• আজঃ শুক্রবার, ১০ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

কোরিয়ানরা যেভাবে নববর্ষ উদযাপন করে

আজ থেকে কোরিয়ায় শুরু হলো নববর্ষ  উৎসব। শুরু হলো কোরিয়ায় সনলাল ! নামটা শুনেই অনেকে ভাবছেন এ আবার কি? এটি দক্ষিন কোরিয়ার একটি অন্যতম উৎসবের নাম। এটি কোরিয়ার নববর্ষ উৎসব। আজ থেকে শুরু হলো এই উৎসব।

নববর্ষকে বরন করতে পূর্বে থেকেই শুরু হয়েছে নানা ধরনের প্রস্তুতি। পৃথিবীতে বিভিন্ন দেশের মানুষ বিভিন্ন ভাবে তাদের নববর্ষ পালন করে থাকে। দক্ষিন কোরিয়াও তার ব্যতিক্রম নয়।

সাধারণত চন্দ্র মাস অনুযায়ী কোরিয়ানরা নববর্ষ পালন করে থাকে। শীতের দ্বিতীয় চাঁদ উঠার দিন কোরিয়ায় নববর্ষ উদযাপন করা হয়। সে অনুযায়ী আজ ২৫শে জানুয়ারি ২০২০ইং চলছে দেশটিতে চারদিনের রাষ্ট্রীয় ছুটি।

নববর্ষের সকালে কোরিয়ানরা গোসল করে নতুন পোষাক পরে বড়দের সালাম করে, বড়রা ছোটদের উপহার দেয়। ফুল, মিষ্টান্ন ও পিঠা বিনিময় হয় প্রতিবেশীদের সংগে। স্থানীয় ভাষায় এই উৎসবকে বলা হয় সনলাল। পুরনো ঐতিহ্য ও রীতি অনুযায়ী এ দিন তারা ঘরের ভিতরে খড়কুটা, বেলচা, চালুনী ও কোদাল রেখে দেয়।

তারা মনে করে যে, এসকল জিনিসপত্র তাদের পরিবারকে নতুন বছরে শয়তান ও পাপ কাজ থেকে রক্ষা করবে। কোরিয়াতে নববর্ষ শুরুর সময় কেউ ঘুমায় না। তাদের ধারনা এসময় ঘুমালে নাকি তাদের চোখের ভ্রু সাদা হয়ে যায়।

রাত ১২টা বাজার সংগে সংগে টিভিতে ৩৩ বার ঘন্টা বাজানো হয। কোরিয়ার ৩৩ জন বীরের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এটি করা হয়। এদিনের প্রায় সবাই সূর্য্যোদয় দেখে। সূর্য্যের আলো ছড়িয়ে পড়ার সময় একজন আরেকজনকে শুভেচ্ছা জানায়। নতুন পোষাক পরে বন্ধু বান্ধব ও আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে যায়। এ সময় কোরিয়ানদের গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার হিরিক পড়ে।

বাবা-মা সহ পরিবারের সকলে মিলে নববর্ষ পালন করে। পুরো দেশটিতে তখন প্রায় এক সপ্তাহের সরকারী ছুটি ঘোষণা করা হয়। এ দিনকে সামনে রেখে পূর্বে থেকেই মার্কেট ও বিপনী বিতানগুলোতে চলে নানা রকমের আয়োজন। থাকে বিভিন্ন রকমের গিফট আইটেমের ডিসকাউন্ট।

এসময় অফিস, ফ্যাক্টরি ও অন্যান্য জায়গায় কর্মচারীদের বিভিন্ন ধরনের গিফট ও বোনাস প্রদান করা হয়। ঐতিহ্যবাহী হানবুক পোষাক পরে বিভিন্ন জায়গায় নানারকম অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় এবং মুখোশ পরে নৃত্য পরিবেশন করা হয়।

শিশু কিশোররা আনন্দ উল্লাসে দিনটি পালন করে। প্রতিটি বাড়িতেই নানা ধরনের পিঠা ও মজাদার খাবারের আয়োজন করা হয়। আপনাদের শুভেচ্ছা স্বরূপ কিছু কোরিয়ান খাবারের রেসিপি প্রদান করলাম। আশাকরি রেসিপি প্রেমিকরা নিজের বাড়িতে বসেই কোরিয়ান খাবারের স্বাদ নিতে পারবেন।

এসময় এদেশের প্রবাসী বাংলাদেশীরাও ছুটির আনন্দে বন্ধু বান্ধবের বাসায় বেড়ানো, কেনাকাটা এবং বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানগুলোতে ভ্রমণ করে থাকে। অনেকে আবার এই ছুটিতে তাবলীগ জামাতে অংশগ্রহণ করে থাকে।

পৃথিবীতে বিভিন্ন দেশের মানুষ বিভিন্ন সময়ে নিজেদের বর্ষবরন পালন করলেও এর লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য কিন্তু একই। প্রত্যেকেই চায় নতুন বছরটা তার ও পরিবারের সকলের জন্য বয়ে আনুক অনাবিল সুখ ও শান্তি। আমরাও তাই প্রত্যাশা করি পৃথিবীর সমস্ত মানুষই সুখে থাক শান্তিতে থাক। এই কামনায় এবং কোরিয়ানদের নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে আজ এখানেই।

দক্ষিণ কোরিয়া থেকে
নিজস্ব প্রতিবেদক