• আজঃ রবিবার, ১০ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৫শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

সঞ্চয় হচ্ছে বিপদের বন্ধু

এই করোনাকালে এসে আমরা উপলব্ধি করতে পারছি সঞ্চয় প্রতিটি মানুষের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। শুধু মানুষ কেন, ছোটো-বড়ো যে কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্যও সঞ্চয় যে কতটা প্রয়োজনীয় তা এই করোনাকাল না এলে কি আমরা বুঝতে পারতাম! ব্যক্তির সংসার চালানো থেকে শুরু করে ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান প্রত্যেকেই নগদ টাকার অভাবে ভুগছেন। অনেক বড়ো বড়ো ব্যবসা খাত সরকারের কাছে আর্থিক প্রণোদনার জন্য আবেদন করে চলেছে।

সমাজের প্রচলিত প্যাটার্ন হচ্ছে—মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষরা বেশি সঞ্চয় করেন। আর উচ্চবিত্তরা সঞ্চয় করার চাইতে লগ্নি বা বিনিয়োগ করেন। আর নিম্ন আয়ের তো নুন আনতে পানতা ফুরানোর দশা। সঞ্চয় করার ক্ষমতা কম। তারপরও সবাই কমবেশি সঞ্চয় করেন।করোনাকাল এসে আমার বুঝতে পারছি সঞ্চয় কেন এত জরুরি।

যখন অফিসের বেতন অনিয়মিত হয়ে পড়ছে। লকডাউনের কারণে ধুঁকছে প্রতিটি খাত। তখন সঞ্চয়ের টাকাই প্রধান ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে সবার কাছে। তাই সঞ্চয় হচ্ছে বিপদের বন্ধু। তবে আর্থিক স্বচ্ছলতার ভাবনা একেক জনের কাছে একেক রকম। কেউ মনে করে, তিনবেলা খাবার জোটানোই সচ্ছলতা।

কারো কাছে সংসারের যাবতীয় খরচ মিটিয়ে ভালোভাবে জীবনযাপনই সচ্ছলতা। তবে বৈশ্বিকভাবে সচ্ছলতার মানদণ্ড হচ্ছে—আপনি যদি মাসের শেষে চাকরির চেকের ওপরেই কেবল নির্ভরশীল না হন তাহলে আপনাকে সচ্ছল বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে। তারপরেও সঞ্চয় করুন। বাড়ি, গাড়ি কেনার কথা ছেড়েই দিন; এই আজকের মতো অচলাবস্থার জন্যও সঞ্চয় কি খুব জরুরি নয়!

ধরুন এখন আপনার একটা ভালো চাকরি আছে। যা আয় করেন তা দিয়েই মিটে যাচ্ছে সব প্রয়োজন। তখন আপনি ভাবতেই পারেন কী প্রয়োজন সঞ্চয়ের! এমনটা ভাবলে সত্যিই প্রয়োজন নেই সঞ্চয়ের। তবে আপনি যদি আপনার এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে চান। যদি চান, এখন যা করছেন এর চেয়ে ভালো অবস্থানে যেতে, তখন?

কিংবা যদি আপনার এই চাকরিটি এখনই চলে যায়, তখন? কিংবা যিনি ব্যবসায়ী তার ব্যবসা বাড়ানোর প্রযোজন হয় অথবা ব্যবসায় মন্দা চলতে থাকে। তখন কীভাবে পার করবেন সেই বাধা! তাই আপনি যদি আরো সচ্ছল, স্বাচ্ছন্দ্যে, আর্থিকভাবে আরো নিশ্চিন্ত জীবন চান তবে সঞ্চয় আপনার একমাত্র উপায়।- সংগৃহীত