• আজঃ বুধবার, ৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

হিলি স্থলবন্দরে পচা পেঁয়াজের দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে

রপ্তানি জটিলতার কারণে সীমান্তে লোড অবস্থায় থাকা পেঁয়াজ হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি করা হলেও অধিকাংশ পেঁয়াজই পচে নষ্ট হয়ে গেছে। আর পচা পেঁয়াজ রাখা হয়েছে হিলির বিভিন্ন আড়তের সামনে। এতে দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ পথচারী ও এলাকাবাসী।

শনিবার বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। গত পাঁচদিন ধরে বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় এসব পেঁয়াজবোঝাই ভারতীয় ট্রাক সীমান্তে আটকে পড়ে। অতিরিক্ত গরমে পেঁয়াজ পচে নষ্ট হওয়ায় হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকেরা বিপাকে পড়েছেন।

এদিকে, বন্দরের মোকামে একটু ভালো মানের পেঁয়াজ পাইকারি ৫০-৫৫ টাকায় বিক্রি হলেও আড়াই হাজার টাকা দামের পিয়াজের বস্তা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ১শ টাকা দরে। এরপরেও কিনছেন না অনেকে। কেউ কেউ ফেলে দিচ্ছেন বস্তাসহ পিয়াজ। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

আড়ৎগুলোতে দেখা যায়, শনিবার ভারত থেকে আমদানিকৃত পিয়াজগুলোর বেশির ভাগ গরমে পচে গিয়ে পানি ঝরছে। দুর্গন্ধ ছড়ানোয় রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে সমস্যা হচ্ছে পথচারীদের। অন্যদিকে লোড-আনলোড এর কাজ করতেও অনিহা প্রকাশ করতে দেখা গেছে শ্রমিকদের।

এদিকে, পিয়াজ আসার পর হিলি স্থলবন্দরের খুচরা ও পাইকারী বাজারে কমলেও দিনাজপুরের বাজারে এলসি পিয়াজ প্রতি কেজি ৭০-৮০ টাকা এবং দেশী পিয়াজ ৯০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

কষ্টের সাথে কয়েকজন আমদানিকারক বলেন, ‘চাইলাম পিয়াজ দিলো পানি।’

গত ১৪ সেপ্টেম্বর ভারত সরকার অভ্যন্তরীণ বাজারে সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে সন্ধ্যায়। এর ফলে হিলি সীমান্তে ২৫০-৩০০ পেঁয়াজবোঝাই ভারতীয় ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় আটকা পড়ে। ভারত রপ্তানি বন্ধ করার পর বাংলাদেশে দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। তবে ৫ দিন পিয়াজ আমদানি বন্ধ থাকার পর শনিবার ভারত সরকার টেন্ডার হওয়া ১১টি ট্রাকে মোট ২৪৬ মেট্রিকটন পিয়াজ রপ্তানির অনুমতি দেন এবং তা হিলি স্থলবন্দর দিয়ে প্রবেশ করে। তবে যে সব পিয়াজ হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি হয়েছে তার ৫০ শতাংশ পিয়াজ অতিরিক্ত গরমে পচে গেছে।

হিলি স্থলবন্দরের আমদানি রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশিদ হারুন জানান, আমদানি করা পিয়াজে আমদানিকারকরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। শনিবার পিয়াজ আসা ১১ ট্রাকের মালামালে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা ক্ষতি হবে আমদানীকারকদের। ভারত সরকারের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আর পিয়াজের ট্রাক আসবে না বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, এখনও অনেক পিয়াজ বোঝাই ট্রাক ভারতের অভ্যন্তরে বিভিন্ন রাস্তায় অবস্থান করছে। সেই সব পিয়াজ নিয়ে আমদানিকারকরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।