• আজঃ শনিবার, ১১ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

করোনা আক্রান্তের সংখ্যা আগামীতে কম না অধিক হবে ? থেকেই যাচ্ছে রহস্য

ভারতে এই ভাইরাসের আক্রান্তের সংখ্যা উর্ধ্বমুখী। সেখানে এখন পর্যন্ত ৩০৮২ জন আক্রান্ত হয়েছে। বাংলাদেশেও আজ সর্বোচ্চ ৯ জন আক্রান্ত হয়েছে। এখানেও উর্ধ্বমুখী ধারা বিদ্যমান রয়েছে।

ইতোমধ্যে আমাদের অনেক গার্মেন্টস বন্ধ না করায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গার্মেন্টস কর্মীরা জীবনের মায়া ত্যাগ করে সামাজিক দূরত্ব না মেনে ( অবশ্য উপায় নাই) কাঁধে-কাঁধ মিলিয়ে কর্মস্থলের উদ্দ্যোশে রওয়ানা দিয়েছে। মনে হয়, এবার গার্মেন্টস মালিকরা গার্মেন্টস কর্মীদের দ্বারা করোনা ছড়িয়ে তারপর থামবে।

সম্প্রতি ভারতের মধ্যপ্রদেশে সুরেশ নামক এক ব্যক্তি মধ্য প্রাচ্য থেকে ভারতে এসে তাঁর বাসস্থানে মৃত মায়ের স্মরন সভায় ১৫০০ ব্যক্তির জন্য ভোজের ব্যবস্থা করে। ভোজ শেষের পর ঐ সুরেশ জানতে পারে তিনি কোভিড-১৯ দ্বারা আক্রান্ত।

এরপর কয়েকজন ভোজন ব্যক্তিও এই মরনঘাতী ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। নিজামুদ্দীন মসজিদে অনুষ্ঠিত তাবলীগ থেকে প্রায় ৯০০০ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। পুরো ভারতে বিশেষে তাবলীগ নিয়ে বিভিন্ন উস্কানীমূলক বক্তব্য চালু হয়েছে।

কুয়েত সরকার অবৈধ অভিবাসীদের ক্ষমা ঘোষনা করে অবৈধ অভিবাসীদের শাস্তি ব্যতীত কুয়েত ছাড়ার ব্যবস্থা গ্রহন করেছে।কুয়েতে অবৈধ বাংলাদেশীদের আগামী ১৬-২০ এপ্রিল তাঁদেরকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে বলে জানা যায়।

সৌদি আরব আর পাকিস্তানে জু’মার দিন কারফিউ ঘোষনা করে জু’মার নামায বন্ধ করেছে। বাংলাদেশে বায়তুল মোকারমে জু’মার সময় মুসল্লীদের উপস্থিতি কম হলেও বিভিন্ন মসজিদে তা আবার মসজিদ উপচিয়ে রাস্তা পর্যন্ত মুসল্লীদের দেখা যায়।

আবার ত্রান বা দানের সময় সামাজিক দূরত্ব বিবেচনা না নিয়ে ফটোসেশনের জন্য যে পরিমান ভীড় দেখা যায়, তাতে করোনার ভাইরাস প্রতিরোধের আসল কার্যক্রমেই ভেস্তে যাবার উপক্রম হয়।

রাস্তায় অগনিত মানুষের উপস্থিতি। গনপরিবহন বন্ধ থাকলেও গার্মেন্টস বন্ধ না হবার দরুন বিভিন্ন স্থানে মানুষের ঢল, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে নিত্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম ছাড়া বাইরে বের হওয়া নিষেধ থাকলে যেখানে সেখানে মানুষের উপস্থিতি, ধর্মীয় উপাসনালয় উপস্থিতি কম হবার কথা থাকলেও সেখানেও ভীড়।

উপজেলায় প্রশাসন, স্বাস্হ্য ও পুলিশ ছাড়া অন্যদের যেন ছুটি উৎসব। কেউ কোন কথা শুনছেন না!!!

এ জন্য দরকার সত্যিকারের লক ডাউন।

একদিন করোনা ভাইরাস চলে যাবে। মানুষ সেদিন বিশ্লেষণ করবে কিভাবে এবং কেন করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছিল???

প্রবাদ আছে-চোর গেলে বুদ্ধি বাড়ে!!!! আমাদের দেশে যেন এ রকম পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়!!!!

যারা জীবন বাজী দেশ ও দেশের মানুষের জন্য সত্যিকার অর্থে কাজ করে যাচ্ছেন, তাঁদেরকে অভিবাদন দিয়ে করোনা মুক্ত হবার জন্য যে সকল নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন; সে বিধানগুলো যথাযথভাবে মেনে চলি। তাহলে, ইনশাল্লাহ আল্লাহর রহমতে আমরা করোনা থেকে মুক্ত হবো।

কে না বাঁচতে চায়!!!
এই মুহূর্তে বাঁচার জন্য দরকার!!!

Please Stay safe
Social distancing

আমিনুর রহমান
সিনিয়র সহকারী সচিব
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়