• আজঃ বুধবার, ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

রংপুরের ক্লিনিক গল্প – নাসরিন নাজ

আজ আমি আপনাদের একটি ক্লিনিকে ঘটে যাওয়া এক সত্য ঘটনার কথা বলব। আমার আইডিতে আমার অনেক ভাই ও বন্ধুরা আছেন তাদের অনেকের ক্লিনিক আছে দয়াকরে কেউ নিজের গায়ে মেখে নিবেন না। কারন সকল ক্লিনিকের পরিচালকের মানসিকতা এক না।

লালমনিরহাট জেলার এক ছোট ভাই কবি, দুদিন আগে ফোন করে বললো আপু একটু বিপদে পড়েছি সহযোগিতা করেন। কারো বিপদের কথা শুনলে আমি ঠিক থাকতে পারিনা। তার বড় ভায়ের পেটে পাথর হয়েছে তা অপারেশন করতে হবে। তারা রংপুরে ধাপে এসে কোন এক ক্লিনিকের দালালের খপ্পরে পড়ে গেল। সে লোক ক্লিনিকের পরিচালকের কাছে নিয়ে গেল।

পরিচালক দেখলেন গ্রামের সহজ সরল মানুষ এদেরকে ঠকানো কোন ব্যাপার না। নিজেদের পছন্দমত একজন ডাঃ দেখালেন। ডাঃ বললেন কম্পিউটারের মাধ্যমে ফুটো করে পাথর বের করে দিব পেট কাটতে হবেনা। তারপর পরিচালক টাকা কন্টাক করলেন রুগির লোকের কাছে ২৫ হাজার টাকা।

রুগির লোক এক কথায় রাজি হলেন দিতে অপারেশনে ঢুকানোর আগে ২০ হাজার পেমেন্ট নিলেন। তারপর দিন অপারেশন ওটিতে ঢুকানোর পর রুগিকে শোয়ায়ে অপারেশনের প্রস্তুতি চলছে ১০ মিনিট পর পরিচালক বের হয়ে বলছেন যে মেশিন দিয়ে ফুটো করে পাথর বের করার কথাছিল কিন্তু এখন সমস্যাটা অন্য রকম পেট কেটে বের করতে হবে ভিতরে একটা পাইপ সেট করতে হবে অপারেশন খরচ ও ক্লিনিক খরচ ২৫ হাজার বলেছিলাম তা দিয়ে হবেনা ৪০ হাজারের কাছাকাছি লাগবে।

আপনারা যদি টাকা দিতে রাজি হোন তাহলে অপারেশন করব নতুবা রুগী নিয়ে যান। রুগীর লোককে এমন ভয় খাইয়ে দিলেন রুগীর লোক চিন্তায় পড়ে গেলো। তারা ভাবতে থাকলো এখন যদি রুগীকে যদি বেরকরে দেয় ওটি হতে তাহলে আমরা কি করব? কোথায় নিয়ে যাব সেরকমতো পরিচিতি ও নায়। এটা ভেবে তারা বললো ঠিক আছে করেন আমি টাকা ম্যানেজ করতে কাল ছুটব বাসার দিকে ধার দেনা করে আনব।

অপারেশন হলো পরদিন রুগীর ছোট ভাই টাকা ম্যানেজ করতে গ্রামে গেলো। ৫ হাজার টাকা ম্যানেজ করে আনলো।তারপর আমাকে ফোন দিয়ে বলল আপু একটা অনেক বড় বিপদে পড়েছি প্লিজ একটু সহযোগিতা করেন। আমি শুনার পর আজ তাদের রিলিজ ছিল গেলাম ক্লিনিকে সব শুনে তাকে বকাদিলাম আগে কেন যোগাযোগ করনি।

তারপর সে আমাকে ১০ হাজার টাকা দিয়ে বললো আপু আর কোন টাকা ম্যানেজ করতে পারলাম না। আমি টাকা নিয়ে পরিচালকের রুমে গেলাম পরিচয় দিয়ে কথা বললাম মানবিক দিক দিয়ে সব বুঝিয়ে বললাম নাছরবান্দা কোন কথা সে রাখতে পারবেনা। যখন আমি খুব রেগে গেলাম যে কোন ডাঃ অপারেশন করেছেন তার সাথে আমি দেখা করব কি সমস্যা ছিল আর কেনই বা ২৫ হাজারে কন্টাক করার পর ৩৭ হাজার বিল আসবে।

ফুটোকরে অপারেশনে খরচ বেশি আর পেট কাটলে কম আসে আর আপনি রুগীর লোককে ভয় দেখিয়ে উল্টো কথা বলে খরচ বাড়িয়ে দেখাচ্ছেন। তখন উনি নরমাল হলেন ২৫ হাজার নিলে তার লোস হবে অনেক রিকুয়েস্ট করে ৩০ হাজার নিলেন।মানুষ কতটা পাষান হলে এমন আচরণ করে ভাবতে পারেন। যদি রুগীর লোক কন্টাকের কম দিত তাহলে একটা কথা ছিলো।

