• আজঃ সোমবার, ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

একটা দেশ হলো একটা পরিবারের মতো

একটা দেশ হলো একটা পরিবারের মতো। একটা পরিবারে যখন দুর্যোগ আসে তখন পরিবারের সকল সদস্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দুর্যোগ মোকাবেলা করতে শিখতে হয়। পরিবারের কেউ দুর্যোগের গুরুত্ব না বুঝলে বড়রা বা দায়িত্বশীলরা তাদেরকে বুঝাবে। এরকম দুর্যোগে পরিবারের উপর আর্থিক চাপও চলে আসে। এই আর্থিক চাপ সামলাতে হয় সকলকে। ভেবে দেখুন তো দুর্যোগের সময় আপনার পরিবারের বাজার খরচের টাকা কি আপনি যাচ্ছেতাই ভাবে খরচ করবেন না আপনি যতটা ব্যয় সংকোচন করা দরকার ততটা করবেন??

আমাদের দেশটাও একদম হুবহু এই পরিবারের মতোই। আমরা একটা দুর্যোগের মাঝ দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের আর্থিকভাবে যেমন দূরদর্শী হতে হবে তেমনি সরকারকে সাহায্য করার জন্য যা যা দরকার সবকিছু করতে হবে। সরকার কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নয়। আমরাই সরকারের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ। দেশের টাকা, সম্পদ এগুলোর যথেচ্ছ ব্যবহার আমরা এখন করতে পারবো না। আমাদের সেই বিলাসিতা করার সময় নয় এখন।

এতকিছু বললাম কারণ একটা খবর দেখে খুব মন খারাপ হলো। বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় টিভিতে ৬ষ্ঠ-১০ম শ্রেণির পাঠদানের রেকর্ডিং ব্যয় নাকি ১৬ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। যেখানে বড় বড় দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জুম, গুগল হ্যাংআউট, ক্লাসট্রি, এভারনোট ইত্যাদি অনলাইন শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মে ফ্রিতে ক্লাস/পরীক্ষা নিচ্ছে সেখানে আমরা শুধুমাত্র ভিডিও রেকর্ডিং-এ ১৬ কোটি টাকা কীভাবে কোন যুক্তিতে ব্যয় ধরি??

বরং সরকারের তরফ থেকে আমরা ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার এবং সেলুলার কোম্পানিগুলোকে বলে দিতে পারি তারা যেনো এই এক মাস অন্তত শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টারনেট প্যাকেজ স্বল্পমূল্যে বাজারে ছাড়ে। পাবলিক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্দান্ত কিছু ক্লাসরুম আছে যেখানে শিক্ষকরা বিনামূল্যে তাদের সিলেবাসের ক্লাসের রেকর্ডিং করতে পারবে।

দরকার শুধু কর্তৃপক্ষ থেকে উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে একটা অফিশিয়াল চিঠি যাওয়া। ক্যামেরা, প্রজেক্টরসহ সকল আনুষাঙ্গিক কিছুর দাম ধরলেও তো ১৬ কোটি টাকা লাগার কথা না। শিক্ষকরা ভিডিও লেকচারগুলো ইউটিউবের একটা কমন চ্যানেলে আপলোড করে দিবে।

শিক্ষার্থীদের কোনো প্রশ্ন থাকলে সেগুলো পরবর্তীতে একত্র করে আলাদা ফাইল আকারে ভিডিও প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে ঐ চ্যানেলেই আপলোড করবে। খুব সহজ। শুধু দরকার সরকারকে সহযোগিতা করার একটু স্বদিচ্ছা।

এই মুহূর্তে সকল ব্যাপারে আমাদের কৃচ্ছতা সাধন করা অত্যন্ত জরুরি। সঠিক খাতে খরচ করতে হবে এই বিপদের দিনে। সরকারকে আমরা অহেতুক খরচের মাঝে না ফেলি। পরিবারের এক টাকা বাঁচলেও দুর্দিনে সেটা ১০০টাকার সমান হয়। এই লেখা আমার শ্রদ্ধেয় কোনো স্যার বা নীতিনির্ধারক দেখলে একটু বিবেচনা করবেন দয়া করে।

Writer: Arafat Mohammad Noman