• আজঃ মঙ্গলবার, ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

সিঙ্গাপুরে সব মসজিদ বন্ধ থাকবে ৫ দিনের জন্য

সিঙ্গাপুর হলো অসাম্প্রদায়িক ও শান্তিপূর্ণ একটি দেশ৷ এখানে প্রত্যেক ধর্ম বিশ্বাসীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের স্ব-স্ব ধর্ম পালন করে৷ ধর্মে অবিশ্বাসীরাও স্বাধীনভাবে বসবাস করে। এই দেশে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ির সুযোগ নেই৷ এখানে মানুষের মাঝে সম্প্রতি ভালবাসা লক্ষনীয়। এক ধর্মের মানুষ অন্য ধর্মের মানুষকে যতটা শ্রদ্ধা করে যা সত্যিই আমাকে মুগ্ধ করে।

২০১৫ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী সিঙ্গাপুরে মোট জনসংখ্যার ১৪ ভাগ মানুষ ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী ও বৌদ্ধ ৩৩.২ ভাগ, খ্রিস্টান ১৮.৭ ভাগ, ধর্মে অবিশ্বাসী ১৮.৫ ভাগ, তাওসম এবং ফলক ধর্মাবলম্বী ১০ ভাগ, হিন্দু ৫ ভাগ ও অন্যান্য ধর্ম বিশ্বাসী ০.৬ ভাগ৷

সিঙ্গাপুরে ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম বিশ্বাসী এবং অবিশ্বাসীরা যেভাবে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছে তা বিশ্বের জন্য অনুকরণীয়।

যাক মূল প্রসঙ্গে আসা যাক,অনেকেই বলছে মসজিদ কেন বন্ধ করল! এর আগে তো গির্জায় করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি সনাক্ত হয়েছিল তবে কেন গির্জা বন্ধ করা হলো না। তাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি৷ তখনও গির্জাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা যে গির্জায় গিয়েছিলেন শুধু সে গির্জাই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল অন্যান্য গির্জা বন্ধ করা হয়নি কারন তারা বলেছিল তারা শুধু একই গির্জায় প্রার্থনা করতে গিয়েছিলেন৷ আর গতকাল দুইজন করোনায় আক্রান্তের মধ্যে একজন বলেছিলেন তিনি চারটি মসজিদে গিয়েছিলেন। তাছাড়া মালয়েশিয়া থেকে যে ৮০ জন ফিরেছেন তারা কোন কোন মসজিদে গিয়েছিলেন তা সরকার এখনো জানেন না৷

যে ইভেন্টে যোগদানকারী অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আর এই কারনেই সিঙ্গাপুর সরকার কোনরকম ঝুকি না নিয়ে বৃহত্তম জনগোষ্ঠীকে রক্ষায় ৫ দিনের জন্য মসজিদ বন্ধ ঘোষণা করেছে। এই ৫ দিন সকল মসজিদ ক্যামিকেল দিয়ে পরিস্কার করা হবে৷ এবং ৫ দিন পর আবার জনসাধারণের ইবাদতের জন্য খুলে দিবেন৷

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী সিঙ্গাপুরে মোট ৭৫ টি মসজিদ রয়েছে। মসজিদগুলো করোনাভাইরাস মুক্ত করার জন্য এই ৭৫ টি মসজিদই ৫ দিনের জন্য বন্ধ থাকবে৷

সিঙ্গাপুরে সব মসজিদ বন্ধ হবার খবর আমরা অনেকেই সহজভাবে নিতে পারিনি।তবে সিঙ্গাপুরীয়ান কয়েকজন মুসলিমের সাথে আলাপ করলে তারা বলেন, “জাতির বৃহত্তম স্বার্থে আমাদের মুফতি ও সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই।এর আগেও কয়েকটি গির্জা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল৷ আশাকরি খুব দ্রুত মসজিদে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে। আমরা আপাতত ঘরেই নামাজ আদায় করব৷”

সিঙ্গাপুরের মানুষ কতটা শান্তিপ্রিয় তার একটি উদাহরণ দিয়ে লেখাটি শেষ করছি,একদিন মসজিদ হাসনায় জুম্মা পড়তে যাই। সেদিন সরকারি ছুটির দিন থাকায় বেশীরভাগ প্রবাসী বাসায় ছিলেন৷ তাই মসজিদে তুলনামূলক বেশী মুসল্লি উপস্থিত হয়৷ জামাত শুরু হবার আগেই মসদিন কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়৷ যারা একটু দেরি করে গিয়েছিলাম আমাদেরকে মসজিদের বাহিরে রাস্তায় নামাজে দাঁড়াতে হয়৷

দুই রাকাত ফরজ নামাজের জন্য যখন নিয়ত করি ঠিক তখনই হালকা বৃষ্টির ছাট পড়তে শুরু করে। সিজদায় যাওয়ার পর জুম বৃষ্টি শুরু হয়৷ নামাজে যেহেতু দাঁড়িয়েছি সেহেতু নামাজ ছেড়ে যাওয়ার উপায় নেই৷ এমনসময় উপলব্ধি করলাম আমার মাথায় পানি পড়ছে না৷ কিন্তু বৃষ্টির শব্দ পাচ্ছি৷ সালাম ফিরিয়ে পিছনে তাকিয়ে দেখি এক চাইনিজ আমার আর আমার পাশের দুইজনের মাথায় ছাতা হাতে দাঁড়িয়ে আছে৷ আমি তার দিকে তাকিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ধন্যবাদ দিলাম৷ তিনি হাসিমুখে বললেন নো প্রবলেম৷ সেদিন তার মহানুভবতা দেখে মুগ্ধ না হয়ে পারিনি৷।