• আজঃ শুক্রবার, ১০ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ লিবিয়ার বর্তমান অবস্থা

লিবিয়ার অভ্যন্তরিন পক্ষ বিপক্ষ দল এবং উক্ত দলের পক্ষে বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ভাবে  ইন্ধোন দিচ্ছে দেশ বিশ্বের প্রভাবশালী কিছু দেশ ।  আর তাই লিবিয়া  এসব প্রভাবশালী দেশের লড়াই এর কেন্দ্রবিন্দুতে পরিনত হয়েছে ।

লিবিয়ার রাজনৈতিক  প্রধান দল ২টি । একটি  হচ্ছে খলিফা হাফতার এবং অপর দলটি হচ্ছে জাতিসংঘের সমর্থন কৃত ফয়েজ আল সিরাজ এর সরকার।

খলিফা হাফতার হচ্ছে লিবিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ গাদ্দাফি আমলের এক বিদ্রোহী জেনারেল অর্থাৎ পূর্বে থেকেই যিনি  পশ্চিমা পন্থী।

অপর দিকে ফয়েজ আল সিরাজ জাতিসংঘের সমর্থনকৃত ত্রিপলি সরকার । দুই দলের ই  রয়েছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দেশের সমর্থন । এসব দেশের কেউ কেউ তাদের সমর্থিত দলকে  সরাসরি অস্র  দিয়ে ও সাহায্য করছে ।

ফয়েজ আল সিরাজ সরকারের পক্ষে রয়েছে যেসব দেশের সমর্থন:-

  • তুরস্ক
  • ইতালি
  • কাতার
  • ইরান , সাম্প্রতিক সময়ে আরো  যুক্ত হয়েছে
  • তিউনিসিয়াএবং
  • আলজেরিয়া।

খলিফা হাফতার এর পক্ষে রয়েছে যেসব দেশের সমর্থন:-

  • রাশিয়া
  • ফ্রান্স
  • সৌদিআরবের নেতৃত্বে একটি দল এর মধ্যে রয়েছে
  • সংযুক্ত আরব আমিরাত ও
  • মিশর এছাড়াও রয়েছে
  • বাহারাইন।

উভয় দলের রয়েছে আলাদা আলাদা অঞ্চলের উপর দখল দারিত্ব এবং সরকার ব‍্যাবস্থা!
কিন্তু আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের আইন অনুযায়ী ফয়েজ আল সিরাজ হচ্ছে লিবিয়ার  বৈধ সরকার এবং হাফতার বিদ্রোহী।

আর এক কারনে  আন্তর্জাতিক ভাবে কোন দেশ  সরাসরি সৈন্য দিয়ে  হাফতার এর পক্ষে সৈন্য বা অস্ত্র পাঠাতে পারবে না।

কিন্তু ফয়েজ আল সিরাজ সরকারের পক্ষে আন্তর্জাতিক ভাবে যেকোনো মিত্র শক্তি সৈন্য অস্ত্র পাঠাতে পারবে।
এটা আন্তর্জাতিক আইনের অধিকার রয়েছে যেটা এরি মধ্যে আপনারা দেখেছেন তুরস্ক ঘোষণা দিয়ে ফয়েজ আল সিরাজের পক্ষে সৈন্য এবং অস্ত্র পাঠিয়েছে।এবং ভবিষ্যতে বিমান ও পাঠাবে।

আর যদি ফয়েজ আল সিরাজ সরকার খলিফা হাফতার কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোশনা করে তবে তুরস্ক তাদের উপর সরাসরি বিমান হামলা চালাতে পারবে।

অপর দিকে হাফতার এর পক্ষে তার মিত্র রা অস্ত্র এবং সেনা ট্রেনিং দিলেও ফলাও করে প্রকাশ করতে পারছে না।এবং কোনভাবেই বিমান হামলা করতে পারবে না ফয়েজ সিরাজ সরকারের উপরে।

ফলাফল যা হতে পারে সিরিয়াতে আপনারা হয়ত দেখেছেন।রাশিয়ার সিরিয়া সরকারের পক্ষে বিমান হামলা করলে প্রতিপক্ষ পরাজিত হতে থাকে এখন বলা চলে সিরিয়া সরকারের কবজায় রয়েছে পুর দেশ কিন্তু রাশিয়ার বিমান হামলার পূর্বে বিষয়টি ঠিক উল্টো ছিল।

লিবিয়াতে এমন একটি অবস্থান তৈরী হবে যেখানে একটি শক্তিশালী যুদ্ধের মাধ‍্যমে ফয়েজ সরকার জয়লাভ করবে তুরস্কের সাহায্য নিয়ে।যদিও বর্তমান অবস্থা ঠিক উল্টো কিন্তু বিমান হামলা শুরু করলে পাসার ডাইন একদম উল্টে যাবে যেটা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের থেকে এখন প্রযন্ত হয়ে আসছে।

পরিশেষে আপাতত যেকোনো চুক্তি লিবিয়াতে যে দৃর্ঘমেয়াদী শান্তি আনতে পারবে সেটা নিশ্চিত করা বলা সম্ভব নয়।
আপাতত কোন সল্প সময়ের মধ্যে লিবিয়া পরিস্থিতি সমাধান হবে না ।এজন্য একটি  দীর্স সময়ের দরকার হবে এবং আন্তর্জাতিক ভাবে সুষ্ঠু পরিকল্পনা দরকার হবে কিন্তু বর্তমানে তা কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয় ।