• আজঃ সোমবার, ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

আবদুল মাজেদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনি ও মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে।

শনিবার মধ্যরাত ১২টা ০১ মিনিটে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়। কারা অধিদফতরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম মোস্তফা কামাল পাশা সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ফাঁসি কার্যকরের সময় কারাগারের বাইরে ৩টি অ্যাম্বুলেন্স রাখা হয়।

এর আগে বিকেলে ফাঁসি কার্যকরের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। ফাঁসির মঞ্চে ইট-বালির বস্তা ঝুলিয়ে মহড়া সম্পন্ন করেন জল্লাদরা।

গত বুধবার কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেন মাজেদ। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বৃহস্পতিবার তার আবেদন নাকচ করে দেন। ওই দিনই তার মৃত্যু পরোয়ানার ফাইল রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এই ফাইল কারা কর্তৃপক্ষের কাছেও পাঠানো হয়েছে। এরপর কারাবিধি ও সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবদুল মাজেদ ২৩ বছর ধরে কলকাতায় আত্মগোপনে ছিলেন। সম্প্রতি তিনি গোপনে ঢাকায় আসেন। সোমবার রাত ৩টার দিকে রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর আরও কয়েক খুনির সঙ্গে আবদুল মাজেদ প্রথমে লিবিয়ায় চলে যান। পরে জিয়াউর রহমান তাকে সেনেগাল দূতাবাসে চাকরি দেন। ১৯৮০ সালে দেশে ফিরে আসার পর তিনি বিআইডব্লিউটিসিতে যোগ দেন।

সে সময় তিনি উপসচিব পদমর্যাদায় চাকরি করেন। পরে যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ে পরিচালক পদে যোগ দেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর মাজেদ আত্মগোপনে চলে যান। তার স্ত্রী ঢাকা সেনানিবাস এলাকায় বাস করছেন। তাদের চার মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।

অনেক বাধা পেরিয়ে ২০০৯ সালের নভেম্বরে সর্বোচ্চ আদালত থেকে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জড়িত ১১ জনের ফাঁসির রায় আসে। তাদের মধ্যে পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ড ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি কার্যকর করা হয়। তবে পলাতক থাকেন মাজেদসহ ছয়জন।