• আজঃ বৃহস্পতিবার, ৭ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২২শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

রাজশাহীর তানোরে পাকা রাস্তায় পড়ে থাকা খড় ভিজে যেন মরণ ফাঁদ

সারোয়ার হোসেন রাজশাহী প্রতিনিধি:


রাজশাহীর তানোর উপজেলার মুল রাস্তাসহ গ্রামীণ পাকা রাস্তায় ধান মাড়ায়ের পর খড় ফেলে রাখার কারনে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। আলুর জমির ধান কাটার সময় টানা বৃষ্টির কারনে কৃষকরা পাকা রাস্তায় ভুত মেশিনে ধান মাড়ায় করেন বাধ্য হয়ে । কিন্তু ধান মারায়ের পর রাস্তায় ফেলে রাখা হয় খড়। বৃষ্টির পানিতে খড় ভিজে রাস্তাগুলো মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। এতে করে প্রতি নিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা। ফলে খড়গুলো দ্রুত রাস্তা থেকে অপসারণের জন্য কর্তৃপক্ষের সু দৃষ্টি কামনা করেছেন যানবাহন চলাচল কারীরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা জুড়ে আলুর জমির ধান কাটার সময় হয় ব্যাপক বৃষ্টি। বাধ্য হয়ে কৃষকরা কোন রকমে বৃষ্টির মধ্যে ধান কেটে বাড়ির আঙ্গিনায় আনতে না পেরে মুল রাস্তাসহ গ্রামীণ পাকা রাস্তায় ভুত মেশিনে ধান মাড়ায় করেন। ধান মাড়ায় করে ভিজে খড় রাস্তায় ফেলে রাখেন। যার ফলে টানা বৃষ্টির কারনে খড় গুলো ব্যাপক ভাবে ভিজে রাস্তা পড়ে থাকার কারনে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়ে পড়েছে।

বিশেষ করে চাপড়া থেকে চৌবাড়িয়া রাস্তায় ব্যাপকহারে রাস্তায় পড়ে রয়েছে ভিজে পচা খড়। যার কারনে প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা। সব চেয়ে ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হয়ে আছে মাদারিপুর থেকে চৌবাড়িয়া মিশুক স্ট্যান্ড পর্যন্ত। চৌবাড়িয়া ইট ভাটার মালিক জলিল ওরফে টোকেন জানান ভিজে খড়ের জন্য রাস্তার অবস্থা এত টাই ঝুঁকিপূর্ণ যা বলাই যাবেনা। রাস্তাটি দিয়ে গাড়ি নিয়ে যেতেই প্রচুর ভয় লাগে। কারন গাড়ির ব্রেক ধরলেই দুর্ঘটনার স্বীকার হতে হবে।

হাতিনান্দা গ্রামের বাসিন্দা মাষ্টার সুলতান জানান হাতিনান্দা মোড় থেকে চৌবাড়িয়া পর্যন্ত রাস্তাটি এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়ে পড়ে রয়েছে। রাস্তার দুধারে ভিজে পচা খড় আর প্রায় সময় হচ্ছে বৃষ্টি এতে করে চরম ঝুকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। ভিজে পচা খড়গুলো রাস্তা থেকে না সরালে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। পারিশো দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা রিগান জানান রাস্তাটি দিয়ে যেতেই ভয় লাগে। অনেক কৃষক ধান মাড়ায় করে খড় রাস্তার নিচে ফেলেছেন, আবার অনেকে সেই খড় রাস্তায় রেখে দিয়েছেন।

অবশ্য পাকা রাস্তার জন্য কৃষকদের ধান মাড়ায় করতে সুবিধা হয়েছে। পাকা রাস্তা না থাকলে ধান মাড়ায়ে বিপাকের শেষ ছিল না। মাদারিপুর গ্রামের খলিল জানান আসলে রাস্তার ব্যাপারে কি বলব যারা রাস্তায় ধান মাড়ায় করেছেন তাদের উচিত ছিল খড়গুলো রাস্তা থেকে অপসারণ করা। তা না করে হাজারো পথচারীদের বিপদে ফেলেছেন ।

এদিকে তানোর টু মুণ্ডুমালা রাস্তার একই দশা। বিশেষ করে দেবিপুর মোড় থেকে পাচন্দর কাউন্সিল মোড় পর্যন্ত ভিজে পচা খড়ে বিপদজনক রাস্তা হয়ে পড়েছে। যোগিশো মোড় থেকে পাঠাকাটা মোড় পর্যন্ত ভয়াবহ অবস্থা হয়ে আছে। কৃষক দেলোয়ার জানান পাঠাকাঠা মোড়ের পশ্চিমে আলুর জমির ধান রাস্তায় মাড়ায় করে রাস্তার নিচে এবং জমিতে সব খড় ফেলে দিয়েছি। পাকা রাস্তা না থাকলে কৃষকদের ধান মাড়ায় করতে চরম বেগ পেতে হত।

কিন্তু রাস্তায় ধান মারায় করার পর ভিজে খড় রাস্তা থেকে সরিয়ে ফেললে এত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা থাকত না। তিনি রাস্তা থেকে ভিজে পচা খড় সরিয়ে ফেলতে কর্তৃপক্ষের সু দৃষ্টি কামনা করেছেন। নচেৎ প্রান হানির মত দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ছোট বড় যানবাহন চালকদেরও একই দাবি যে ভাবেই হোক রাস্তার ভিজে পচা খড় দ্রুত অপসারণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

এসব বিষয়ে জানতে উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুনের ব্যাক্তিগত মোবাইলে ফোন দেয়া হলে রিসিভ না করায় এসংক্রান্ত কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি তাঁর।