• আজঃ রবিবার, ১৭ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১লা নভেম্বর, ২০২০ ইং

ফেনীতে পর্যটন বিকাশে বিশাল পরিকল্পনা

ফেনীতে স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় পর্যটনকে সম্পৃক্তকরণ ও পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অনলাইন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের আয়োজনে মঙ্গলবার অনলাইন মিটিং অ্যাপ জুমের মাধ্যমে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো: মাহবুব আলী এমপি।

জেলা প্রশাসক মো: ওয়াহিদুজজামানের সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: জাবেদ আহমেদ। বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার খোন্দকার নূরুন্নবী, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুর রহমান বি.কম, ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল, দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রবিউল হোসেন।

প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ড. মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম, ফেনী সরকারি কলেজের সহকারি অধ্যাপক মো: মোশতাক হোসেন, ফেনী জেলা হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আফসার কবির শাহজাদা।

সভায় জেলা প্রশাসক মো: ওয়াহিদুজজামান পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উপযোগী ফেনী জেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ও স্থাপত্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ফেনী শহরের বিজয়সিংহ দিঘী, রাজাঝির দীঘি, শমসের গাজী দীঘি, পাগলা মিয়ার মাজার, সোনাগাজীর মুহুরী প্রজেক্ট, মেষপালন, ধান গবেষনা কেন্দ্র, ফুলগাজীর ঢোল মন্দির, পরশুরামের বিলোনীয়া স্থল বন্দর,

রাবার বাগান, ছাগলনাইয়ার সাতমঠ, শিলুয়া পাথর, শমসেরগাজী সুরঙ্গ, দাগনভূঞার ভাষা শহীদ সালাম স্মৃতি জাদুঘর, প্রতাফপুর জমিদার বাড়ি, ফেনী নদীর ইতিহাস তুলে ধরা হয়। এছাড়া এ তালিকায় শহীদ বুদ্ধিজীবি শহীদুল্লাহ কায়সার, শহীদ জহির রায়হান, নাট্যাচার্য ড. সেলিম আল দীন, কবি সামছুন্নাহার, হাবিব উল্লাহ বাহার চৌধুরীর বাড়ি সংরক্ষণের বিষয়টিও আলোচনা হয়।

জেলা প্রশাসক মো: ওয়াহিদুজজামান জানান, রাজধানী ঢাকা আর বন্দরনগরী চট্টগ্রামের মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে ফেনী। তাই এ জেলার দর্শনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোকে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়ে পর্যটন কেন্দ্র ঘোষণা হলে এখানে ভ্রমণপিয়াসুরা অবস্থান করতে পারবেন। এখানে অবস্থান করে এই জেলা সম্পর্কেও জানতে পারবেন। শুধু তাই নয়, এখান থেকে চট্টগ্রামের মিরসরাই, সীতাকুন্ড এমনকি নোয়াখালীর হাতিয়া ও লক্ষ্মীপুর জেলা যাতায়াতের সুযোগ রয়েছে।

এজন্য কর্মশালায় ফেনীর উল্লেখিত স্পটগুলোতে যাতায়াত, শৌাচাগার, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অবকাঠাােগত উন্নয়নের আলোচনা হয়েছে।বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেছেন, অনলাইন কর্মশালা স্থানীয় পর্যায়ের পর্যটন অংশীদারদের সঙ্গে পর্যটন উন্নয়নে করণীয় বিষয়ে মতবিনিময় ও কর্মপরিকল্পনা শেয়ার করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশের পর্যটক আকর্ষণীয় স্থানের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, নতুন পর্যটন আকর্ষণীয় স্থান চিহ্নিতকরণ, সংরক্ষণ ও উন্নয়ন, পর্যটন খাতে স্থানীয় পর্যায়ের বেসরকারি বিনিয়োগ উদ্বুদ্ধকরণ, স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রমে পর্যটনকে অন্তর্ভুক্তিকরণ, কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে পর্যটন শিল্প পুন:উদ্ধারের কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিতকরণ, হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, সাফারি পার্ক, অ্যামিউজমেন্ট পার্ক, পর্যটন কেন্দ্র ইত্যাদি পরিচালনার জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও পর্যটনকর্মীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।