• আজঃ মঙ্গলবার, ১২ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৭শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

আজ ফাঁকা শহর – আয়শা মুমিন (পর্ব-২)

“গল্প: আজ ফাঁকা শহর”
আয়শা মুমিন (২য় পর্ব)


সকালে কুদরত মিয়া ডেকে ঘুম ভাঙালো।
: পার্থ ভাই,বিকেলে একটা ম্যাডাম আইছিলো। এই চিঠিটা আপনারে দিতে বলছে।
: নাম বলেছে মেয়েটা??
: হ্যাঁ,নাম অঞ্জনা।
: ঠিক আছে,তুমি যাও।
ঘুম ঘুম চোখে চিঠি পড়তে মন চায় না। পরে পড়বো। কাল লকাপে ছিলাম। আজও যদি বের হই তাহলে আবার লকাপে ডুকতে হবে। নাহ,আজ আর বাইরে বেরুবো না। ঘরে শুয়ে থেকে বরং অঞ্জনার চিঠিটা পড়া যাক।

চিঠি;
পার্থ, আমি জানি তোমাকে পাবো না।তাই চিঠিটা লিখে নিয়ে গিয়েছিলাম। কুদরত মিয়ার কাছে রেখে এসেছি। তুমিতো সময় অসময় বুঝো না। কাজের কথায় আসি। সৌরভের এক বোন চারদিন থেকে নিখোঁজ। নাম সামান্তা। মেয়েটার একটা ছবি কুদরত মিয়ার কাছে রেখে এসেছি। তুমিতো রাস্তায় রাস্তায় হেটে বেড়াও হিমুর সন্ধানে। কোথাও যদি এই মেয়েটার দেখা পাও,আমাকে জানিও।

যতই লকডাউন হোক না কেনো,আমি জানি তুমি লকডাউন মানছো না। আগের মতোই ঘুরে বেড়াচ্ছ। তোমার ঐ অকারণিক হাটাকে একটা কারণ দিয়ে দিলাম। পত্রিকা অফিসসহ সবকিছু বন্ধ। কোথাও হারিয়ে যাওয়ার বিজ্ঞপ্তি দেয়া যাচ্ছে না। তোমার কাজ হলো মেয়েটিকে খুঁজে বের করা। খোঁজ পেলে আমাকে জানিও।
ইতি
অঞ্জনা;

আর যাই হোক,বাইরে বেরুনোর একটা কারণ পেয়ে গেলাম। কিন্তু আজ বাইরে যেতে মন চাইছে না। অঞ্জনার কাছ থেকে আজ প্রথম কোনো চিঠি পেলাম। এই মেয়েটা দেখতে যতটা কোমল,মন ততটা কোমল নয়। ভারী শক্ত। গলানো কঠিন। আদেশমূলক হোক আর শাস্তিমূলক হোক,এরকম মেয়ের কাছ থেকে চিঠি পাওয়াটা ভাগ্যগুণ বলতে হয়। রূপবতী মেয়েদের লেখা কঠিন হলেও বার বার পড়তে মন চায়। ভাষা রুক্ষ হলেও বার বার শুনতে ইচ্ছে জাগে।

দু সপ্তাহ পর অঞ্জনার আরেকটি চিঠি পেলাম। দু লাইনের চিঠি,খামহীন।
পার্থ, দু সপ্তাহ হয়ে গেলো কোনো খবর দিলে না। যে কাজটা দিয়েছিলাম সেটা করেছো? কিছু জানতে পেরেছো কিনা পরের চিঠিতে জানিও।
ইতি


“গল্প: আজ ফাঁকা শহর”
আয়শা মুমিন
( চলমান)