হারাম রুজি খাবার অভ্যাসটা তাদের বিশেষ অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। দুর্বল অসহায় মানুষদেরকে ঠকিয়ে কষ্ট দিয়ে বুকে পারাদিয়ে বড়লোক হবার স্বপ্নটা তাদের একমাত্র নেশায় পরিণত হয়েছে। ক্লিনিকটা ভিষণ অপরিছন্ন শুধু ওটির সামনে ও রিসিপশনের জায়গাটা চকচকে। এখন নাম ছাড়া শুধু ইংগিত দিলাম পরবর্তি নিউজে আসবে নাম ঠিকানাসহ।

আমাদের মাননীয় সুযোগ্য জেলা প্রশাসক ও আমাদের রংপুর জেলার অভিভাবক আসিব আহসান স্যারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। স্যার ইতিমধ্যে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে যে সকল ক্লিনিক ও ল্যাবের জরিমানা করেছেন ৫০ হাজার ১ লক্ষ তা বাড়িয়ে সর্বনিম্ন ৫ লক্ষ করে দেন তাহলে দু একজনের বিপদ ও শাস্তি দেখে অন্য অপরাধীরা অপরাধ করতে ভয় পায়। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ক্লিনিকগুলো ভিজিট অব্যাহত থাকুক এ কামনা রইলো।নিজের খেয়াল খুশিমত মানুষদের তারা ঠকাচ্ছে।অসহায় মানুষরা প্রতারিত হচ্ছে।

অনেকে মনে করেন অন্যের ঝামেলা নিজ মাথায় কুড়িয়ে নেয়ার অভ্যাস আমার আছে তাই ছুটে যাই। হা এটা আমার নেশা। নেশাগ্রস্থ ব্যাক্তি যেমন নেশা না করে থাকতে পারেনা, ঠিক তেমনি আমি অসহায় মানুষের বিপদের কথা শুনে নিজেকে আড়াল করে রাখতে পারিনা। আপনার আমার দেয়া ১০ টা মিনিট সময় ও মুখের একটি সুপারিশ একজন বিপদগ্রস্ত অসহায় মানুষের বিরাট উপকার করবে।

এ কথা মেনে নিয়ে সকলে নিজ নিজ জীবনের ২৪ ঘন্টা হতে অল্প কিছু সময় যদি অসহায় মানুষের জন্য ব্যয় করেন তবে সেটা হবে সবচেয়ে বড় ইবাদত। কারন মানুষ অসহায় অবস্থায় সবচেয়ে বেশি অসহায় থাকে।অসুস্থ দুঃখি মানুষের মুখে হাসি ফুটালে আল্লাহ খুশি হয়ে নিজের বান্দার উপর গর্বকরে হাসেন। আর তার পুরস্কার আল্লাহ আপনাকে দিবেন।

অনেকে হয়ত মনে করেন আমার কোন কাজ নেই তাই দিনরাত এগুলো করে বেড়াই। তাদের বলছি আমার পরিবারের রোজগার করার একমাত্র আমিই আছি, রান্না করা ও সংসারের সকল কাজ করার দায়িত্ব আমার সব ঠিক রেখে সাংগঠনিক কাজ করি। অনেকে ইংগিতে বলেও থাকেন সংগঠনের টাকা দিয়ে আমি চলি। তাদের উদ্দেশ্যে বলছি আমার প্রধান পেশা শিক্ষকতা। আমার কিন্ডারগার্টেন স্কুল আছে তা মার্চ হতে বন্ধ ।

এই বন্ধের মধ্যে আমি সকাল থেকে ১১ টা পর্যন্ত ও বিকেল ৪ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত অনলাইনে প্রাইভেট পড়ায়েছি।একটি টাকাও সংগঠন হতে আমাদের আয় হয়না। আমি,ভাই, ভাইজতা,বন্ধু বান্ধব ও কয়েকজন মানবতার সহযোদ্ধার দেয়া কিছু অর্থ একত্র করে মানুষকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করি। বাকিটা সময় সংগঠনের কাজ ও সংসারের কাজ করেছি। রাত এগারোটা হতে সকাল ৫ টা পর্যন্তই শুধু বিছানায় থাকি।

করোনায় যখন লক ডাউন তখন আমি অন্য সংগঠনের চেয়ে সবচেয়ে বেশি মাঠে কাজ করেছি। কাউন্সিলরের চেয়েও বেশি আমার এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহার চাল দরিদ্র অসহায়দের মাঝে পৌছে দিয়েছি আমাদের প্রিয় ও শ্রদ্ধেয় জেলা প্রশাসক আসিব আহসান স্যার ও তাজহাট থানার ওসি রোকনুজ্জামানের সহযোগিতায়।

এগুলো করি কোন লোভে নয়, না কোন মন্ত্রী,মেয়র,কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হওয়ার স্বপ্নে। আমার জীবনে যদি কোনদিন এমন সুযোগ আসে যে আমি মন্ত্রী হবার মত যোগ্যতা পাই তাহলে আমি তা প্রত্যাখ্যান করব। কারন আমি মন্ত্রী হলে আজ যেমন খুব সাধারণ ভাবে সাধারন অসহায়