• আজঃ বুধবার, ৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

রাজশাহীর তানোরে ভূয়া ডাক্তারের ভূল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু, ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন

সারোয়ার হোসেন,তানোর :


রাজশাহীর তানোরে ভূয়া ডাক্তারের ভূল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু ও ময়নাতদন্ত ছাড়াই রাতারাতি লাশ দাফন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে ওই এলাকাজুড়ে দেখা দিয়েছে চাঞ্চল্যকর অবস্থা ও বিরাজ করছে উত্তেজনা। এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামে।

ঘটনা ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, কৃষ্ণপুর গ্রামের আদিবাসী মৃত কার্তিক কর্মকারের মেয়ে নওমুসলিম খাদিজা ওরুফে আদরী (২৭) চলতি মাসের গত মঙ্গলবার সকালে অসুস্থ হলে ভেটেনারী চিকিৎসক মোবারক আলী ও মোঃ আব্দুল মতিনের ছেলে বখাটে হাবিবুর রহমান হাবু তার বাসায় গিয়ে রুগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে রুগীর শরীরে স্যালাইন দিতে হবে বলে তিনি রুগীর শরীরে স্যালাইন তুলে দেন ও চিকিৎসকের সাথে থাকা বখাটে হাবিবুর রহমান হাবু রুগী খাদিজা কে ইনজেকশন ফুঁড়ে দেন।

তার কিছুক্ষন পরেই রুগী খাদিজা বুক জলছে বুক পুড়ে যাচ্ছে বলে ছটপট করতে লাগে। তখন চিকিৎসক মোবারক আলী ও হাবিবুর রহমান হাবু ভূল চিকিৎসা ও ইনজেকশন দেয়া হয়েছে বলে দ্রুত স্যালাইন খুলে রুগী খাদিজাকে কৃষ্ণপুর বাজারে আরেক ডাক্তার রেজাউল ইসলামের কাছে নিয়ে গেলে তিনি রুগীর অবস্থা গুরুতর দেখে সরকারি মেডিকেলে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এতে করে রুগী খাদিজাকে সেখানেই ফেলে মৃত খাদিজার ঘর থেকে প্রায় ৪লক্ষ টাকা নিয়ে সটকে পড়েন ভূয়া ডাক্তার মোবারক আলী ও বখাটে হাবিবুর রহমান হাবু।

এ সময় উপস্থিত স্থানীয়রা দ্রুত রুগী খাদিজাকে নিয়ে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে ভর্তি করেন। আর মেডিকেলে ভর্তির কিছু ক্ষন পরেই রুগী খাদিজা ছটফট করতে করতে মারা জান। এতে করে মৃত খাদিজাকে তার আত্মীয় স্বজনদের কাছে হস্তান্তর তো দূরের কথা তাদেরকে মৃত খাদিজার লাশ পর্যন্ত দেখতে না দিয়ে চিকিৎসক মোবারক আলী ও হাবিবুর রহমান হাবু কে বাঁচাতে মৃতের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই বুধবার সকালে তাড়াহুড়া করে খাদিজার লাশ দাফন করে ফেলেন পাঁচন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বলেও অভিযোগ করেন খাদিজার আত্মীয় স্বজনরা।

নাম প্রকার্শে অনিচ্ছুক কৃষ্ণপুর বাজারের বেশ কয়েকজন জানান, খাদিজার মৃত্যুর দিন না পুরতে চেয়ারম্যান মতিনের সহচর হাবিবুর রহমান হাবু মৃত খাদিজার বাড়ী দখল করতে খাদিজার মৃত্যুর পরের দিন এক ব্যাক্তিকে এনে খাদিজার বাড়ীতে তুলে দেন হাবিবুর রহমান হাবু। যার ফলে খাদিজার মৃত্যু নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে উঠেছে রহস্যের জাল।

এতে করে পুলিশ প্রশাসনের কাছে খাদিজার আত্মীয় স্বজন ও এলাকাবাসীর দাবি মৃত খাদিজার লাশ কবর থেকে উত্তলন করে ময়নাতদন্ত করে ভূয়া ডাক্তার মোবারক আলী ও বখাটে হাবিবুর রহমান হাবু সহ চেয়ারম্যান আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করার জন্য সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

এবিষয়ে পাঁচন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, খাদিজার সাভাবিক মৃত্যু হওয়ায় ও কোন অভিযোগ না থাকায় তার লাশ দাফন করা হয়েছে। তবে যদি খাদিজার আত্মীয় স্বজনরা অভিযোগ করেন তাহলে থানা পুলিশকে অভিযোগ দিয়ে কবর থেকে লাশ উত্তলন করে ময়নাতদন্ত করা হবে বলে তিনি জানান।

তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি রাকিবুল হাসান রাকিব বলেন, এবিষয়ে কেউ কোন অভিযোগ করেনি যদি এরকম হয়ে থাকে তাহলে মৃত খাদিজার আত্মীয় স্বজনরা অভিযোগ করলে কবর থেকে লাশ উত্তলন করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মর্গে পাঠানো হবে ও ঘটনাটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।