• আজঃ মঙ্গলবার, ১২ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৭শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

দাবানল জ্বলছে , অস্ট্রেলিয়া পুড়ছে, মরছে বনের পশু

আমরা বড় অসহায় , তার চেয়ে বিপন্ন অসহায় হয়েছে প্রাণীকুল । বলছি অষ্ট্রেলিয়ার প্রকৃতির অগ্নি বিলাস নিয়ে । এখানে প্রচন্ড তাপমাত্রার দাবদাহে সংঘটিত হয় এই ভয়ংকর দানানল । এ মহাদেশে প্রায় ত্রিশ হাজারের মতাে বিভিন্ন জাতের ইউক্যালিপটাস গাছ রয়েছে , যা খুবই শুষ্ক । প্রতি বছর গ্রীষ্মকাল আসলেই প্রচন্ড উত্তাপে আগুনের এ লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে বনজঙ্গলে বিশেষ করে এ প্রজাতির গাছের শুষ্ক স্বভাবের জন্য । | অস্ট্রেলিয়ায় প্রতি বছরই দানানল হয় , কিন্তু এবার সাম্প্রতিক কালের । সকল রেকর্ড ভেঙ্গে দাবানল মারাত্মক আকার ধারন করেছে । প্রায় এক যুগেরও কিছু আগে এরকম দুর্যোগের মুখােমুখি হয়েছিলাে এ মহাদেশ৷ কিন্তু এ বছর এর চিত্র যেনাে সম্পূর্ণ ভিন্ন আর বিধ্বংসী । শুকনাে বৃক্ষরাজি সুর্যের তীব্র রশ্মির থেকে দগ্ধ হয় আর বাতাসের বেগ এই আগুন কে প্রভাবিত করে এক গাছ থেকে অন্য গাছে বিলিয়ে দেয় ।

নিউ সাউথ ওয়েলসের অনেক স্থানে আগুন বেশ শক্ত ঘাঁটি তৈরী করেছে । সিডনি থেকে ক্ল মাউন্টেইন , নউরা , লিথগাে , ক্যাঙ্গারু ভ্যালী ক্যানবেরা খুব একটা দুরে নয়৷ বেশ কয়েকবার গিয়েছি আর উপভােগ করেছিলাম প্রকৃতির উদার সৌন্দর্য । বন্য প্রাণীগুলাে নিশ্চিত হয়ে এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াত , মানুষ দেখলে হরিণ , ক্যাঙ্গারু লাফিয়ে দূরে লুকিয়ে থাকে । আজ তারা এত অসহায় যে , মানুষের কাছেই দৌড়ে চলে আসছে , যে । কোয়ালাগুলাে আপন করে বৃক্ষকে আলিঙ্গন করে জীবন যাপিত করে , সেই বৃক্ষ আজ নিজে ছাই হয়ে তাকে অগ্নিদগ্ধ করে রেখে গিয়েছে । কত নামজানা জীব জন্তু আগুন টের পাওয়ার আগেই জীবন দিল ।

কোথায় যাবে তারা , কে দিবে আশ্রয় ? ৭০হাজার বর্গ কি . মি . মতাে অরণ্য পুড়ছে আর ছাই হচ্ছে । অর্ধকোটির প্রানীকুল ধ্বংস হয়েছে । এ পর্যন্ত ১৮ জনের মতাে জীবনহানি এবং প্রায় ২৮ জনের মতাে নিখােজ৷ দমকল বাহিনী এবং প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকদল জীবন বাজি রেখে আগুন থামানাের প্রচেষ্টায় কাজ করছে , প্রায় ৩ হাজার মার্কিন সৈন্য এবং কানাডিয়ান ফায়ার ফাইটার যােগ দিয়েছে আগুন থামাবে বলে সিডনীর অদূরে অষ্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরার , স্নােয়ি মাউন্টেইন খ্যাত এলাকায় এ মহাদেশের অন্যতম প্রধান বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্নােয়ি হাইড্রো পাওয়ার হাউস ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত । ধারনা করা হচ্ছে , শীঘ্রই এ তান্ডব নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে , বিপর্যস্ত হতে পারে দেশের বিদ্যুত ব্যবস্থা ।

যেহেতু বৃষ্টি একদমই হচ্ছেনা , তাই পানির সংকটেরও আশংকা দেখা দিচ্ছে এবং তাই পানি অযথা ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা করা হয়েছে । | অহেতুক গাড়ী ধােয়া বা বাগানে পানির অপচয়ের উপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন । স্বেচ্ছাসেবক দলকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কোন আহত পশু প্রাণীকে শুশ্রুষা প্রদানের পূর্বে সতর্কতা অবলম্বন করে অবশ্যই গ্লাভস ব্যবহার করতে বলা হয়েছে । কারন এসব আহত পুড়ে যাওয়া প্রানীকুল থেকে ক্লেমেডিয়া নামক ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ আরেক মহামারীর আবির্ভাব হতে পারে ।

এ সকল কিছু পর্যালচনা করে গত সপ্তাহ থেকে নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যসরকার স্টেট জরুরী অবস্থা ঘােষনা করেছে । ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার জনসাধারনকে দ্রুত বাসস্থান ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । বেশীর ভাগ মানুষ সমুদ্র সৈকতের নিকট আশ্রয় নিয়েছে৷ পরিশেষে , বেশ কিছুদিনের দাবদাহ শেষে বৃষ্টির আশায় আকুল ।

প্রানীকুল আজ কিছুটা স্বাদ পেয়েছে বর্ষার৷খুব অল্পমাত্রায় হলেও আবহাওয়াবিদরা আশা করছে খুব শীঘ্রই বৃষ্টিই একমাত্র এনে দিতে পারে প্রশান্তি । সরকারী বেসরকারী বিভিন্ন সংগঠন যে যার অবস্থান থেকে সাধ্যমতাে ত্রাণ সংগ্রহ করে দমকল বাহিনী এবং রাজ্য সরকারের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিচ্ছে দুর্যোগপূর্ণ এলাকায়৷

আয়েশা কলি , সিডনী , অস্ট্রেলিয়ায় ।