদিন যাবত ২ লাখ টাকা দেয়ার জন্য মেয়েকে এবং আমাকে চাপ দিয়ে যাচ্ছে মেয়ের স্বামী। সে টাকা আমরা দিতে ব্যর্থ হয়েছি। সেজন্য হয়তো আমার মেয়েকে অত্যাচার করে তারা হত্যা করেছে, পরে সেটা আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে।

এ ঘটনায় নিহত সালমার বাবা আবু তালেব বাদী হয়ে স্বামী নজরুল ইসলাম শামিম , ভাই কাউসার, শাকিল এবং শাশুড়ী মায়া আক্তারকে আসামী করে আত্মহত্যায় প্ররোচনায় ফুলগাজী থানা মামলা করেছে।

ফুলগাজী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ কুতুবউদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আত্নহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অপরাধে মামলা হয়েছে। লাশ পোস্টমর্টেমের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট হাতে ফেলে হত্যা নাকি আত্মহত্যা জানা যাবে।