• আজঃ বুধবার, ৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

তুরুস্কে দর্শনীয় ও পবিত্র স্থানে ভালোলাগার অনুভূতি

 তুরস্কে চার বছর শিক্ষা জীবনে অনেক দর্শনীয় ও পবিত্রস্থানে গেলেও আবু আইয়ুব আনসারি (রা.) সমাধিতে ভালোলাগার অনুভূতি মনে থাকবে আজীবন।
হজরত আবু আইয়ুব আনসারি (রা.)। ইসলামের অন্যতম বীরযোদ্ধা। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত যুদ্ধ করেছেন ইসলাম প্রতিষ্ঠা ও প্রসারের জন্য। অংশ নিয়েছিলেন ঐতিহাসিক সব যুদ্ধে। এর চেয়েও বড় পরিচয়; তিনি ছিলেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর ঘনিষ্ঠ সাহাবি। নবীজীর (সা.) অনেক ইতিহাসের সাক্ষী। তিনি সেই সৌভাগ্যবান সাহাবি, হিজরতের পর মদিনায় যার বাসায় মেহমান ছিলেন নবীজী (সা.)।

শাওয়াল মাসে ৬টি নফল রোজা রাখার সহি হাদিসটি তার কাছ থেকেই পাওয়া। তিনি ১৫০টি হাদিস সংগ্রহ করেছিলেন। মদিনার বনু নাজ্জার বংশোদ্ভূত আবু আইয়ুব আনসারির শেষ আশ্রয় হয়েছিল তুরস্কের ঐতিহাসিক শহর ইস্তাম্বুলে। তুরস্কে তিনি পরিচিত আয়ুপ সুলতান নামে।

বাস থামে মাজারের পেছনের অংশের পার্কিংয়ে আমরা ঢুকলাম সে পথ দিয়ে। পাথরের টাইলস বসানো আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ। চারপাশসহ পাহাড় টিলার ওপর পর্যন্ত পাথরে বাঁধানো শত শত নতুন-পুরোনো সমাধি। মহনবীর (সা.) সহচরের কাছাকাছি দাফনের আগ্রহ জানানো ওসমানীয় সাম্রাজ্যের অনেক শাসক ও পরিবারের সদস্য এবং কর্তাব্যক্তি এখানে সমাহিত।

সেই ধারায় বর্তমান তুরস্কের জনপ্রতিনিধি, বিচারক, আমলা, সামরিক কর্মকর্তা ও বুদ্ধিজীবীদের অনেকে শায়িত ইস্তাম্বুলের প্রাচীনতম এবং বৃহত্তম এ কবরস্থানে। প্রতিটি সমাধির মাথায় প্রস্তরফলকে তুরস্ক ও আরবিতে লেখা মৃতব্যক্তির জীবনের গল্প। আগে দেখিনি মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল এত সুন্দর ও শৈল্পিক হতে পারে।

মার্বেল পাথরের গাঁথুনির অনেক উঁচু দরজা পার হয়ে ভেতরের চত্বরে ঢুকলাম। বর্গাকার চত্বরের একদিকে আয়ুপ সুলতান মসজিদ, বিপরীত দিকে হজরত আবু আইয়ুব আনসারি (রা.) মাজার। চত্বরের মাঝখানে লোহার ঘেরে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি প্রাচীন অশ্বত্থ গাছ। চত্বরজুড়ে স্থানীয়সহ বিশ্বের নানা জায়গার পুণ্যার্থীদের জটলা। সপ্তাহান্তে এবং ধর্মীয় ছুটির দিনে লোকে লোকারণ্য থাকে, ছুটি না থাকায় নিরিবিলি পরিবেশ পেলাম আমরা।

জিয়ারতের জন্য দু’রাকাত নফল নামাজ পড়তে প্রথমে ঢুকলাম মসজিদে। ভেতরের পুরো চত্বরজুড়ে তুরস্কের ঐতিহ্যবাহী গালিচা, দৃষ্টিনন্দন বিশাল ঝাড়বাতি, কারুকাজের গম্বুজ ও মিম্বার-অটোমন স্থাপত্যশিল্পের প্রতিচ্ছবি। পুণ্যার্থীদের কেউ নামাজে, কেউ তেলাওয়াতে মগ্ন। নামাজ শেষে গেলাম সমাধির দিকে।

লেখায় : আমান উল্লাহ ভূঁইয়া

নিয়মিত আপডেট পেতে “প্রবাস জীবন” ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন