• আজঃ রবিবার, ১০ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৫শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

অর্থাভাবে সন্তান বিক্রি, মনোকষ্টে মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টা

সন্তানের প্রতি মায়ের মমত্ববোধ অকৃত্রিম ও তুলনাহীন।  তবে অভাবের তাড়নায় নিজের সন্তানকে বিক্রি করে দিলেও তার কথা মনে পড়তেই আত্মহননের পথ বেছে নেন হতভাগা মা।

বিষয়টি জানতে পেরে শিশুটিকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শেরপুর সদর উপজেলার ভাতশালা ইউনিয়নের সাপমারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই স্ত্রী থাকার পরও সদর উপজেলার সাপমারী গ্রামের সুলতান বছর দুয়েক আগে গাজীপুরের মাওনা এলাকার সুমা নামে এক নারীকে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসে।

৬ মাস আগে সুলতান-সুমার সংসারে এক ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। ছেলের জন্মের সময় হাসপাতালে খরচ হয় ২২ হাজার টাকা। জন্মের পর তাকে লালন-পালন করতে গিয়ে ধার করতে হয় সুলতানকে।

এজন্য পরে স্ত্রী সুমার কাছে টাকা দাবি করে সুলতান।

এমন পরিস্থিতিতে ধার শোধ করতে ছোট্ট শিশু সন্তানকে বিক্রি করে দেয় ওই দম্পতি। শফিক নামে এক প্রতিবেশীর কাছে ৬ মাসের শিশুটিকে মাত্র ৯১ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

অভাবের তাড়নায় সন্তানকে বিক্রি করে দিলেও মায়ের মন মানে না। বুধবার সকালে সুমা আক্তার তার সন্তানকে দেখার জন্য শফিকের বাসায় যান। শিশুটি বাসায় নেই বলে তাকে তাড়িয়ে দেয় শফিক।

বাড়ি ফিরে ইউরিয়া সার খেয়ে আত্মহননের চেষ্টা করেন সুমা।

স্থানীয় সূত্রে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে অসুস্থ সুমা আক্তারকে উদ্ধার করে শেরপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে সদর থানা পুলিশ। পরে শিশু বিক্রির ঘটনায় বাবা সুলতান মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

সদর থানা পুলিশের একটি দল শিশুটির ক্রেতা শফিকের বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসাধীন মা সুমা আক্তারের কোলে ফিরিয়ে দেন।

এ ব্যাপারে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, খবর পেয়ে শিশু সন্তানটিকে উদ্ধার করে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শিশুটির বাবা সুলতানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে।