• আজঃ বুধবার, ১৩ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৮শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

গাছের তৈরি জীবন্ত সেতু!!

ফিচার:


উত্তর-পূর্ব ভারত মেঘালয়ের ২০০ বছর পুরনো জীবন্ত সেতু । মেঘালয় রাজ্যের দক্ষিণ অংশে অবস্থিত ছোট্ট একটা জায়গা নোহওয়েট গ্রাম। এখানে গেলেই দেখা মিলবে জীবন্ত শেকড়ের সেতুর। মেঘালয়ের পর্বতময় ভ‍ূ-খণ্ডগুলোতে যোগাযোগ রাখতে স্থানীয় আদিবাসীরা রাবার গাছের শেকড় দিয়েই তৈরি করেছে এই প্রাকৃতিক সেতু। যা দেখতে প্রতিদিন কয়েক হাজার পর্যটক এসে ভিড় করে এখানে। তবে এই প্রাচীন সেতুটি এখন বিপন্ন। তাঁকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন গ্রামবাসী।

ওই গ্রামের আঁকাবাঁকা পথে নিচে নামলে চোখে পড়ে জীবন্ত শেকড়ের এক সেতু। প্রথম দেখায় খুবই রহস্যময় বলে মনে হয়। এক রূপকথার নদীর ওপর দিয়ে যেন গড়ে উঠেছে মায়াবী ওই সেতু। যেটা জীবন্ত, হয়তো মাঝে সাঝে নড়েচড়ে ওঠে!

মেঘালয়ের খাসিয়া আর জৈন্তা আদিবাসীরাই এ জীবন্ত শেকড়ের সেতু নির্মাণে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে এর ইতিহাস সর্ম্পকে অনেক মানুষেই জানেন না। মেঘালয়ে জীবন্ত শেকড়ের সেতু আরও রয়েছে। কোনোটি দুই ধাপের, কোথাও পাশাপাশি দু’টি সেতু আবার শেকড়ের সিঁড়িও রয়েছে।

সেতু তৈরির সংক্ষিপ্ত বিবরণ :

সুপারি গাছের কাণ্ডকে সেতুর কাজে ব্যবহার করেছিলেন গ্রামবাসীরা। কাণ্ডগুলিকে ফাঁপা করে তার মধ্যে ঢোকানো হয় রাবার গাছের শিকড়। ফাঁপা সুপারি কাণ্ডকে অবলম্বন করে শিকড়গুলি বাড়তে থাকে।

নদীর এক প্রান্ত থেকে এগিয়ে শিকড় নদীর অপর পাড়ে পৌঁছয় নিজে থেকেই। ফাঁপা কাণ্ডকে ছাপিয়ে মাটি স্পর্শ করে বাড়তে থাকে। মাটিতে শিকড় গেঁথে গেলে ফাঁপা সুপারি কাণ্ডটি সরিয়ে নেওয়া হয়।

শিকড়ের নতুন শাখা-প্রশাখা দখল করে পুরনো ক্ষয়ে যাওয়া শিকড়ের অংশ। ফলে সেতু হয় আরও মজবুত। গোটা প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ করতে বছর কুড়ি সময় নেয় প্রকৃতি। যাতায়াতের সুবিধার জন্য পাথর ও বোল্ডার ফেলে তা শক্তপোক্ত করে নেন গ্রামবাসীরাই।

এক সঙ্গে ৬০ জন মানুষের ভার বহনে সক্ষম এই সেতু। এই সেতু একবার তৈরি হয়ে গেলে কয়েকশো বছরেও নষ্ট হয় না। বন্যার জলেও নষ্ট হয় না এই সেতু। এই সেতুগুলিকে ঘিরে পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে মেঘালয়ের বিভিন্ন গ্রামগুলিতে।