• আজঃ রবিবার, ১২ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

চাঁদপুর জেলা লকডাউন ঘোষণা হলেও মানছেন না কেউ

পুরো জেলাকে লকডাউন করা হলেও মানতে চাচ্ছে না সাধারণ জনগণ। দিনের বেলায় রাস্তায় মানুষের সমাগম চোখে পড়ে, মনে হয় না জেলায় লকডাউন চলছে।

চাঁদপুরে কেউ মানছেন না লকডাউন। দিনে জমজমাট আর রাতে পাড়া-মহল্লায় চলছে আড্ডা। বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। এ পর্যন্ত চাঁদপুরে একজন চিকিৎসকসহ ৫ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

আর করোনার উপর্সগ নিয়ে চাঁদপুরে মৃত্যু হয়েছে ২ জনের। ক্রমেই করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে জেলাবাসী।

করোনা উপর্সগ নিয়ে এ পযর্ন্ত চাঁদপুরে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। হোম কোয়ারেন্টাইনে আছে এক হাজার ৭৯ জন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন থেকে গত ৯ এপ্রিল চাঁদপুর জেলা লোকডাউন ঘোষণা করে। মূলত এরপর থেকেই ব্যস্ততম চাঁদপুর শহরের চিরচেনা রূপ ক্রমশ বদলাতে থাকে। সন্ধ্যা না নামতেই ভুতুড়ে শহরে পরিণত হয় চাঁদপুর।

শহরের প্রধান ব্যস্ততম এলাকা শপথ চত্বর, বাসস্টেশন, রেলস্টেশন, লঞ্চঘাট, কালীবাড়ী মোড়, পালবাজার মোড়, ছায়াবানি মোড়, জোড়পুকুর, নতুনবাজার, বিপনীবাগ, ষোলঘর, যেখানে সব সময় টইটম্বুর থাকতো অটোরিক্সা, সিএনজি, রিক্সাসহ বিভিন্ন যানবাহন এখন সেখানে কেবলই সুনশান নিরবতা।

এদিকে চাঁদপুরে লকডাউনের এক থেকে দুদিন না যেতেই শহরের মার্কেট কিংবা বিপণিবিতানগুলো বন্ধ থাকলেও অন্যান্য সকল দোকানপাট হাট-বাজার খুলতে শুরু করেছে। ফলে আগের মতো জৌলুশ না থাকলেও বেলা গড়াবার সাথে সাথেই জমজমাট হয়ে উঠে শহর। প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে মানুষ অবাধে রাস্তায় বিচরণ করছে।

প্রশাসনের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুগুলি দেখিয়ে প্রয়োজন থাকুক বা না থাকুক, মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে রাস্তায়। চলছে রিক্সা, অটো, সিএনজি, ছোট ছোট মাইক্রো ও মিনি ট্রাক। এদেরকে আটকিয়ে রাখা যাচ্ছে না।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা, পুলিশের জনসচেতনতায় মাইকিং কিংবা সেনাবাহিনীর টহলও দমাতে পারছে না তাদের। দলবেধে মানুষ বাজার করছে, কেনাকাটা করছে, রাস্তায় চলাফেরা করছে।

২টার পর দোকান-পাট বন্ধ হওয়ার কথা থাকলেও বন্ধ হচ্ছে না। তবে সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই শহরজুড়ে নেমে আসে ভুতুড়ে অন্ধকার, সুনশান নীরবতা।

সব কিছু বন্ধ থাকলেও পাড়ায় পাড়ায় মহল্লায়-মহল্লায় চলে জম্পেস আড্ডা। মনে হচ্ছে সবচেয়ে নিরাপদ আড্ডা দেয়ার সময়ই এই লকডাউনের সময়।

চাঁদপুরে করোনা আক্রান্ত চারজন ও মৃত একজনসহ সবাই নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা। পরিসংখ্যানটা এখানেই শেষ নয়। গেল এক মাসে বাংলাদেশের করোনা রোগের ডেঞ্জার জেলা হিসেবে খ্যাত ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে ক্রমান্বয়ে চাঁদপুরে লোক আসতে আসতে দু’হাজার ছাড়িয়েছে।

এসব লোক লকডাউন অবস্থায় অবৈধভাবে চোরাই পথে চাঁদপুরে প্রবেশ করেছে। কোনোভাবেই এদেরকে ঠেকানো যাচ্ছে না। মনে হচ্ছে, প্রশাসন যতোই কঠোর হচ্ছে লকডাউনও ততো দুর্বল হচ্ছে।