• আজঃ মঙ্গলবার, ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী

২০১০ সালের আজকের এই দিনে আমাদের ছেড়ে যান এ দেশের একজন কীর্তিমান পরমাণু বিজ্ঞানী ও বিজ্ঞান আন্দোলনের অগ্রনায়ক ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া। নিভৃতচারী, নির্মোহ, নিরহংকার, নির্লোভ অথচ অসামান্য প্রতিভাধর ছিলেন এই বিজ্ঞানী। তাঁর প্রয়াণ ছিল দেশের বিজ্ঞানাঙ্গনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

প্রতিবছর দিবসটি পালনে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগের সব সহযোগি সংগঠন, মহাজোটের শরিক দল এবং ড. এম এ ওয়াজেদ ফাউন্ডেশন বিজ্ঞানীর কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি, ফাতেহা পাঠ ও জিয়ারত, স্মৃতিচারণ, মিলাদ মাহফিল ও গরিবদের মাঝে খাবার বিতরণসহ নানাবিধ কর্মসূচি পালন করে থাকে।

এ বছর করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় সব আনুষ্ঠানিকতা স্থগিত করা হয়েছে। তবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রদ্ধাঞ্জলিসহ ফাতেহা পাঠ ও জিয়ারতে বাধা দেওয়া হবে না বলে জানান প্রয়াত বিজ্ঞানীর ভাতিজা, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও ড.এম এ ওয়াজেদ ফাউন্ডেশন পীরগঞ্জের চেয়ারম্যান এ কে এম ছায়াদত হোসেন বকুল। তিনি জানান, মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিভিন্ন এতিমখানায় ইফতার সামগ্রী প্রদান করা হবে।

ওয়াজেদ মিয়া ১৯৬৩-৬৪ শিক্ষা বছরে লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজ থেকে ‘ডিপ্লোমা অব ইম্পেরিয়াল কলেজ কোর্স’ এবং ১৯৬৭ সালে ইংল্যান্ডের ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭৫ সালে তিনি পশ্চিম জার্মানিতে পরমাণু শক্তি বিজ্ঞানে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬৮ সালে বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

ড. ওয়াজেদ মিয়া ১৯৬৩ সালের ১ এপ্রিল পাকিস্তান পরমাণু শক্তি কমিশনে যোগ দেন। ১৯৬৯ সালে তিনি ইটালিভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৭৫-৮২ সালে তিনি ভারতের আণবিক শক্তি কমিশনের দিল্লির ল্যাবরেটরিতে গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন। দেশে ফিরে তিনি পুনরায় পরমাণু শক্তি কমিশনে যোগ দেন এবং ১৯৯৯ সালে এর চেয়ারম্যান হিসেবে অবসর নেন। তার গবেষণামূলক ও বিজ্ঞান বিষয়ক বহু প্রবন্ধ দেশি-বিদেশী সংবাদপত্র ও সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। তার উল্লেখযোগ্য প্রকাশনা Fundamentals of Electromagnetics (1982), Fundamentals of Thermodynamics (1988), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ঘিরে কিছু ঘটনা ও বাংলাদেশ, বাংলাদেশের  রাজনীতি ও সরকারের চালচিত্র। বিজ্ঞানে অবদানের জন্য বিক্রমপুর স্যার জগদীশচন্দ্র বসু সোসাইটি তাকে ‘স্যার জগদীশচন্দ্র বসু স্বর্ণপদক-৯৭’ দেয়।

মৃত্যুর পর ড. ওয়াজেদ মিয়ার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী পীরগঞ্জ উপজেলার ফতেপুর গ্রামে বাবা-মায়ের কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়।