• আজঃ বুধবার, ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

১০ হাজার উট গুলি করে হত্যা করলো অস্ট্রেলিয়া

অতিরিক্ত পানি ও খাদ্য সাবাড় করার কারণে অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের ১০ হাজারেরও বেশি উটকে গু’লি করে মে’রে ফেলার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা শুরু হয়েছে। আদিবাসীদেরকে বাঁচাতে উটগুলোকে মে’রে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এক আদিবাসী নেতার কাছ থেকে এ বিষয়ে আদেশ আসার পর উটগুলো মা’রার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ওই হ’ত্যাযজ্ঞের প্রথমদিনে বৃহস্পতিবার (০৯ জানুয়ারি) দেড় হাজার উটকে প্রশিক্ষিত স্নাইপার দিয়ে আকাশ থেকে (হেলিকপ্টার থেকে) গু’লি করে মারা হয়েছে। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার আনানজু পিতজানৎজাতজারা ইয়ানকুনিৎজাতজারা ল্যান্ডস (এওয়াইপি) এলাকায় এই হ’ত্যাযজ্ঞ চলছে।

ওই এলাকায় ২,৩০০ জন আদিবাসীর বাস রয়েছে। উট হ’ত্যা করার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার ওই এলাকা প্রচণ্ড খরাপ্রবণ। সেখানে স্বাভাবিকভাবেই খাদ্য ও পানির সংকট থাকে। আর এবার পুরো অস্ট্রেলিয়াজুড়ে ব্যাপক দাবানলে পরিস্থিতি আরো ভ’য়াবহ আকার ধারণ করেছে।

এমতাবস্থায় উটগুলো প্রচুর পরিমাণে পানি পান করায় সেই সংকট আরও মা’রাত্মক রূপ নিয়েছে। দেশটির জাতীয় বন্য উট ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বিভাগের দাবি, এই উটদের সংখ্যা যদি নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তাহলে প্রতি নয় বছরে সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যাবে।

বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্যও উট দায়ী। কার্বনডাই অক্সাইড নিয়ন্ত্রণে কাজ করা কার্বন ফার্মিং স্পেশালিস্টস রিজেনকোর প্রধান নির্বাহী টিম মুরে বলেন, এক মিলিয়ন উট প্রতিবছর এক টনের সমপরিমাণ কার্বন নিঃসরণের জন্য দায়ী। অর্থাৎ, ৪ লাখ গাড়ি থেকে যে পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ হয়, সেই পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড সৃষ্টির জন্য দায়ী উট।

উট অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় প্রাণী নয়। ১৮৫০ সালের দিকে অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম উট নিয়ে গিয়েছিলো ইউরোপীয় অভিযাত্রীরা। বর্তমানের অস্ট্রেলিয়ায় সবচেয়ে বেশি উট বিচরণ করছে। দেশটির আভ্যন্তরীন মরুভুমি অঞ্চলে অন্তত ১০ লাভ উট বিচরণ করছে। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ায় দা’বানলে এখন পর্যন্ত অর্ধশতাধিক মানুষ সহ ৫০ কোটি বন্যপ্রাণীর মৃ’ত্যু হয়েছে।

•সুত্র- বার্তা বাহক