• আজঃ বুধবার, ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

করোনা সময়ে গর্ভবতী ও নবজাত সুরক্ষায় করণীয়

 

নগর২৪ হেলথ ডেস্ক 


পেটের সন্তানকে সুস্থ রাখতে বেশ কিছু বিশেষ পদ্ধতি মেনে চলতে হয় হবু মা’কে। আর তার সঙ্গেই সমান গুরুত্বের বিষয় হল সন্তান এবং তার মা’র ভ্যাকসিনেশন।

সন্তানের জন্ম দেওয়া সব মায়ের কাছেই অতিন্দ্রিয় সুখানুভূতি! কিন্তু যে কোনও মুহূর্তে শিশুর সুরক্ষার বিষয়টিও অত্যন্ত জরুরি। কারণ ডাক্তার দেখানো থেকে শুরু করে মেডিক্যাল টেস্টের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি জড়িয়ে রয়েছে শিশুর সুরক্ষায়। পেটের সন্তানকে সুস্থ রাখতে বেশ কিছু বিশেষ পদ্ধতি মেনে চলতে হয় হবু মা’কে। তা সে হতে পারে স্বাস্থ্যসম্মত খাওয়া-দাওয়া, সন্তানের জন্ম পূর্বকালীন ওয়ার্কআউট বা মেডিকেশন, চিকিৎসা সংক্রান্ত ক্লাস বা পারফেক্ট মা হওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শগুলি ঝালাই করে নেওয়া। আর তার সঙ্গেই সমান গুরুত্বের বিষয় হল সন্তান এবং তার মা’র ভ্যাকসিনেশন। এই বিশেষ ক্ষেত্রেই ডাক্তারের পরামর্শের একটি তালিকা রয়েছে। সেই তালিকা থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট বাদ চলে গেলেই বড়সড় বিপদের সম্মুখীন হতে পারেন একজন মা।

ভ্যাকসিনেশনের হার খুবই কম—

বিষয়টি যেই ভারতবর্ষে কোনও মায়ের অন্তঃসত্ত্বাকালীন ভ্যাকসিনের প্রসঙ্গে আসে, তখনই দেখা যায় এই দিক দিয়ে দেশ অনেকটাই পিছিয়ে। এই বিষয়ে খুবই সীমিত জ্ঞান এবং ভ্যাকসিন সংক্রান্ত তথ্য সম্পর্কে খুবই কম ধারণা আসলে ভারতবর্ষে ভ্যাকসিনেশনের হার অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। আর তার সুদূরপ্রসারী ফল ভোগ করতে হয় অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের। ভারতবর্ষে সবথেকে বেশি যে ভ্যাকসিন-কে এক্কেবারেই গুরুত্ব দেওয়া হয় না, তা হল ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন। আমেরিকায় সেন্টার ফর ডিসিজ কন্ট্রোল ও প্রিভেনশন এবং আমেরিকান কলেজ অফ অবস্টেট্রিসিয়ানস এবং গাইনিকোলজিস্টস-এর তরফে এক্কেবারে বাধ্যতামূলক করে দেওয়া হয়েছে এই ভ্যাকসিন।

অন্তঃসত্ত্বা মহিলার জ্বর—

হবু মায়ের জ্বরের সম্ভাবনা কতটা?
সাধারণ মানুষের রোগের উপসর্গ এবং মরণশীলতার তুলনায় অন্তঃসত্ত্বা মহিলার ক্ষেত্রে মরশুমী জ্বর এবং মহামারী জ্বর অনেকটাই বেশি ঝুঁকিপূর্ণ– এ কথা আমাদের প্রায় সকলেরই জানা। পাশাপাশিই অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় নারী যে শারীরিক বদলের মধ্যে দিয়ে যান, তাতে এই ঝুঁকি আরও বাড়ে। একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীর অনাক্রম্যতা ক্ষমতা শুধু তাঁর নিজের নয় এমনকী বাচ্চার শরীরের উপরও নির্ভর করছে। সন্তানের ৬ মাস বয়স অবধি বিষয়টা ততটাই ঝুঁকিপূর্ণ থাকে। এমনকী সন্তানের জন্মের পরও তার পুষ্টি নির্ভর করে মায়ের দুধের উপরেই– যা সন্তানের অনাক্রম্যতা ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
ইনফ্লুয়েঞ্জার সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি কতটা

অন্তঃসত্ত্বা মহিলার জ্বর হওয়ার রিস্ক থাকে অনেকটাই। হবু মায়ের ইনফ্লুয়েঞ্জা হওয়ার নিশ্চিত ঘটনার গবেষণা থেকে দেখা গিয়েছে যে, অনেকাংশেই ভ্রুণের বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা, নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই সন্তান জন্ম, অতিরিক্ত কম ওজনের সন্তানের জন্ম, এমনকী সিজার করে ডেলিভারি অবধি করতে হয়।

