• আজঃ বুধবার, ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

ফেনীর নুসরাত জাহান রাফির মৃত্যু বার্ষিকীতে মেঝো ভাইয়ের আবেগঘন স্ট্যাটাস

পবিত্র জুমার দিনে আজ আমার একমাত্র বোন নুসরাত জাহান রাফির (প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী)

প্রিয় নুসরাত! প্রিয় বোন আমার। তুই কি আমার বাকরুদ্ধ চিৎকার একটু হলেও শুনছিস… আমার চোখের সামনে সেই ১০৮ ঘন্টা বার বার ভেসে উঠছেরে আজ।কি যন্ত্রনা,কী আর্তনাদ! ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে তোর শেষ সময়টুকু।

তুই হারিয়ে যাওয়ার একটি বছর পূর্ণ হলো আজ।
জীবনের এই বাস্তবতায় ভালো থাকার ভান করে এখনো বেচে আছি! আসলেই কি ভালো আছি?

স্নেহের বোনকে রেখে হাসছি,খাচ্ছি ,কাজ করছি!
প্রিয় বোন… যখন কাজ শেষে নিজের মুখোমুখি হই, আর ভান করতে পারি না ৷ বুকের ভেতর দগদগে ক্ষতগুলো কেবলই জ্বলতে থাকে ৷

ভালোবেসে শ্রদ্ধা করে এখন আর কেউ বলে না – ভাইয়া,আজ কী আপনার শরীরটা ভালো আছে?
জমাট বাঁধা হাজার রঙের কথা উথলে উঠে বুকের চিনচিন ব্যথায়।

কিছু ভালোবাসা ভাষায় কখনো প্রকাশ করা যায় না। কিন্তু অনেক বেশি অনুভব করা যায়। আমার বোনের সাথে আমার সম্পর্কটা অনেকটাই তেমনই।

যদি গল্প বলার মতো করে বলতে পারতাম, তাহলে হয়তো হৃদয়ের জ্বালা কিছুটা মিটতো।

এইতো সেইদিন ভিডিওও কলে কথা হলো,ভাইয়া আপনাকে খুব মিস করছি, আচ্ছা আপনার সাথে কখন দেখা হবে, আপনি কবে দেশে আসবেন, কবে আপনার হাসি মাখা মায়া মুখটি দেখতে পাবো, আমি কিছুটা মৃদু হেসে অভয় দিয়ে বললাম তোকে ছাড়া অনেকটা নিভৃতে কেটে গেছে প্রবাসজীবনের বছরগুলো।ইনশাআল্লাহ শীঘ্রই আসবো।

কিভাবে বা জানতাম পরবর্তী ভিডিও কলে তোকে
আইসিইউর বেডে দেখতে পাবো।
তোর অসহ্য শারীরিক যন্ত্রণার চিৎকারে
মা বাবার দুই চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে।
কি হতভাগ্য ভাই আমি,ফোনের এ প্রান্ত থেকে নিজের চোখ দিয়ে ঝরছিল আবিরাম অশ্রুধারা।

লুকিয়ে কান্না করা ছাড়া আর কিছুই করতে পারিনি।
রক্তের বোনের সঙ্গে এত দূরে থেকে মুখে কথা বলতে না পারলেও চোখের পানিতে নিজের কষ্টের অনুভূতির বহিঃপ্রকাশের বৃথা চেষ্টা , কথাবিহীন চোখের পানির বিদায়বেলার অন্তিম দৃষ্টির সেই দুঃখের অনুভূতি লিখে বোঝানো সম্ভব নয়,

আজ বাংলাদেশসহ পৃথিবীর মানুষ তোকে মনে রেখেছে বোন আমি বিশ্বাস করি তুই জান্নাত থেকে সব দেখছিস,

আজীবন তোকে মিস করব।তোকে ভুলে যাওয়া কখনো আমার পক্ষে সম্ভব না, দিনের আলো যখন অন্ধকারের দিকে ধাবিত হয় কেনো যেনো তখন তোকে বেশি করে কাছে পেতে ইচ্ছে হয়। প্রতিদিন সন্ধ্যায় বুকের ভেতরটায় শুরু হয় কষ্টের ডুবসাঁতার। আমি ক্লান্ত হয়ে যাই বোন।

অবসাদ আর বিষাদিত সন্ধ্যা আমাকে ঘিরে ধরে। কেউ বুঝবে না, তুই আর বাংলাদেশটা আমার কাছে কতো প্রিয়। পারিনা বোন, একটি রাতও তোকে ছাড়া থাকতে পারি না। অনেক কষ্টে কাটছে দিন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে হয়।

প্রতিনিয়ত তোকে কাছে পাবার ইচ্ছে হলেও এখন আর ছু’তে পারি না । তোকে আর দেশকে যে কতটা ভালোবাসি, প্রবাসে না এলে তা হয়তো জানা হতোনা কোনো দিনই। রাতের নক্ষত্রগুলো তোর কথা বারবার মনে করিয়ে দেয়। খেতে বসলে তোর কথা ভেবে চোখে জল আসে।

তোর মত শহীদার ভাই হতে পারায় আমি অনেক ভাগ্যবান। সারা বিশ্ব আজ একজন নুসরাতকে স্মরণ করছে। কন্যা সাহসিকা বলে উপাধি দিয়েছে। শ্রদ্ধা জানাচ্ছে।

প্রতিবাদীর প্রতীক হিসেবে বাংলাদেশের লাল সবুজে উজ্জ্বল নক্ষত্রে অঙ্কন করছে। আমি পুরো দেসবাসীর কাছে আমার প্রিয় বোনের জন্য দোয়া প্রার্থনা করছি… আমার বোনকে যেন মহান আল্লাহ তায়ালা জান্নাতের উচ্চ মকাম দান করেন৷