• আজঃ বুধবার, ১৩ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৮শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

নড়াইলে ইবতেদায়ী মাদরাসার বেতন-ভাতা চালুর দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান

ফরহাদ খান, নড়াইল:


নড়াইলে দারুল আরকাম ইবতেদায়ী মাদরাসার বেতন-ভাতা চালুর দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এ স্মারকলিপি দেয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দারুল আরকাম শিক্ষক কল্যাণ সমিতি নড়াইল জেলা শাখার সভাপতি হাফেজ মাওলানা হাবিবুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা মোহাম্মাদ হাফিজ উদ্দিন, হাফেজ মাওলানা আলিমুল ইসলাম, হাফেজ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন, নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রস্তাবিত এবং প্রতিষ্ঠিত ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত দারুল আরকাম ইবতেদায়ী মাদরাসাটি ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর একনেক সভায় মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের (ষষ্ঠ পর্যায়) আওতায় অনুমোদন দেয়া হয়। এ প্রকল্পের মাধ্যমে পার্বত্য, হাওর ও চরাঞ্চল এবং দেশের যেসব এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয় দুর-দুরান্তে বা একেবারে নেই; সেসব এলাকায় মসজিদভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম অন্তর্ভূক্ত করার বিষয়টি ভেবে দেখতে সংশ্লিষ্ট দফতরকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

এ নিদের্শনার আলোকে ২০১৭ সালে ইসলামিক ফাউন্ডেশন দেশের প্রতিটি উপজেলায় এ প্রকল্পের আওতায় ‘দারুল আরকাম’ নামে এক হাজার ১০টি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করে। এরপর ২০১৮ সালে এক হাজার ১০ জন করে কওমি এবং আলেম শিক্ষক নিয়োগদানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম শুরু করে। প্রথমে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান দেয়া হলেও পরবর্তীতে ২০১৯ সালে এসব মাদরাসা পঞ্চম শ্রেণিতে উন্নীতকরণ করা হয়।

ওই বছরের (২০১৯) ৩১ ডিসেম্বর প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে প্রকল্পের কার্যক্রম চালু রাখতে বলা হয়। এরপর চলতি বছরের (২০২০) ১১ মে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পটি পাস হলেও ‘দারুল আরকাম ইবতেদায়ী মাদরাসা’গুলোকে বাদ দেয়া হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে এসব প্রতিষ্ঠানের দুই লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত যেমন অন্ধকারে, তেমনি জমি ও অবকাঠামো পড়ে আছে। অন্যদিকে দুই হাজার ২০জন শিক্ষক ছয়মাস ধরে বেতন-ভাতা না পেয়ে করোনা সংকটে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

এ ব্যাপারে দারুল আরকাম শিক্ষক কল্যাণ সমিতি নড়াইল জেলা শাখার সভাপতি হাফেজ মাওলানা হাবিবুল্লাহ বলেন, দীর্ঘদিন বেতন-ভাতা বন্ধ থাকায় হাজারো আলেম লোকলজ্জায় না পারছেন কোথাও হাত পাততে, না পাচ্ছেন নতুন কোনো চাকুরির সুযোগ। এ পরিস্থিতিতে খুব কষ্টে দিন কাটছে আমাদের।

সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা মোহাম্মাদ হাফিজ উদ্দিন বলেন, আমাদের দাবি আসন্ন কোরবানি ঈদের আগে শিক্ষকদের বকেয়া বেতন-ভাতা প্রদান করা হোক। এছাড়া প্রকল্পটি আবারো পাস করে শিক্ষকদের স্থায়ী জনবল হিসেবে নিয়োগ দেয়াসহ রাজস্বখাতে অন্তর্ভূক্ত করা, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো দারুল আরকাম শিক্ষকদেরও পিটিআই ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা এবং ভবন নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রের ব্যবস্থা করা হোক।