• আজঃ সোমবার, ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

সোনাইমুড়ীতে গৃহবধুকে হত্যার ঘটনায় দেবরকে গণপিটুনি, অত:পর মৃত্যু

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার পৌর এলাকার পাপুয়া গ্রামে গায়ের রং কালো হওয়ায় গৃহবধু সেলিনা আক্তারকে পাষন্ড স্বামী, ননদ ও ননদের জামাই পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় সালা উদ্দিন নামে দেবরকে ক্ষব্ধ হয়ে গণপিটুনি দেয় গৃহবধুর পিতার বাড়ীর লোকজন। গুরতর আহত অবস্থায় দেবরকে সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার পৌর এলাকার পাপুয়া গ্রামের আলী মিয়ার বাড়ীতে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিগত ১২ বছর পূর্বে উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের মৃত ইউনুস মিয়ার মেয়ে সেলিনা আক্তারের সাথে পাশ্ববর্তী পৌর এলাকার পাপুয়া গ্রামের আলী মিয়ার ছেলে আলমগীর হোসেনের সাথে বিয়ে হয়। বিয়েরপর তাদের দাম্পত্য
জীবনে ১ মেয়ে ও ২ ছেলে জন্ম গ্রহণ করে। এরই মধ্যে স্বামীকে গৃহবধুর সহদররা কুয়েত নিয়ে যায়।

সেখানে দীর্ঘদিন চাকুরী করার পর তার সংসারের অভাব-অনটন দুর হয়ে অর্থনৈতিক পরিবর্তন দেখা দেয়। সময়ের সাথে তার মানুষিক পরিবর্তনও দেখা দেয়। স্ত্রীর গায়ের রং কালো হওয়ায় সে বিভিন্ন অযুহাত দেখিয়ে শারিরীক ও মানষিক নির্যাতন করত। ননদ নাছিমা আক্তার ও তার স্বামী আবুল কালাম এ বাড়ীতেই বসবাস করতেন। তার স্বামী, ননদ নাছিমা আক্তার ও ননদের জামাই আবুল কালামের প্ররোচনায় তাকে বিভিন্ন সময় মারধর করতো।

বিগত ৬ মার্চ তার স্বামী আলমগীর হোসেন প্রবাস থেকে এসে গৃহবধু সেলিনা আক্তারকে নিয়ে ঘর-সংসার করবেনা বলে জানিয়ে দেয়। এ নিয়ে তার পিতার বাড়ীর লোকজন ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ এসে শালিশ করে বিষয়টি মিমাংশা করে। এর কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ারপর স্বামী, ননদ ও ননদের জামাই একত্রিত হয়ে তাকে বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দেয়ার জন্য মারধর করে।

এরপরও সে সন্তানদের দিকে তাকিয়ে স্বামীর সংসার ত্যাগ করেনি। মঙ্গলবার সকাল থেকেই এ নিয়ে স্বামী, ননদ ও ননদের জামাই তাকে অকথ্য ভাষায় গাল-মন্দ করে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে। ঘটনাস্থলেই গৃহবধু মারা যায়। খবরটি তাৎক্ষণিক তার পিতার বাড়ীতে গেলে সেখান থেকে ক্ষব্ধ হয়ে লোকজন এসে দেবর সালা উদ্দিন (৩২)-কে গণপিটুনি দেয়।

মঙ্গলবার দুপুরে তাকে গুরুত আহত অবস্থায় সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে রাত ৩ টায় কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় গৃহবধু সেলিনা আক্তারের মা পেয়ারা বেগম বাদী হয়ে সোনাইমুড়ী থানায় স্বামী আলমগীর হোসেন, ননদ নাছিমা আক্তার ও ননদের স্বামী আবুল কালামকে বিবাদী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মঙ্গলবার গভীর রাতে দেবর সালা উদ্দিনকে গণপিটুনি দেয়ার অভিযোগে গৃহবধুর চাচা মো: হানিফ (৫৫), চাচাতো ভাই সুজন (২২) ও হৃদয় (১৮)-কে থানা পুলিশ আটক করে। দেবর সালা উদ্দিনকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার ঘটনায় তার বোন নাছিমা আক্তার বাদী হয়ে গৃহবধুর পিতার লোকজন সুজন, মো: হানিফ ও হৃদয়কে এজহার নামীয় এবং অজ্ঞাত নামা ১৫/২০ জনকে বিবাদী করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুস সামাদ জানান, মঙ্গলবার বিকেলে গৃহবধুর লাশ ও বুধবার সকালে দেবরের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নোয়াখালী সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। দেবর সালা উদ্দিনের সুরুত হাল প্রতিবেদনে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ণ রয়েছে। গৃহবধু ও দেবরের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় দুটি মামলা হয়েছে।