• আজঃ রবিবার, ১০ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৫শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

কক্সবাজার প্রশাসনের উদ্যোগে দালালমুক্ত, খাজনা বিহীন ‘অনলাইনে কুরবানি হাট’

ওসমান আল হুমাম, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ


মহামারী করোনার ভয়াল থাবা থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে আসন্ন ঈদুল আজহা কুরবানিকে ঘিরে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে চালু হয়েছে অনলাইন ক্যাটল মার্কেট, কক্সবাজার নামে এক ডিজিটাল প্ল্যাটফরম।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও স্বাস্থ্যঝুকি এড়াতে হাটে না গিয়ে ঘরে বসেই ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা যাতে কুরবানির পশু ক্রয় করতে পারেন সেটার প্রতি লক্ষ্য করে জেলা প্রশাসন চালু করেছে অনলাইন ক্যাটল মার্কেট। করোনা সংক্রমণের এ সময়ে জেলা প্রশাসনের এমন ব্যতিক্রমী যুগপযুগী উদ্যোগে সচেতন মহল ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ কামাল হোসেন এ বলেন, কুরবানির পশুর চাহিদা পূরণে দেশের অন্যান্য স্থানের ন্যায় কক্সবাজারেও বিভিন্ন স্থানে স্থায়ী-অস্থায়ী হাটে কুরবানির পশু ক্রয় বিক্রয় হয়। এ হাটগুলোতে প্রচুর পরিমাণ জনসমাগম হয়ে থাকে। কিন্তু এ বছর জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে  প্রচলিত কুরবানী উপলক্ষে জনসমাগমপূর্ণ পশুর হাট যথাসম্ভব পরিহার করার জন্য বিশেষজ্ঞগণ পরামর্শ দিয়েছেন।

এ পরামর্শ বিবেচনা করে যারা কুরবানির হাটের ভীড় পরিহার করতে চান তাদের জন্য জেলা প্রশাসন অনলাইনে পশু কেনার সুযোগ করে দিতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি সকলকে অনলাইন মার্কেট থেকে তাদের পছন্দমত কুরবানির পশু কেনারও আহ্বান জানান। তবে ক্রয় বিক্রয়ের ক্ষেত্রে কোন ক্রেতা বিক্রেতা প্রতারণার আশ্রয় নিলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে জানান জেলা প্রশাসন।

ফেইসবুকে জেলা প্রশাসনের অনলাইন ক্যাটল মার্কেটের পেইজে গিয়ে দেখা যায়, গত পহেলা জুলাই হতে চালু হওয়া এই অনলাইন হাটে শতাধিক গরু পাওয়া যাচ্ছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই হাটে কয়েক হাজার কুরবানির পশু পাওয়া যাবে বলে আশা ব্যক্ত করেছেন। জেলার ৮টি উপজেলার পশুগুলো আলাদাভাবে বয়স, প্রাপ্তিস্থান, মালিকের নাম ও যোগাযোগের নম্বর দেওয়া আছে। ক্রেতারা তাদের পছন্দের পশুর মালিকের সাথে সরাসরি দরদাম করে পশু কিনতে পারবেন।

এখানে কোন মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের সম্পৃক্ততা নেই। কয়েকজন মালিকের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা অনলাইন মাধ্যমে গরু ক্রয়ের সুযোগ পেয়ে খুশি। অনলাইন পশুর হাট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে শিক্ষক মো. নাছির উদ্দিন বলেন, কুরবানির হাটে যাওয়া একটা আনন্দের ব্যাপার এটি সত্য কিন্তু এ বছর একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে নিজেকে ও পরিবারের আপনজনের নিরাপত্তার স্বার্থে ভীড় এড়িয়ে ধর্মীয় কর্তব্য পালন করাটাই বাঞ্ছনীয়।

কাজেই জেলা প্রশাসন কর্তৃক চালু করা অনলাইন হাট হতে পছন্দমতো কুরবানির পশু কিনতে পারলে তাই করা উচিৎ।  তবে এক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তির সাথে সম্পৃক্ত নেই এমন গরু ব্যবসায়ীরা কিছুটা আতংকে আছেন বলে জানিয়েছেন কয়েকজন উদ্যোক্তা ব্যবসায়ী।