• আজঃ বুধবার, ১৩ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৮শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

কলেজছাত্র সুজনকে হত্যার দু’দিন আগেই গর্ত খোঁড়া হয়েছিল

নিখোঁজের ৪দিন পর ঝিনাইদহের শৈলকুপায় প্রবাসীর পুত্র কলেজছাত্র সুজনের মরদেহ উদ্ধারের পর মিলছে চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক সবতথ্য ।

খুনীরা ভয়ঙ্কর সব পরিকল্পনামাফিক ঘটিয়েছে এই হত্যাকান্ড । হত্যা করা হবে তাই দুদিন আগেই খোঁড়া হয়েছিল গর্ত, পাকা গাঁথুনী দিয়ে গর্ত ঢেকে দেয়ার পরিকল্পনা ছিল ।

প্রবাসীর পুত্র কলেজ ছাত্র সুজন কে নিখুঁত ও পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার জন্য খুনীরা দু’দিন আগেই মাঠের ধানক্ষেতে নির্জন সেচ পাম্বের ঘরে কোদাল দিয়ে গর্ত খুঁড়ে রেখেছিল । তাদের পরিকল্পনা ছিল মরদেহ গর্তে রেখে চারিদিক থেকে পাকা করে দিবে। তবে পরিবারের জিডির পরপরই আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর অব্যহত তৎপরতায় খুনীদের পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত এগোতে পারেনি। আটক ৩জনের কাছ থেকে পুলিশ জানতে পারে,  সুজন কে বাড়িতে ডেকে নেয়ার পরপরই ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করে খুনীরা । তাদের তথ্যমতে ধানক্ষেতের বোরিং (সেচপাম্প) ঘর থেকে সুজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বের হয় সব চাঞ্চল্যকরসব তথ্য ।

গত ১৯শে সেপ্টেম্বর রবিবার শেষ বিকালের দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে সার কিনতে সুজন নিজ গ্রাম আউশিয়ার সার দোকানীর কাছে যায়। এসময় পাওনা ৮’শ টাকা নেয়ার জন্য পাশ্ববর্তী হাজামপাড়া গ্রামের রাকিব নামের এক যুবক তাকে ফোন দেয়। ফোন পেয়ে রাকিবের ছোট ভাই সাবিকের সাথে শহরের সিনেমা হল রোডে এসে সুজন নিখোঁজ হয়। এরপর সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গেছে, সুজন কে মোটরসাইকেলে রাকিব-সাকিবের বাড়ির দিকে নেয়া হচ্ছে । ফুটেজ ধরে পুলিশ অনুসন্ধানে নামে।

অনুসন্ধান পুলিশ জানতে পারে সুজন কে রাকিব-সাকিবের বাড়ি নেয়া হয়। এরপর রাত ৮টা সাড়ে আটার দিকে বাড়ির পার্শ্বে হাজামপাড়া মাঠের মেহগুনী বাগানে তাকে নিয়ে যায় । এরপর কিছু বুঝে ওঠার আগেই পেছন থেকে সুজনের ঘাড়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দেয় খুনীরা। এক কোপেই কলেজছাত্র সুজন ঢলে পড়ে মাটিতে। তারপর লাথি দিয়ে ফেলে দেয় ডোবার মধ্যে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার ১০/১৫ মিনিট পর সেখান থেকে টেনে তুলে ঘাড়ে করে ধানক্ষেতের ভেতর দিয়ে এগিয়ে যায়। যাওয়ার সময় মাঠে একাধিকবার পড়ে গেলে আবার টেনে তুলে টিনসেড নির্জন বোরিং( সেচপাম্প) ঘর এর ভেতরে নেই । সেখানে আগেই খুঁড়ে রাখা গর্তে সুজন কে ফেলে মাটিচাপা দেয়া হয় । পরিকল্পনা ছিল মরদেহ গুম করে দিবে তাই সেই গর্ত ইট-বালি দিয়ে পাকা করার সিদ্ধান্ত ছিল ।

নিখোঁজের ১দিন পর ২০ সেপ্টম্বর শৈলকুপা থানায় দায়েরকৃত জিডি ধরে পুলিশ রাকিবের ছোটভাই সাকিব, নামমুল ও হৃদয় নামের ৩জন কে আটক করে পুলিশ এসব তথ্য জানতে পায় । আরো জানতে পারে সুজনের মরদেহ সেই ঘরের ভেতরে পাকা ঢালাই করে রাখার পরিকল্পনা ছিল এসব খুনীদের । তবে পুলিশের হাতে আটক হওয়ায় তাদের গুম পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত এগোতে পারেনি। পুলিশের হাতে আটক হওয়া খুনীদের সবার বাড়িই  পৌরসভার হাজামপাড়া গ্রামে। এই কিশোরদের সবাই মাদকাশক্ত এবং নানা অপরাধ কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। এদের কেউ কেউ রাজনৈতিক ছত্রছায়াতে বে-পরোয়া হয়ে উঠেছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে । পৌরসভার হাজামপাড়া, সাতগাছি সহ আশপাশের এলাকার অসংখ্য কিশোর-তরুন মাদকাসক্তে জড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। এরা ঘটাচ্ছে নানা অপরাধমুলক কর্মকান্ড।

তথ্যানুসন্ধানে আরো জানা গেছে, নিহত সুজন এর বাবা মালয়েশিয়া প্রবাসী জিল্লুর রহমানের পাঠানো টাকায় সুদে-কারবারের জাথে জড়িত ছিল রাকিব-সাকিবরা। ধারণা করা হচ্ছে মোটা অংকের টাকা লগ্নী হয়ে যায় রাকিব-সাকিবের কাছে। সেই টাকা আত্মসাতের জন্যই প্রবাসী জিল্লুর রহমানের ছেলে সুজন কে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় এবং তাকে গুমের পরিকল্পনা ছিল ।
পুলিশের হাতে রাকিবের ছোটভাই সাকিব ধরা পড়লেও এখনো খুনীদের অন্যতম রাকিব পলাতক রয়েছে। রাকিব-সাকিব  শৈলকুপার হাজামপাড়া গ্রামের বাবুলের ছেলে ।
নিহত সুজন পৌরসভার আউশিয়া গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী জিল্লুর রহমানের ছেলে । তারা ১ভাই ও বোন। সুজন শৈলকুপা সিটি ডিগ্রী কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিল ।

শৈলকুপা থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম সহ পুলিশের ব্যাপক তৎপরতায় এই চাঞ্চল্যকর খুনের রহস্য উন্মোচিত হওয়ার পথে রয়েছে । সর্বশেষ খবর অনুযায়ী আটককৃতদের আদালতে নেয়া হয়েছে। ১৬৪ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি করা হতে পারে। হয়তো বেরিয়ে আসবে চাঞ্চল্যকর এই হত্যার সকল রহস্য এমনটি আশা করছে পরিবার ও স্থানীয়রা ।