ঘটনাচক্রে ২০০৯-২০১০ সালে H1N1 ইনফ্লুয়েঞ্জা জ্বরের সময়ে দেখা গিয়েছে যে, সাধারণ প্রাপ্তবয়স্ক মহিলাদের থেকে অন্তঃসত্ত্বা মহিলারা যাঁদের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছিল, তাঁদের মৃ্ত্যুর ঝুঁকি ছিল অনেকটাই বেশি। ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের পরই ৬ মাসের কম বয়সের শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি করার হারও ছিল তুলনামূলক ভাবে বেশি।

ভ্যাকসিন কী ভাবে সাহায্য করে?—

এই ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন আদতে মা এবং তাঁর সন্তানকে বেশ কিছু রোগের কবল থেকে বাঁচাতে সাহায্য করে। সুরক্ষার জন্য শিশুরা মায়ের অ্যান্টিবডির উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। ১৯৬০ সালে প্রথম কোনও অন্তঃসত্ত্বা মহিলার উপরে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে দেখা গিয়েছিল, সবদিক থেকেই হবু মা’কে সুরক্ষিত রাখে এই ভ্যাকসিন। এমনকী অ্যাডভাইজারি কমিটি অন ইমিউনাইজেশন প্র্যাকটিসেস (AICP) এবং WHO-র বর্তমান গাইডলাইনেও অন্তঃসত্ত্বা নারীর প্রতিটি পর্যায়ে ভ্যাকসিন দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ফেডারেশন অফ অবস্টেট্রিক অ্যান্ড গাইনিকোলজিক্যাল সোসাইটিজ অফ ইন্ডিয়া (FOGSI)-র তরফে সুপারিশ করা হয়েছে, ইনফ্লুয়েঞ্জার বিরুদ্ধে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিনেশন অত্যন্ত জরুরি। পর্যবেক্ষণে দেখা গিয়েছে যে, যে হবু মায়েরা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন নিয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই সন্তানের জন্ম এবং অতিরিক্ত কম ওজনের সন্তান জন্মের ঝুঁকি প্রায় নেই বললেই চলে।

সবদিক থেকেই হবু মা’কে সুরক্ষিত রাখে এই ভ্যাকসিন।
আর এই কারণেই বেশির ভাগ ডাক্তারই অন্তঃসত্ত্বার প্রাথমিক পর্যায়েই ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন নেওয়ার পরামর্শ দেন। দেশের প্রায় প্রতিটি প্রান্তেই মরশুমী জ্বরের প্রকোপ অনেকটাই থাকে। তাই সে ক্ষেত্রে কোনও ঝুঁকি না নিয়ে আগেভাগেই ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে হবু মায়ের ভ্যাকসিনেশন অত্যন্ত জরুরি। আপনি যদি খুব সম্প্রতিই সন্তানের জন্ম দিয়ে থাকেন, আর ভ্যাকসিন না নিয়ে থাকেন, তাহলে এই মুহূর্তেও ভ্যাকসিন নিলে চলবে। কারণ মায়ের দুধ থেকেই অ্যান্টিবডি সংগ্রহ করবে সদ্যজাত শিশু।

 

প্রতীকী ছবি

 

নিরাপদ ভাবে সুস্থ সন্তানের জন্ম দেওয়ার একটি জরুরি বিষয় হল আপনার কী করণীয় আর কী করা উচিত নয়– ডাক্তারের কাছে সে সংক্রান্ত বিশেষ পরামর্শ নেওয়া। তাই ঘন ঘন ডাক্তারের কাছে চেক আপ করান। ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ভ্যাকসিন অতি অবশ্যই নিন। তবেই আপনি সুস্থ সন্তানের জন্ম দিতে পারবেন এবং আপনি নিজেও সুস্থ থাকবেন।

আর্টিকেল লেখায় – ডাক্তার ব্রততী ভট্টাচার্য।

এই আর্টিকলটি লিখেছেন MD, DGO, FICOG ডাক্তার ব্রততী ভট্টাচার্য। ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে গাইনিকোলজিস্ট এবং ল্যাপ্রোস্কপিক সার্জেন হিসেবে কাজ করছেন ব্রততী দেবী। বর্তমানে তিনি ভাগীরথি নেওটিয়া উইমেন্স অ্যান্ড চাইল্ডকেয়ার হসপিটাল এবং কলাম্বিয়া এশিয়া হসপিটালে প্র্যাকটিস করছেন।

সতর্কতা :
ডাক্তারদের ব্যক্ত করা এই ধারণা এবং মতামত সম্পূর্ণ ভাবে তাঁদের নিজস্ব এবং প্রফেশনাল জাজমেন্ট থেকেই। তাঁদের মতামতের সঠিকতা সংক্রান্ত বিষয়ে আমাদের কোনও দায় নেই। ফিজিশিয়ানদের পরামর্শের পরিবর্তে বিষয়টাকে কখনও বিবেচনা করা উচিত নয়। আরও বিস্তারিত পরামর্শের জন্য আপনার ফিজিশিয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

এই আর্টিকলটি Abbott India’s Mothers Against Influenza initiative দ্বারা এবং Times Internet-এর Spotlight টিম কর্তৃক প্রকাশিত।